রাত ৪:৩৮, বুধবার, ২৩শে মে, ২০১৭ ইং
/ ক্রিকেট / নবী-বিজয়-তাসকিনে জয়ে ফিরল চিটাগং
নবী-বিজয়-তাসকিনে জয়ে ফিরল চিটাগং
নভেম্বর ১৮, ২০১৬

ঢাকায় হারের হ্যাটট্রিকের পর চট্টগ্রামেও প্রথম ম্যাচে হার সঙ্গী করেছিল চিটাগং ভাইকিংস। তবে এবার আর ঘরের মাঠে দর্শকদের হতাশ করেনি তামিম ইকবালের দল।
রাজশাহী কিংসকে হারিয়ে বিপিএলে জয়ের ধারায় ফিরেছে চিটাগং। মোহাম্মদ নবী ও এনামুল হক বিজয়ের ব্যাটিং আর তাসকিন আহমেদের দারুণ বোলিংয়ে রাজশাহীকে ১৯ রানে হারিয়েছে ‘স্বাগতিক’ দল।
শুক্রবার চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে আগে ব্যাট করতে নেমে মোহাম্মদ নবী ও এনামুল হক বিজয়ের ফিফটিতে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৯০ রান করে চিটাগং। জবাবে ৯ উইকেটে ১৭১ রানের বেশি করতে পারেনি রাজশাহী।
ষষ্ঠ ম্যাচে চিটাগংয়ের এটা দ্বিতীয় জয়। চতুর্থ ম্যাচে তৃতীয় হার রাজশাহীর। বড় ল্য তাড়ায় রাজশাহীর শুরুটা অবশ্য ভালোই হয়েছিল। প্রথম ওভারে মাত্র ৩ রান এলেও মাহমুদুল হাসানের করা দ্বিতীয় ওভারের প্রথম চার বলে টানা চারটি চার মারেন মুমিনুল হক। এই ওভার থেকে আসে ১৮ রান।
মাহমুদুলের পরের ওভারে জুনায়েদ সিদ্দিক মারেন দুই ছক্কা। তাতে ৪ ওভার শেষে রাজশাহীর স্কোর দাঁড়ায় বিনা উইকেটে ৩৯। পরের ওভারে প্রথমবার আক্রমণে এসে মুমিনুলকে ফিরিয়ে ৪৪ রানের জুটি ভাঙেন তাসকিন আহমেদ। কভারে জহুরুল ইসলামকে ক্যাচ দেওয়া মুমিনুল ১৪ বলে করেন ২২।
মুমিনুল ফিরলেও তিনে নামা সাব্বির রহমানকে সঙ্গে নিয়ে দলকে এগিয়ে নিতে থাকেন জুনায়েদ। নবম ওভারে সাকলাইন সজীবের পরপর দুই বলে মারেন একটি করে চার ও ছক্কা। ৯ ওভার শেষে রাজশাহীর স্কোর দাঁড়ায় ১ উইকেটে ৭৮। তবে দশম ওভারে এলিয়টের প্রথম বলে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে লং অফে মোহাম্মদ নবীকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন জুনায়েদ (২৮ বলে ৩৮)।
আগের তিন ম্যাচে দুটি ডাক মারা উমর আকমল এদিনও শুরুটা ভালো করেছিলেন। সজীব ও এলিয়টকে দুটি চার মারার পর ১৩তম ওভারে তাসকিনের প্রথম বলে হাঁকান ছক্কা। কিন্তু চতুর্থ বলে স্মিথের দারুণ এক ক্যাচে বিদায় নিতে হয় তাকে (১২ বলে ২১)। রাজশাহীর স্কোর তখন ৩ উইকেটে ১১২।
আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান সাব্বির অবশ্য আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে দলকে এগিয়ে নিতে থাকেন। ২৪ রানে একবার জীবন পেয়ে ফিফটির দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু ব্যক্তিগত ৪৬ রানে তামিমের দারুণ এক ক্যাচে বিদায় নিতে হয় তাকে। ইমরান খান জুনিয়রের বলে কাভারে ডাইভ দিয়ে ক্যাচ নেন তামিম। ৩০ বলে ৪ ছক্কা ও এক চারে সাব্বির করেন ৪৬। নতুন ব্যাটসম্যান সামিত প্যাটেলও পরের ওভারে নবীর বলে স্টাম্পড হয়ে ফেরেন (৬)। তখনো জয়ের জন্য রাজশাহীর দরকার ছিল ৫৭ রান, হাতে ৫ উইকেট।
অবশ্য অধিনায়ক ড্যারেন স্যামি দুটি ছক্কা হাঁকিয়ে রাজশাহীর জয়ের আশা জাগিয়েছিলেন। কিন্তু ১৭তম ওভারের শেষ বলে স্যামি ৭ বলে ১৪ করে ফিরে গেলে রাজশহীও ম্যাচ থেকে ছিটকে যায়। পরের ওভারে তাসকিন পরপর দুই বলে নেন ২ উইকেট। শেষ ওভারে আবুল হাসান রাজুকে ফিরিয়ে ইনিংসে নিজের পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন তাসকিন।
এর আগে টস জিতে চিটাগংকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়েছিলেন রাজশাহী কিংস অধিনায়ক ড্যারেন স্যামি। চিটাগং একাদশে ফেরা ডোয়াইন স্মিথ শুরুটা করেন দারুণ। প্রথম ওভারেই ফরহাদ রেজাকে হাঁকান তিন চার। এর দুটিই কভারে, একটি মিড-অন দিয়ে।
দ্বিতীয় ওভারে আরেক ওপেনার তামিম ইকবালও মেহেদী হাসান মিরাজের দ্বিতীয় বলেই চার মেরেছিলেন। কিন্তু পঞ্চম বলে সুইপ করতে গিয়ে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন (৬ বলে ৫)। ২ ওভার শেষে চিটাগংয়ের স্কোর ১ উইকেটে ১৭।
তামিম ফিরলেও স্মিথ ক্রমেই আরো আক্রমণাত্মক হয়ে উঠছিলেন। মিরাজের পরের ওভারের প্রথম ও শেষ বলে মারেন একটি করে চার ও ছক্কা। পরের ওভারে আবুল হাসান রাজুর দ্বিতীয় বলে চার মেরেছিলেন। কিন্তু পঞ্চম বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন ক্যারিবীয় এই ব্যাটসম্যান। রাজুর লেংথ বলটি বুঝতেই পারেননি স্মিথ (১৯ বলে ৩৪)। ৬ ওভারে শেষে চিটাগংয়ের স্কোর ২ উইকেটে ৪২।
এরপর দ্রুত ফিরে যান গ্র্যান্ট এলিয়টও। সামিত প্যাটেলের বলে নুরুল হাসানের হাতে স্টাম্পড হয়ে ফেরেন এই কিউই ব্যাটসম্যান (১০ বলে ৮)। চিটাগংয়ের স্কোর তখন ৩ উইকেটে ৫৮। স্কোরবোর্ডে আর ১০ রান যোগ হতে ফিরে যান জহুরুল ইসলাম অমিও। প্যাটেলের বলে ফরহাদ রেজাকে ক্যাচ দেওয়ার আগে জহুরুল ৭ বলে করেন মাত্র ২ রান।
তবে চতুর্থ উইকেটে মোহাম্মদ নবীকে নিয়ে দলকে এগিয়ে নিতে থাকেন বিজয়। দুজন মিলে ১৪ ওভারে দলের স্কোর ১০০ পার করেন। দুজনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আক্রমণাত্মক ছিলেন নবী। আফগান ব্যাটসম্যান লং অফ, কভার ও ‘কাউ কর্নার’-এর ওপর দিয়ে মারেন দারুণ তিনটি ছক্কা। প্যাটেলকে তার মাথার ওপর দিয়ে মারা বিজয়ের ছক্কাটিও ছিল চমৎকার।
১৮তম ওভারে রাজুর দ্বিতীয় বলে চার ও তৃতীয় বলে ছক্কা হাঁকিয়ে ২৫ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন নবী। রাজুর পরের দুই বলেও টানা দুটি চার মারেন এই ডানহাতি। তাতে ১৮ ওভার শেষে চিটাগংয়ের স্কোর দাঁড়ায় ৪ উইকেটে ১৫৭।
পরের ওভারে ফরহাদ রেজাকে একটি করে ছক্কা ও চার মেরে ৩৯ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন বিজয়ও। তবে পরের বলে প্যাটেলকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। ৪০ বলে ৪ চার ও ২ ছক্কায় বিজয় করেন ৫০ রান। দুজনের জুটিতে আসে ১০৫ রান।
বিজয় ফিরলেও নবী শেষ ওভারে রাজুকে দুটি চার ও একটি ছক্কা হাঁকিয়ে দলের স্কোর চুড়ায় তোলেন। টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ার সেরা ৮৭ রানে অপরাজিত থাকেন নবী। তার ৩৭ বলে করা ৮৭ রানের ঝোড়ো ইনিংসে ছিল ৬টি করে চার ও ছক্কার মার।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :