রাত ৪:১৬, বুধবার, ২৫শে এপ্রিল, ২০১৭ ইং
/ ক্রিকেট / টানা চতুর্থ জয়ে শেষ কুমিল্লার
টানা চতুর্থ জয়ে শেষ কুমিল্লার
ডিসেম্বর ৪, ২০১৬

গতবারের চ্যাম্পিয়নরা শেষদিকে এসে দারুণ খেলল। কিন্তু কোনও কাজে লাগল না জয়গুলো। হতাশা নিয়ে বিদায় নিতে হলো লিগ পর্ব থেকে।
টানা চতুর্থ জয়ের মাঝে লুকানো হতাশা নিয়ে এবারের বিপিএল শেষ করল গতবারের চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লা ভিক্টেরিয়ান্স। আগে ব্যাট করে ১৭০ রান করে রংপুর রাইডার্সকে তারা আটকে দেয় ৮ উইকেটে ১৬২ রানে।৮ রানে তারা জেতে ম্যাচটি।
এই হারে রংপুরের পয়েন্ট ১২-ই থাকল তবে রানরেটে পড়ল পিছিয়ে। ১০ পয়েন্ট নিয়ে ৬ নম্বরে শেষ করল কুমিল্লা। রংপুর শেষ চার খেলবে কিনা তা নির্ধারিত হবে সন্ধ্যায় ঢাকা-খুলনার খেলার পর।
১৭১ রান তাড়া করে জেতার জন্য যেসব উপাদান দরকার ছিল রংপুরের, তার কিছুই সংগ্রহ করতে পারেনি তারা। ওপেনার সৌম্য সরকার ৫, মোহাম্মদ মিথুন ২, লিয়াম ডসন ৩ রানে বিদায় নেন। মিথুন প্রায় সব ম্যাচেই প্রতিরোধ গড়ে এই প্রথম এত কম রানে বিদায় নিলেন। মাশরাফির করা বলটি বাড়তি বাউন্স পেলে মিথুন তা কাট করতে পারেননি, বল তার ব্যাটে লেগে ঠাঁই নেয় লিটন দাসের গ্লাভসে।
আফগান উইকেটরক্ষক ব্যাটনম্যান মোহাম্মদ শাহজাদ ধরে রেখেছিলেন এক প্রান্ত। এক প্রান্তে উইকেট পতন নিয়মিত ব্যাপার হলেও শাহজাদ এগিয়ে চলেন বীরদর্পে। ৩১ বলে দুটি ছক্কা ও পাঁচটি চারে ৪৫ রান করে তিনি মাশরাফির ‘চেঞ্জ অব পেসে’ বোকা বনে হন বোল্ড।
শেষ আশা তখন শহীদ আফ্রিদি, বলে ব্যাটে হচ্ছিলও তার। সাইফুদ্দিনকে চমৎকার একটি লেট কাট করে থার্ড ম্যান দিয়ে চার, মোহাম্মদ শরীফকে প্যাডেল সুইপ করে ফাইন লেগ দিয়ে সীমানা পার করা শট খেলে আফ্রিদি ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছিলেন। শেষ পর্যন্ত নিজের বিষে নিজেই বধ হন। আফ্রিদিকে দেখে লেগ স্পিনার হওয়া আফগান লেগি রশিদ খানের টার্নে পরাস্ত হয়ে স্ট্যাম্পড হন পাকিস্তানি তারকা। ১৯ বলে ৩৮ রান, দুটি ছক্কা ও তিনটি চারের মারে সাজানো ইনিংস আফ্রিদির।
শেষ দিকে জিয়াউর রহমানের ২২ বলে ৩৮ রানের ইনিংসে ব্যবধান কমায় রংপুর। জিয়ার এই রানগুলো নিট রান রেটে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
এর আগে বিপিএলে নিজেদের শেষ ম্যাচে রংপুরকে ১৭১ রানের লক্ষ্য দেয় শিরোপাধারী কুমিল্লা। দুই ওপেনার ইমরুল কায়েস ও খালিদ লতিফ দলকে শুরুতে যে দৃঢ় ভিত্তি এনে দেন, সেটা দলকে নিয়ে যায় ৬ উইকেটে ১৭০ রানের সংগ্রহে।
চাপহীন খেলতে নেমে কুমিল্লাকে ঝড়ো সূচনা দেন ওপেনার ইমরুল ও লতিফ। উদ্বোধনী জুটিতে ১০.৩ ওভারে আসে ৮৮ রান। এর মাঝে বেশি মারমুখী ছিলেন ইমরুল। ৩৫ বলে ৭টি চার ও ২টি ছক্কায় তিনি করেন ৫২ রান। তার চমৎকার ইনিংসটি শেষ হয় ডসনের চমৎকার প্রচেষ্টায়। আরাফাত সানিকে হাঁটু গেড়ে সুইপ করেছিলেন ইমরুল, ডিপ মিডউইকেটে দাঁড়ানো ডসন বল লুফে নেন, পেছন দিকে তাকিয়ে দেখেন পা ছুঁয়ে যাচ্ছে দড়ি, বল ওপর দিকে ছুড়ে মাঠের বাইরে চলে যান তিনি; আবার ফিরে এসে বল নিয়ে নেন হাতে। সাজঘরে ফেরা ছাড়া আর কোনও উপায় ছিল না ইমরুলের।
আরাফাত সানিই এরপর ফেরান অপর ওপেনার লতিফকে। সানিকে লফটেড অন ড্রাইভ করেছিলেন লতিফ। টাইমিংয়ের হেরফেরে বল পায়নি প্রত্যাশিত গতি। মিড অনে আফ্রিদি দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় বল ধরে ৩৬ বলে তিনটি চার ও দুটি ছক্কায় ৪৩ রান করা লতিফকে ফিরিয়ে দেন।
অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা নেমেছিলেন বিগ হিট নিতে। পারেননি তিনি, ৭ বলে ১৭ রান করে তিনি আফ্রিদির বলে ডসনের হাতে ক্যাচ দেন। ওয়ান ডাউনে নামা মারলন স্যামুয়েলস খেলছিলেন তার স্বভাবসুলভ ধীরস্থির ধারায়। ২৪ বলে ২টি চারে ও ১টি ছক্কায় আশার জাইদির সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝিতে তিনি হন রানআউট। জাইদি এর কিছুক্ষণ পরেই রুবেল হোসেনের ইয়র্কার লেন্থের বলে হন বোল্ড। ১১ বলে ১৭ ছিল তার সংগ্রহ।
লিটন দাসের ৬ ও রশিদ খানের অপরাজিত ১১ রানে শেষ ম্যাচে জয়ের মতো রানই স্কোরবোর্ডে জমা করে কুমিল্লা।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :