সকাল ৬:৫০, সোমবার, ২১শে আগস্ট, ২০১৭ ইং
/ ব্যাডমিন্টন / ব্যাডমিন্টন ক্যাম্পে হ-য-ব-র-ল অবস্থা
ব্যাডমিন্টন ক্যাম্পে হ-য-ব-র-ল অবস্থা
ডিসেম্বর ৩, ২০১৬

বিদেশি দলগুলোর মধ্যে সবার আগে ভিয়েতনাম আসছে রোববার। পর্যায়ক্রমে আসবে আরও ১১ অতিথি দেশ-ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, সুইডেন ও সিরিয়া। দেশগুলোর আগমনের উদ্দেশ্য ৬ থেকে ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য ইউনেক্স-সানরাইজ ওপেন ইন্টারন্যাশনাল ব্যাডমিন্টন চ্যালেঞ্জে অংশ নেয়া।

বাংলাদেশসহ ১৩টি দেশ নিয়ে ৫ দিনব্যাপি এ টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হবে পল্টন ময়দান সংলগ্ন শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ উডেন ফ্লোর জিমন্যাসিয়ামে। ১৫ হাজার মার্কিন ডলার প্রাইজমানির এ আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট আয়োজনে ব্যস্ত বাংলাদেশ ব্যাডমিন্টন ফেডারেশনের কর্মকর্তারা।

আয়োজনের প্রস্তুতি ঠিকঠাক চললেও দল হিসেবে বাংলাদেশ কেমন করবে? কিংবা লক্ষ্য কি? তা নিয়ে ভ্রক্ষেপ নেই ফেডারেশনের। জাতীয় দল ঘোষণা ও ক্যাম্প শুরু করেই যেন সব দায়িত্ব শেষ করেছেন কর্মকর্তারা। ক্যাম্প চলছে যাচ্ছেতাই ভাবে। এক কথায় হ-য-ব-র-ল।

জাতীয় দলের ক্যাম্পে ডাকা হয়েছে ১৪জন শাটলারকে। ২৫ নভেম্বর থেকে শুরু হয়েছে ক্যাম্প। প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৮ টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত চলে শাটলারদের অনুশীলন; কিন্তু শনিবার সকাল ১১টায় শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ উডেন ফ্লোর জিমন্যাসিয়ামে দেখা গেল জাতীয় দলের মাত্র ৪ শাটলারকে অনুশীলন করতে।

৩ নারী শাটলার এলিনা সুলতানা, ইরিনা পারভীন রত্না, বৃষ্টি খাতুনের সঙ্গে পুরুষ শাটলার তুষার কৃষ্ণ রায়। তাদের সঙ্গ দিচ্ছেন ব্যক্তিগভাবে অনুশীলন করাদের একজন জাকারিয়া ও ইয়ুথ টিমের এক নারী শাটলার অনামিকা। প্রধান কোচ কাজী হাসিবুল হক শাকিল গর হাজির। সহকারী কোচ জাহিদুল ইসলাম কচি অনুশীলন তদারকি করছেন। পাশেই বসা টিম কমান্ডার নূর মোহাম্মদ, যিনি ব্যাডমিন্টন ফেডারেশনের ট্রেজারার। এই ছিল ব্যাডমিন্টন ক্যাম্পের শনিবারের চিত্র।

মাঝে ২দিন আছে টুর্নামেন্ট শুরু হতে। অথচ এমন সময় জাতীয় দলের ক্যাম্পের বেহাল অবস্থার কারণ অনেকেরই জানা। গত বৃহস্পতিবার ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় কল্যাণ সমিতির কমিটি গঠন নিয়ে দুই পক্ষের হাতাহাতির পর নিরাপত্তা চেয়ে ফেডারেশনকে চিঠি দিয়েছেন ক্যাম্পের ৮ খেলোয়াড়। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়া পর্যন্ত ক্যাম্প বর্জনেরও হুমকি দিয়েছেন তারা। শনিবার অনুশীলনে তাদের অনুপস্থিতিই সে হুমকির প্রতিফলন।

জাতীয় দলের ১৪ জন ছাড়াও টুর্নামেন্টের জন্য ব্যক্তিগতভাবে অনুশীলন করছেন আরও ৮ জন পুরুষ ও ৪ জন নারী শাটলার। তাদের অনুশীলন করা না করা নিয়ে ফেডারেশনের কোনো দায়বদ্ধতা নেই। তবে জাতীয় দলের ১৪ জনের মধ্যে ১০ জনের অনুপস্থিতি ক্যাম্পের বিশৃঙ্খলাই প্রমাণ করে।

Badminton

সহকারী কোচ জাহিদুল ইসলাম কচি অবশ্য অনুশীলন না করায় কোনো সমস্যা দেখছেন না, ‘খেলোয়াড়রা যদি ২/৩ দিন অনুশীলন নাও করে সমস্যা নেই। তবে যে বিশৃঙ্খলা হচ্ছে সেটা ক্ষতিকর। তাদের খেলার মানসিকতা ফিরিয়ে আনতে না পারলে ভালো কিছু সম্ভব নয়।’

ক্যাম্প বর্জনের হুমকি তো দিয়েছেন ৮ জন। তাহলে বাকি দুই জন কোথায়? প্রধান কোচই বা নেই কেন? ক্যাম্প কমান্ডার বলেন, ‘জামিল আহমেদ দুলাল ছুটি নিয়েছেন। আর ইনামুল হক দরখাস্ত দিয়েই চলে গেছেন- অনুমতি নেননি। কোচের কথা বলছেন? তিনি সকালে ছিলেন। এখন একটু কাজে বের হয়েছেন।’

যে কারণেই হোক বেশিরভাগ শাটলার ক্যাম্পে নেই। তাদের ফিরিয়ে আনার জন্য কোচ হিসেবে কি উদ্যোগ নিয়েছেন আপনারা? ‘আমরা দুই কোচ খেলোয়াড়দের বুঝিয়েছি এটা দেশের বিষয়। যে অনাকাঙ্খিত ঘটনা হয়েছে এবং যে খেলোয়াড়দের গায়ে হাত দিয়েছে তার বিচার হবে। তারপরও তারা ক্যাম্পে আসেননি’ -জবাব সহকারী কোচের।

খেলোয়াড়দের গায়ে যে হাত দিয়েছে তাকে কি চিনেছেন? ‘আমি দেখিনি’- একই রকম জবাব সহকারি কোচ আর ক্যাম্প কমান্ডারের। তাহলে ব্যবস্থা নেবেন কিভাবে? ক্যাম্প কমান্ডার বলেন, ‘অনেকের কাছে ঘটনার ভিডিও আছে শুনেছি।’

ব্যাডমিন্টনের ক্যাম্পে এ অবস্থা খেলোয়াড়দের ক্ষমতার দ্বন্দ্বের ফল। এটাকে ভালোভাবে নিচ্ছেন না সাবেক তারকা খেলোয়াড় কামরুন্নাহার ডানা, ‘আমি শুনে অবাক হয়েছি যে, ফেডারেশনের কক্ষে খেলোয়াড় কল্যাণ সমিতির সভা হয়। আজকে যারা ক্যাম্প বর্জন করছেন এক সময় তাদের বড় ভাইয়েরাও ক্যাম্প বর্জন করেছিলেন। শাস্তি পাওয়ার পর আবার আন্দোলনও করেছিলেন। বড়রা যা শিখিয়েছেন, ছোটরা তাই শিখেছেন। জাতীয় দলের ক্যাম্প তো বর্জন করা উচিতই না। এখন ফেডারেশন বুঝুক নিয়ম অনুযায়ী কি করতে হবে। ফেডারেশনের উচিত খেলোয়াড়দের একটা প্লাটফর্মে নিয়ে আসা। আমার মনে হয়, আমরা সংগঠকরা নিজেদের স্বার্থে খেলোয়াড়দের ব্যবহার না করলে এমন বিভক্তি আসতো না। শাটলারদের পারফরম্যান্স ডাউন হতো না এবং নোংরা কাজও হতো না। আমাদের সময় খেলোয়াড়রা একজন আরেকজনরে জন্য প্রাণ দিতে প্রস্তুত থাকতাম। এখন একজন আরেকজনের গায়ে হাত তোলেন। এটাতো অবাক কাণ্ড। আমরা সংগঠকরাই নিজেদের স্বার্থে খেলোয়াড়দের ব্যবহার করে তাদের পারফরম্যান্স খারাপ করছি এবং ক্রীড়াঙ্গনকে কলুষিত করছি।’

জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের ক্যাম্পে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছে ফেডারেশন। ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক গোলাম আজিজ জিলানী বলেছেন, ‘আজ(শনিবার) সন্ধ্যা ৭ টায় খেলোয়াড়দের ডাকা হয়েছে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য। এটা জাতীয় ইস্যু। আশা করি সব সমস্যার অবসান হবে।’



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :