সকাল ৭:৪৬, শনিবার, ২৫শে নভেম্বর, ২০১৭ ইং
/ Uncategorized / সমর্থকদের দাবি : ফিনিশার নাসিরকে চাই
সমর্থকদের দাবি : ফিনিশার নাসিরকে চাই
অক্টোবর ৮, ২০১৬

কঠিন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশকে ম্যাচ জেতানোর অনেক রেকর্ড রয়েছে নাসির হোসেনের। ম্যাচ শেষ করে আসার কারণেই তার অপর নাম ফিনিশার নাসির। শুক্রবার ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২৭১ রান থেকে ২৮৮- এই ১৭ রানের ৬ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ হেরে গেলো ২১ রানের ব্যবধানে। এরপরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লা এবং চায়ের টেবিলে ঝড় উঠছে, কেন দলে নেই নাসির?

সমর্থকদের দাবি- সাকিব আউট হয়ে যাওয়ার পর যদি নাসির থাকতো, তাহলে নিশ্চিত ম্যাচটা জিতে বেরিয়ে আসতে পারতো বাংলাদেশ। শেষটায় যেভাবে লেজে-গোবরে অবস্থার তৈরী করেছিল ব্যটসম্যানরা, নাসির থাকলে এমনটা হতো না।
আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজেও ১৪ জনের দলে ছিলেন। অথচ বসে থাকতে হয়েছে সাইডলাইনে। এবার ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দলে থেকেও জায়গা পাচ্ছেন না।

গত বছর নভেম্বরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সর্বশেষ ওয়ানডে খেলেছেন। যদিও এরপর বাংলাদেশই ওয়ানডে খেলেনি। এর মধ্যে অনেকগুলো টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছে টাইগাররা। সবগুলোরই দলে ছিলেন নাসির। ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত এশিয়া কাপ টি-টোয়েন্টি কিংবা ভারতে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ- কোনটাতেই সুযোগ পাননি তিনি। বসে থাকতে হয়েছে সাইডলাইনে। বিশ্বকাপের বাছাই পর্বে শুধু খেলেছিলেন নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে। এরপর সাইডলাইনই তার জন্য নির্ধারিত স্থান।

শুক্রবার ইংল্যান্ডের কাছে তীরে এসে তরি ডোবানোর পর ফেসবুক-টুইটারসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রীতিমত ঝড় উঠে গেছে- কেন নেই নাসির? কেন নাসিরকে খেলানো হচ্ছে না? পরের ম্যাচে নাসিরকে নেয়া হোক। বাদ দেয়া হোক মোশাররফ রুবেলকে।

ফরহাদ টিটো। বাংলাদেশের প্রথিতযশা একজন স্পোর্টস রাইটার। এখন প্রবাসী। তিনি ফেসবুকে লিখেছেন, ‘জনগনের সিদ্ধান্তে আগামী খেলায় নাসির খেলছেন। টিম ম্যানেজমেন্ট মানে যারা সেরা এগারো বাছাই করেন তাদের আর কোনো উপায় নাই এইবার। কারণ জনগনের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত!’

সাজ্জাদ কবির অমি নামে একজন ফেসবুকে লিখেছেন, ‘পরাজয়ের এই দিনে,নাসির তোমায় মনে পড়ে…। ঈশশ!!! যদি আজ (শুক্রবার) মোশাররফ রুবেলের বদলে নাসিরকে নেয়া যেতো!!! একটা সময় ৫২ বলে ৩৯ রানের দরকার ছিলো, হাতে ছিল ৬ উইকেট। তবুও ২১ রানের হার। এটাকে কি দূর্ভাগ্য বলবো না ব্যার্থতা….???’

শাওন তালুকদার নামে একজন লিখেছেন, একটা জেতা ম্যাচ কিভাবে হারতে হয় তা আরও একবার দেখলাম। নাসিরের জায়গায় কত মোশাররফ, মোসাদ্দেক, লিটন দাশ, শুভাগত- কত কি আসলো আর গেল; কিন্তু নাসিরের অভাব পুরন করতে পারলো না কেউ। এরপরও নাসির খারাপ, কারণ তার ৮০ টা গার্লফ্রেন্ড আর ২০টা মোবাইল। শেষ ৯ রানে ৫ উইকেট এটা মানার মত ব্যাপার না। নাসির কত ম্যাচ ফিনিশিং দিয়েছে, প্রমানিত একজন প্লেয়ার কিন্তু এই প্রমানিত প্লেয়ারকে না নিয়ে আমরা নতুন নতুন প্লেয়ার নামানোর জুয়া খেলা খেলছি।’

শাম শুভ নামে একজন তো ২০১৫ সালে নাসিরের পারফরম্যান্সের পুরো পরিসংখ্যান দিয়ে লিখেছে- ‘মোটামুটি অসাধারণ পারফরমেন্স। তার উইকেটগুলোর বেশিরভাগই মূল্যবান এবং দলের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ব্র্যাক থ্রু এনে দেয়া। তার ফিল্ডিং নিয়ে কোন কথা বলতে চাই না, কারণ নিঃসন্দেহে সে বাংলাদেশ দলের অন্যতম সেরা ফিল্ডার। আর তার রানের ইনিংসগুলো দলের বিপদের সময় হাল ধরার সমান। এতকিছুর পরও কোন অজুহাতে তাকে দলের বাইরে রাখা হচ্ছে আমার মাথায় আসে না।’

শফিকুল আলম শাওন নামে একজন লিখেছেন, ‘বোলিং ফিগার ৩-০-২৩-০ , সাথে দুই দুইটা ক্যাচ মিস । আমার মতে , ক্যাচ দুইটা মিস না হলে রান ২৮০ এর উপর যাইত না । মোশাররফের তুলনায় বোলিং-এ নাসির বিন্দুমাত্র কম ইফেক্টিভ হবে বলে মনে হয় না। আর ফিল্ডিং এ নাসির এর সাথে মোশাররফ এর তুলনা চলে না। আর ব্যাটিং এ তো অবশ্যই যোজন যোজন এগিয়ে নাসির। এরপরও কি টিম ম্যানেজমেন্টের টনক নড়বে না। আর কতদিন অবহেলিত থাকবেন একসময়ের বাংলাদেশের ফিনিশার খ্যাত নাসির হোসেন???’

মুমিত খান পূর্ণ লিখেছেন, ‘নাসির কে নিয়ে আর কতো? বিপিএল-এর আইকন প্লেয়ার লিস্ট থেকেও বাদ দিলেন!!! কি এমন পাপ করছে নাসির? জাতির সামনে তা সংবাদ সম্মেলন-এ তুলে ধরতে পারবেন একটু? অনেক শান্তি পাইতাম, আর কতো স্ট্যাটাস দিতে হবে!!! ছেলেটাকে কি মাফ করা যায় নাহ? অন্তত আমাদের দেশের স্বার্থে??????কি করা যায় নাহ???’

পাঠকদের জন্য রাখা মন্তব্যের ঘরে একের পর এক দাবি উঠছে, পরের ম্যাচে নাসিরকে খেলানো হোক। নাসিরকে কেন বাদ দেয়া হচ্ছে তার জবাব চাই।’

তবে সাধারণ মানুষের ভেতর থেকে যতই দাবি উঠুক, বিসিবির ভাব-সাবে মনে হচ্ছে নাসিরকে দ্বিতীয় স্যাচেও নামানো হবে না। কারণ, বিসিবি প্রেসিডেন্ট নাজমুল হাসান পাপন সরাসরি জানিয়ে দিয়েছেন, কার জায়গায় খেলাবো নাসিরকে? দলীয় ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ সুজনও জানিয়েছেন, টিম কম্বিনেশনের কারণেই পারা যাচ্ছে না নাসিরকে খেলাতে।’



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :