দুপুর ১২:৫৮, শুক্রবার, ২০শে অক্টোবর, ২০১৭ ইং
/ ক্রিকেট / সোহাগ গাজীর পরই মিরাজ
সোহাগ গাজীর পরই মিরাজ
অক্টোবর ২১, ২০১৬

চট্টগ্রাম টেস্টের প্রথম দিনেই মেহেদী হাসান নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন। শুক্রবার দ্বিতীয় দিনে নিজেকে আরও একটু এগিয়ে নিয়ে গেলেন মিরাজ। বাংলাদেশের হয়ে অভিষেক টেস্টের এক ইনিংসে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি হিসেবে দ্বিতীয় অবস্থানে আছেন তরুণ মেহেদী হাসান। উইকেট সংখ্যা সমান ৬টি হলেও গড় ব্যবধানে এগিয়ে সোহাগ গাজী।
আগের দিন পাঁচ উইকেট নেওয়া মেহেদী মিরাজ শুক্রবার স্টুয়ার্ট ব্রডকে মুশফিকের গ্ল্যাভসবন্দি করে সাজঘরে ফেরান। আম্পায়ার প্রথমে আউট না দিলে রিভিউ চান মুশফিক। আর তাতেই শেষ উইকেট হিসেবে আউট হন স্টুয়ার্ট ব্রড। তাতে মেহেদি পেয়ে যান ষষ্ঠ উইকেট।
অভিষেক টেস্টে এক ইংনিসে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৬ উইকেট নেওয়ার রেকর্ড আছে। মিরাজ সহ এই রেকর্ডের ভাগিদার আরও চারজন। সবার উপরে সোহাগ গাজী। তিনি ২০১২ সালে ঢাকায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে নিজের অভিষেক টেস্টের প্রথম ইনিংসে ২৩.২ ওভার বোলিং করে ৭৪ রান খরচায় নিয়েছিলেন ৬টি উইকেট।
দ্বিতীয় অবস্থানেই মেহেদী হাসান মিরাজ। তিনি ৩৯.৫ ওভার বোলিং করে ৮০ রান খরচায় নিয়েছেন ৬টি উইকেট। বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের প্রথম ম্যাচেই ৫ উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়েছিলেন ডানহাতি এই অফস্পিনার। উপলক্ষটা আরও রঙিন হয়েছে তার অভিষেকে বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে কম বয়সে ৫ উইকেট নেওয়ার রেকর্ড গড়ে। তার আগে আরও ছয় বোলার অভিষেকে ৫ বা তার বেশি উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়লেও বয়সের হিসাবে তিনি সবাইকে ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন। তিনি বাংলাদেশের সপ্তম বোলার হিসেবে অভিষেকে ৫ উইকেট নিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার প্রথম দিনে ইনিংসের দশম এবং নিজের চতুর্থ ওভারেই ইংল্যান্ডের ওপেনার ব্যাটসম্যান বেন ডাকেটকে বিদায় করে দিয়ে মিরাজ তার মিশন শুরু করেন। অভিষিক্ত ইংলিশ ওপেনার বেন ডাকেটকে আউট করে অন্যরকম অর্জন যোগ হয় তার প্রাপ্তিতে। লেগ স্ট্যাম্পের বাইরের বলটি টার্ন করে স্ট্যাম্পে আঘাত হানতেই ক্লিন বোল্ড হয়ে সাজঘরের পথ ধরেন ডাকেট (১৪)।
নিজের পরের ওভারে আবারও আঘাত হানেন মিরাজ। এবার তার শিকার বিলিংস। তাকে এলবিডাব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলে ড্রেসিংরুমের পথ দেখান ডানহাতি এ্ই অফস্পিনার।
দলীয় ৩০ ওভারে ভয়ঙ্কর হয়ে উঠা জো রুটকে সাব্বিরের তালুবন্দি করে সাজঘরে ফেরান মিরাজ। টানা তিন উইকেট নিয়ে ইংলিশদের মেরুদন্ড ভেঙে দেন মিরাজ। পরের কাজটা অবশ্য করেন সাকিব।
পাঁচবার রিভিউতে বেঁচে যাওয়া মঈন আলীকে ফেরানোর দায়িত্বটাও নিয়ে নেন মিরাজ। মঈন আলী অফ স্ট্যাম্পের বাইরের বলটি খেলতে গিয়ে মুশফিকের গ্ল্যাভসে ক্যাচ দিয়ে দেন। তাতেই মৃত্যু ঘটে তার ৬৮ রানের ইনিংসের।
মঈন আলী ফিরে যাওয়ার পর মিরাজ অভিষেক টেস্টের ৫ উইকেট থেকে একটুখানি দূরে ছিলেন। এটা অর্জন করতে খুব বেশি বেগ পেতে হয়নি ১৮ বছর বয়সী এই অলরাউন্ডারকে। জনি বেয়ারস্টোকে ক্লিন বোল্ড করে অভিষেকে বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে কম বয়সে ৫ উইকেট নেওয়ার গৌরব অর্জন করেন মিরাজ।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :