সকাল ১১:০৯, মঙ্গলবার, ২৩শে মে, ২০১৭ ইং
/ Special Post / ভারোত্তোলনে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
ভারোত্তোলনে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
নভেম্বর ৫, ২০১৬

ক্ষমতার দ্বন্দ্বে রসাতলে যেতে বসেছে বাংলাশের ভারোত্তোলন। বর্তমান কমিটি আর আগের কমিটির কর্মকর্তাদের দ্বন্দ্বে খেলা নয়, ভারোত্তোলন এখন টেবিলেই বেশি আলোচিত। গত ৯ জুন নির্বাচিত কমিটি বাতিল করে অ্যাডহক কমিটি গঠনের পর থেকেই শুরু দুপক্ষের অভিযোগ পাল্টা-অভিযোগ।

ভারোত্তোলন আরও আলোচনায় এসেছে তিনদিন আগে এশিয়ান ভারোত্তোলন ফেডারেশন থেকে একটি চিঠি আসার পর। যে চিঠিতে বলা হয়েছে, নির্বাচিত কমিটি ভেঙে অ্যাডহক কমিটি গঠন ঠিক হয়নি। অ্যাডহক কমিটি তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। বিওএর মাধ্যমে সে চিঠি এখন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে। চিঠিতে আগের নির্বাচিত কমিটি পুনর্বহালের কথাও বলা হয়েছে। তবে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ বলছে, এশিয়ান ভারোত্তোলন ফেডারেশনের অভিযোগ ঠিক নয়। তারা ভেঙেছে মেয়াদ শেষ হওয়া নির্বাচিত কমিটি। নতুন নির্বাচনের জন্যই অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে।

অ্যাডহক কমিটি অবশ্য এ চিঠি দেখে অবাক হয়েছে। ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক লে. কর্নেল মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম চৌধুরী বলেছেন, ‘এ চিঠি এশিয়ান ভারোত্তোলন ফেডারেশনের অফিশিয়াল ফ্যাক্স থেকে পাঠানো হয়নি। এটা তাদের চিঠি নয়।’

তিনি এ চিঠির পেছনে সাবেক সাধারণ সম্পাদক উইং কমান্ডার মহিউদ্দিন আহমেদের ইন্দন আছে বলে সন্দেহ করছেন, ‘আপনি চিঠির ভাষা দেখলেই বুঝবেন, এটা এশিয়ান ভারোত্তোলন ফেডারেশনের চিঠি হতে পারে না। চিঠিতে উল্লেখ আছে, নির্বাচিত কমিটি ছাড়া কোনো আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা ও সভায় বাংলাদেশের অংশগ্রহণ সম্ভব নয়। তাই যদি হবে, তাহলে গত অক্টোবরে মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত কমনওয়েলথ সিনিয়র, জুনিয়র ও ইয়ুথ চ্যাম্পিয়নশিপে আমাদের ভারোত্তোলকরা কীভাবে অংশগ্রহণ করেছে। সেখানে আমাদের দুজন ছেলে ও দুজন মেয়ে অংশ নিয়েছে। এতেই প্রমাণিত হয়েছে চিঠিটা ভুয়া।’

ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদকের দাবি, ওই প্রতিযোগিতা ছিল ২০১৮ সালে অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য কমনওয়েলথ গেমসের বাছাই পর্ব। ফলাফল তেমন ভালো না হলেও অংশ নেয়া বাংলাদেশের চার ভারোত্তোলকই কমনওয়েলথ গেমসে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছেন। মেয়েদের ৫৮ কেজিতে ফাহিমা আক্তার ময়না ৮ জনের মধ্যে ষষ্ঠ, ৭৫ কেজিতে জহুরা আক্তার নিশি ৮ জনের মধ্যে সপ্তম, ছেলেদের ৭৭ কেজিতে হামিদুল ইসলাম ১৭ জনের মধ্যে নবম এবং ৬৯ কেজিতে শিমুল কান্তি সিংহ ১১ জনের মধ্যে সপ্তম হয়েছেন।

অ্যাডহক কমিটির বিস্তর অভিযোগ সাবেক সাধারণ সম্পাদক উইং কমান্ডার মহিউদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে। ফেডারেশনের সভাপতি মনজুর কাদের কেরাইশী বলেন, ‘মহিউদ্দিন আহমেদ এককভাবেই ফেডারেশন চালিয়েছেন। অ্যাডহক কমিটি গঠনের পর মহিউদ্দিন আহমেদ ফেডারেশনের সব কাগজ-পত্র নিয়ে গেছেন। কম্পিউটার থেকে সব প্রমাণাদি মুছে দিয়ে গেছেন। এমন কি আগের ব্যাংক হিসেবের চেকও রেখে যাননি। আমাদের দায়িত্বও বুঝিয়ে দেননি। ফেডারেশনকে তিনি ব্যক্তিগত সম্পত্তি মনে করতেন। ফেডারেশন ছিল তার নেশা, পেশা ও ব্যবসা। তার বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ। আমি বহুবার এ সব কথা জাতীয় ক্রীড়া পরিষদকে জানিয়েছি। তারপর তারা নতুন অ্যাডহক কমিটি গঠন করেছে।’

অ্যাডহক কমিটি গঠনের পর ভারোত্তোলন বেশি আলোচনায় এসেছে এসএ গেমসে স্বর্নজয়ী মাবিয়া আক্তার সীমান্ত অলিম্পিক গেমসে অংশ নিতে না পারায়। মাবিয়া বিভিন্ন সময় বলেছেন, ‘অ্যাডহক কমিটি গঠনের কারণেই তার অলিম্পকে অংশ নেয়া হয়নি।’

wightlifting

তবে ফেডারেশনের সভাপতি মনজুর কাদের কোরাইশী এ প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘বিষয়টি নিয়ে মানুষকে ভুল ও মিথ্যা বার্তা দেয়া হচ্ছে। মহিউদ্দিন আহমেদ এটা নিয়ে রাজনীতি করছেন। এসএ গেমসের পর উজবেকিস্তানে অলিম্পিক কোয়ালিফাইং প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে মাবিয়া ১৭ জনের মধ্যে ১৬তম হয়েছেন। হয়তো সে কারণেই তার ওয়াইল্ডকার্ড আসেনি। এখানে আমাদের কিছু করার ছিল না।’

মাবিয়ার বিরুদ্ধেও অভিযোগ আছে ফেডারেশনের সভাপতির, ‘মাবিয়া একজন খেলোয়াড়। অথচ সে মহিউদ্দিনের সঙ্গে ফেডারেশনের বিরুদ্ধে রাজনীতি করে। সে বলে ফেডারেশন কিভাবে কাজ করে তা দেখে নেবে। মালয়েশিয়ার প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়ার জন্যু আমরা মাবিয়ার নামও পঠিয়েছিলাম; কিন্তু মাবিয়া নিজে এসে কোচ কাজল দত্তের কাছে বলেছে, যাবে না। হয়তো মহিউদ্দিন তাকে বুঝিয়েছে, মালয়েশিয়া গিয়ে খারাপ ফল হলে তোমার সমস্যা হবে। সাবেক সাধারণ সম্পাদকের উস্কানিতেই মাবিয়া এসব করছে। যা প্রত্যাশিত নয়।’

তাহলে মাবিয়ার বিরুদ্ধে কোন অ্যাকশনে যাচ্ছে ফেডারেশন? ‘আরে ভাই তাহলে তো আপনারা সাংবাদিকরাতো আমাকে ছিলে ফেলবেন। লিখবেন ফেডারেশন মাবিয়ার ক্যারিয়ার ধ্বংসের ষড়যন্ত্র করছে। আপনারাই বলেন, খেলোয়াড় হয়ে সে রাজনীতিতে জড়াতে পারে?’

জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ তো আপনাদের কর্মকাণ্ডে নাখোস। আপনারা নির্বাচনের কোন উদ্যোগ নেননি।  ‘আমাদের তো দায়িত্বও বুঝিয়ে দেয়া হয়নি। কোনো কাগজ-পত্র নেই। কারা ফেডারেশনের কাউন্সিলর তার কোনো ডকুমেন্টস নেই। তবে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ নির্দেশনা মতোই নির্বাচন আয়োজন করবো। তার আগে আমাদের একটি জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ করতে হবে। তা নাহলে কাউন্সিলর ঠিক করা যাবে না। ডিসেম্বরে হবে ওই জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ’- বলেছেন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম চৌধুরী।

ফেডারেশনের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে সাবেক সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ‘ওরা যা বলছে তা সব ডাহা মিথ্যা। ফেডারেশন এশিয়ান ভারোত্তোলন ফেডারেশনে চিঠি দিয়ে জানিয়েছে আমি আর সাধারণ সম্পাদক নেই। তারা সেই চিঠির জবাব দিয়েছে। বলা হচ্ছে আমার ইন্দনে চিঠি দিয়েছে। ফেডারেশন ফোন করলেই সব জানতে পারবে। এখন কি আর কোনো কিছু গোপন রাখার যুগ? এটা আসলে এক ধরনের ইতরামি। দেখবেন তারাই বিপদে পড়বে।’



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :