সকাল ৭:১৩, বৃহস্পতিবার, ২৫শে মে, ২০১৭ ইং
/ আর্ন্তজাতিক / অনবদ্য স্মিথে অস্ট্রেলিয়ার বড় জয়
অনবদ্য স্মিথে অস্ট্রেলিয়ার বড় জয়
ডিসেম্বর ৪, ২০১৬

অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক ব্যাটিংয়ের পর ফিল্ডিংয়েও ছিলেন দুর্দান্ত। এক কথায় তার অনবদ্য পারফরম্যান্সে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রশংসনীয় শুরু করল স্বাগতিকরা।
এই মৌসুমে প্রথমবার স্টিভেন স্মিথ কোনও ভুল করলেন না। অথচ গত কয়েক ম্যাচ ধরে সবকিছু তার বিরুদ্ধে ছিল। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে একবারও জেতেননি টস, ছিল না কোনও সেঞ্চুরি। সিরিজ হাতছাড়া হওয়া পর্যন্ত জেতেননি কোনও ম্যাচ। কিন্তু ফরম্যাট ও প্রতিপক্ষ বদলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্মিথের ভাগ্য বদলে গেল। টস জিতলেন, সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে করলেন সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রান। এরপর অবিশ্বাস্য এক ক্যাচ ধরলেন; চ্যাপেল-হ্যাডলি সিরিজে অস্ট্রেলিয়া এগিয়ে গেল ১-০ ব্যবধানে।
রবিবার নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার ৬৮ রানের প্রথম ওয়ানডে জয়ের দিনে উল্লেখযোগ্য ঘটনা আরও ছিল। সব ধরনের ফরম্যাট মিলিয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৪১ ম্যাচে প্রথম সেঞ্চুরি পেলেন কিউই ব্যাটসম্যান মার্টিন গাপটিল। অজিদের ৮ উইকেটে ৩২৪ রানের সংগ্রহে ফিফটি পেলেন ট্রাভিস হেড। জোশ হ্যাজলউড নিলেন তিন উইকেট। ৪৯ রান করে শেষদিকে নিউজিল্যান্ডের আশা জাগালেন কলিন মুনরো। কিন্তু সবকিছু ছাপিয়ে গেছে স্মিথের অবদান।। ক্যারিয়ার সেরা রান করার পর ফিল্ডিংয়ে অসাধারণ ছিলেন তিনি। ২৫তম ওভারে মিচেল মার্শের তৃতীয় বলে ডানদিকে কাট করলেন বিজে ওয়াটলিং, ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে দাঁড়িয়ে থাকা স্মিথ গোলরক্ষকের মতো বাঁ দিকে ঝাপিয়ে পড়ে শুধু বাঁ হাতে বল কজ্বা করলেন। বল হাতে নিয়ে নিজেই অবাক হয়ে গেছেন তিনি।
এর আগে স্মিথ গ্যালারিতে উপস্থিত দর্শকদেরও অবাক করেছেন ব্যাট হাতে। সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে ১৫৩ ওয়ানডে ম্যাচে এসে এক ইনিংসে সবচেয়ে বেশি রানের মালিক হলেন স্মিথ। ট্রেন্ট বোল্টের বলে মুনরোর তালুবন্দি হওয়ার আগে অস্ট্রেলীয় অধিনায়ক করেন ১৫৭ বলে ১৬৪ রান। ১৪টি চার ও ৪টি ছয়ে সাজানো তার রেকর্ডময় এই ইনিংস। সিডনির মাঠে আগের সর্বোচ্চ রান ছিল এবি ডি ভিলিয়ার্সের। দক্ষিণ আফ্রিকান ব্যাটসম্যান ২০১৫ সালের বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে করেছিলেন ১৬২ রান। এই মাঠে এর আগে অস্ট্রেলিয়ার সেরা ব্যাটসম্যান ছিলেন এন্ড্রু সাইমন্ডস, ২০০৫-০৬ মৌসুমে ১৫১ রান করেন।
এছাড়া স্মিথ অস্ট্রেলিয়ার সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রান করার তালিকায় সাবেক অধিনায়ক রিকি পন্টিংয়ের সঙ্গে যৌথভাবে সপ্তম স্থানে। মূলত তার এই অনবদ্য ইনিংসে দুই দলের পার্থক্য গড়ে দেন অজি অধিনায়ক। অবশ্য ১৩ রানেই তাকে সাজঘরে ফিরতে হতো। বোল্টের ওভারে ডাউন লেগে বল মেরেছিলেন তিনি, উইকেটরক্ষক বিজে ওয়াটলিং বাঁ দিকে ঝুকে পড়েও বল গ্লাভসে নিতে পারেননি। কিউইরা আরেকবার ব্যর্থ ফিল্ডিংয়ের মাশুল দিয়েছে। মাত্র ৭ রানে জীবন পান হেড। এই দুটি উইকেট তুলে নিতে পারলে সফরকারীরা এগিয়ে থাকতে পারত। কারণ ৯২ রানে অজিরা ৪ উইকেট হারালে পঞ্চম উইকেটে স্মিথ ও হেডের জুটিতে যোগ হয় ১২৭ রান। ব্যক্তিগত ৫২ রানে হেড সাজঘরে ফিরলে ম্যাথু ওয়েডকে (৩৮) নিয়ে ৮৩ রানের আরেকটি শক্ত জুটি গড়েন স্বাগতিক অধিনায়ক।
ম্যাট হেনরি, বোল্ট ও জিমি নিশাম ২টি করে উইকেট নিলেও অস্ট্রেলিয়ার রানের পাহাড় গড়ায় বাধা হতে পারেনি তাদের বোলিং।
বড় লক্ষ্যে নেমে হ্যাজলউডের বোলিংয়ে তটস্থ হয়ে পড়ে নিউজিল্যান্ড। ৩৪ রানের মধ্যে এই পেসারের কাছে দুই উইকেট হারায় তারা। এরপর নিশামকে নিয়ে প্রতিরোধ গড়েন গাপটিল। তৃতীয় উইকেটে তাদের জুটি সর্বোচ্চ ৯২ রানের। এরপর গাপটিল একাই লড়াই চালিয়ে গেলেও অপর প্রান্তের ব্যাটসম্যানদের কাছ থেকে সহায়তা পাননি। ১০২ বলে ১০ চার ও ৬ ছয়ে ১১৪ রানের ইনিংস সেরা পারফরম্যান্স করে অ্যাডাম জাম্পার বলে গ্লেন ম্যাক্সওয়েলকে (বদলি) ক্যাচ তুলে দেন তিনি। এর আগে মুনরোর সঙ্গে ৪৫ রানের জুটি গড়েন এই ওপেনার। শেষদিকে কিউই ব্যাটসম্যানদের আসা যাওয়া আবার শুরু হলে হেনরিকে নিয়ে ৫০ রানের প্রতিরোধমূলক জুটি গড়েন মুনরো। কিন্তু প্যাট কুমিন্সের নবম ওভারের জোড়া আঘাতে সফরকারীদের সব আশা ভেস্তে যায়। নিউজিল্যান্ড শেষ ৩ উইকেট হারায় মাত্র ৩ রানের ব্যবধানে।
হ্যাজলউডের তিন উইকেটের পাশাপাশি দুটি করে উইকেট তুলে নিয়ে কিউইদের ২৫৬ রানে গুটিয়ে দেন মার্শ, কুমিন্স ও জাম্পা।
তিন ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেটি হবে আগামী মঙ্গলবার, ভেন্যু ক্যানবেরা।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :