রাত ৮:০৭, বৃহস্পতিবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং
/ ফুটবল / বোকামির শাস্তি বাফুফের
বোকামির শাস্তি বাফুফের
নভেম্বর ২, ২০১৬

সবকিছুতেই তালগোল পাকিয়ে ফেলছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। ঘরোয়া ফুটবলে দর্শক নেই, আন্তর্জাতিক ফুটবলে ভারি হচ্ছে ব্যর্থতার পাল্লা। মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হিসেবে এবার আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জরিমানা। নিবন্ধন করার পরও এএফসির নতুন টুর্নামেন্ট সলিডারিটি কাপে অংশ না নেয়ায় বাফুফেকে ২০ হাজার মার্কিন ডলার জরিমানা করছে এশিয়ান ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থাটি।

কোনো টুর্নামেন্টে এন্ট্রি করে অংশ না নিলে আর্থিক জরিমানা হয়-এএফসির এ নিয়মটা নতুন নয়। তবে বাফুফে এটা মওকুফ করাতে পারবে বলে জানিয়েছিল মিডিয়াকে। কিন্তু অবস্থা যা দাঁড়িয়েছে তাতে জরিমানার এ অর্থ গুনতেই হবে বাংলাদেশকে।

এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের প্লে-অফ পর্ব পার হতে না পারা দেশগুলোকে খেলার সুযোগ করে দেয়ার জন্যই নতুন এ টুর্নামেন্ট আয়োজন করেছে এএফসি। যা মাঠে গড়াচ্ছে আজ (বুধবার) মালয়েশিয়ায়। বাফুফে এখানে অদূরদর্শিতার পরিচয় দিয়েছে। আগপিছ না ভেবেই দিয়ে রেখেছিল এন্ট্রি। সেই বোকামির শাস্তিই এখন পাচ্ছে দেশের ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থাটি।

মালয়েশিয়ায় শুরু হতে যাওয়া এ টুর্নামেন্ট থেকে বাংলাদেশের মতো নাম প্রত্যহার করেছে পাকিস্তানও। তাই ৯ দলের পরিবর্তে খেলা হচ্ছে ৭ দল নিয়ে। বাংলাদেশ ও পাকিস্তান নাম প্রত্যাহার করায় টুর্নামেন্টের ফিকশ্চার নতুন করে সাজিয়েছে এএফসি। এ দুই দেশই ছিল ‘এ’ গ্রুপে নেপাল, ব্রুনাই ও তিমুরের সঙ্গে। ‘বি’ গ্রুপের দেশগুলো হচ্ছে- শ্রীলংকা, ম্যাকাও, মঙ্গোলিয়া ও লাওস। ব্রুনাই ও তিমুরের ম্যাচ দিয়ে মাঠে গড়াবে এশিয়ার ফুটবলের নতুন সংযোজন এএফসি সলিডারিটি কাপ। শেষ হবে ১৫ নভেম্বর ফাইনালের মধ্যে দিয়ে।

প্রশ্ন হচ্ছে বাফুফে কেন এ বোকামি করলো? ভুটানের বিপক্ষে অ্যাওয়ে ম্যাচের আগে বাফুফে সভাপতি কাজী মো. সালাউদ্দিন বলেছিলেন, তিনি সলিডারিটি কাপ খেলার পক্ষে নন। এ সময় প্রিমিয়ার লিগ চলবে বলে এশিয়ান কাপের পরের রাউন্ডে উঠতে না পারলেও সলিডারিটি কাপে না খেলার পক্ষে মতামত দিয়েছিলেন তিনি। যদিও তার অনেক আগেই বাফুফে এ প্রতিযোগিতায় খেলার জন্য নাম নিবন্ধন করে রাখে। তারা হয়তো আগে থেকেই ভেবে রেখেছিল ভুটানের বিপক্ষে জেতা সম্ভব নয়। থিম্পুতে ওই হারের পর চারিদিক থেকে যখন সমালোচনার ঝড় উঠতে থাকে। মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যখন বাফুফে কর্মকতাদের মুণ্ডুপাত শুরু হয় তখন আরেকটি বিপর্যয়ের মুখোমুখি না হওয়ার জন্য সলিডারিটি কাপ না খেলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় বাফুফে।

প্রশ্ন হলো বাফুফে কেন আগ বাড়িয়ে সলিডারিটি কাপে খেলার নিবন্ধন করেছিল? ভুটান তো করেনি। প্লে-অফ ম্যাচ জিতলে তো সলিডারিটি কাপ খেলারই প্রয়োজন হতো না। এই সাধারণ হিসাবটাও ছিল না বাফুফে কর্মকর্তাদের মাথায়। ভুটানের কাছে হার এবং রাংকিংয়ে অবনমনের ধারা অব্যাহত থাকার কারণে এমনিতেই দেশের মানুষের আস্থা হারিয়েছে বাফুফের বর্তমান নেতৃত্ব। এখন জরিমানার ঘটনায় বাফুফে কর্মকর্তাদের জ্ঞানের পরিধি নিয়ে প্রশ্ন ওঠাও স্বাভাবিক।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :