সকাল ১১:১৯, বৃহস্পতিবার, ২৭শে এপ্রিল, ২০১৭ ইং
/ ক্রিকেট / শততম জয়ের সাী হলো মিরপুর
শততম জয়ের সাী হলো মিরপুর
অক্টোবর ১, ২০১৬

শততম জয়ের সাী হতে গত বুধবার দ্বিতীয় ওয়ানডেতে মিরপুরের গ্যালারিতে এসেছিলেন প্রায় ২০ হাজার টাইগার সমর্থক। কিন্তু সমর্থকদের হতাশ করে টাইগাররা ম্যাচ হেরে যায় দুই উইকেটে। তবে গতকাল শনিবার আর হতাশা নিয়ে ফিরতে হয়নি লাল-সবুজ জার্সিধারী সমর্থকদের। ব্যাটিং-বোলিং-ফিল্ডিং তিন বিভাগেই দারুণ প্রভাব বিস্তার করে ক্রিকেট খেলেছে টাইগাররা। আর তাতেই ধরা দিয়েছে আন্তর্জাতিক ওয়ানডেতে বাংলাদেশের শততম জয়টি।
১৯৯৮ সালে বাংলাদেশ প্রথম ওয়ানডে জিতেছিল। প্রথম জয়টি এসেছিল আকরাম খানের নেতৃত্বে। এরপর একটু একটু করে এগিয়ে গেছে বাংলাদেশের ক্রিকেট। কখনো আমিনুল ইসলাম বুলবুল কখনো বা খালেদ মাহমুদ সুজন কিংবা হাবিবুল বাশার সুমনের হাত ধরে।
আইসিসির পূর্ণ সদস্য পদ পাওয়ার পরই বাংলাদেশের ক্রিকেট আমূল বদলে যায়। ওই সময় বাংলাদেশের ক্রিকেটকে বদলে দেওয়ার নেপথ্যে ছিলেন হাবিবুল বাশার সুমনের নেতৃত্বে খেলা ক্রিকেটাররা। বড় বড় দলগুলোর বিপে হারতে হারতে টাইগাররা শিখেছিল কীভাবে নিজেদের মেরুদণ্ড সোজা করতে হয়। ২০০৬-০৭ সালে সাকিব-মুশফিক-তামিমরা যখন দলভুক্ত হলেন। চিত্রনাট্য বদলের শুরু সেখানেই। এরপরই একটু একটু করে এগিয়ে, বর্তমানে মাশরাফির নেতৃত্বে টাইগাররা বিশ্ব ক্রিকেটের বড় দল হয়ে উঠছে। শনিবার আফগানিস্তানের বিপে নিজেদের ৩১৫তম ম্যাচে এসে ২১তম সিরিজ জয়ের পাশাপাশি ওয়ানডে ক্রিকেটে শততম জয় এলো টাইগারদের একটু অপোয় রেখে।
১৯৮৬ সালে পাকিস্তানের বিপে বাংলাদেশ প্রথম আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছিল। এরপর এই সংস্করণে নিজেদের প্রথম জয় এসেছিল ১৯৯৮ সালে। আকরাম খানের নেতৃত্বে নিজেদের ২৩তম ম্যাচে ভারতের হায়দরাবাদে কেনিয়াকে পরাজিত করেছিল আকরাম বাহিনী। ওটাই ছিল প্রথম জয়। এরপর পেরিয়ে গেছে ৩০ বছর। এই কয় বছরে বাংলাদেশ খেলেছে ৩১৪টি একদিনের আন্তর্জাতিক ওয়ানডে। ৩১৪টি ম্যাচে বাংলাদেশ জিতেছে ৯৯টি ম্যাচ। গত রবিবার আফগানদরে বিপে প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে আসে ৯৯তম জয়টি। বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি ওয়ানডে জিতেছে হাবিবুল বাশারের নেতৃত্বে। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ জিতেছে ২৯টি ম্যাচ। পরের অবস্থানে সাকিব আল হাসান ২৩টি, তৃতীয় অবস্থানে মাশরাফি বিন মর্তুজা ২১টি, মুশফিকুর রহিম ১১টি, মোহাম্মদ আশরাফুল ৮টি, খালেদ মাহমুদ ৪টি, আমিনুল ইসলাম ২টি এবং আকরাম খান ১টি ম্যাচে জয়ী অধিনায়ক। এরমাঝে নিজেদের ২৫তম জয়টি এসেছিল ২০০৬ সালের ৮ ডিসেম্বর। ওইদিন জিম্বাবুয়ের বিপে মিরপুরেই জয়ের আনন্দে মাতেন লাল-সবুজ জার্সিধারীরা। জয়ের হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ হয়েছিল ২০০৯ সালের ১৬ আগস্ট, বুলাওয়েতে জিম্বাবুয়ের বিপইে। ৭৫তম জয় আসে ২০১২ সালের ৮ ডিসেম্বর, ক্যারিবিয়ানদের বিপে মিরপুরে। প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলেছে জিম্বাবুয়ের বিপে এবং সবচেয়ে বেশি জয়ও তাদের বিপইে। এখন পর্যন্ত তাদের বিপে ৬৭ ম্যাচ খেলে জয় পেয়েছে ৩৯টিতে। দ্বিতীয় অবস্থানে আছে শ্রীলঙ্কা। তাদের বিপে ৩৮ ম্যাচ খেলে জয় চারটিতে। পাকিস্তানের বিপে ৩৫টি ম্যাচ খেলে বাংলাদেশ জয় পেয়েছে চারটি। ভারতের বিপে ৩২ ম্যাচে টাইগারদের জয় ৫টি। ক্যারিবিয়ানদের বিপে ৭টি জয় এসেছে ২৮টি ম্যাচ খেলে। নিউজিল্যান্ডের বিপে আটটি জয় এসেছে ২৫ ম্যাচ খেলে। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার বিপে ১৯টি ম্যাচ খেলে জয় পেয়েছে মাত্র একটিতে। দণি আফ্রিকার বিপে ১৭ ম্যাচে টাইগারদের জয় তিনটি। ইংল্যান্ডের বিপে ১৬ ম্যাচ খেলে বাংলাদেশ জয় পেয়েছে তিনটি। এক সময়কার শক্তিশালী প্রতিপ কেনিয়ার বিপে বাংলাদেশ খেলেছে ১৪টি ম্যাচ, সেখানে তাদের জয়ের সংখ্যা আটটি। এছাড়া আয়ারল্যান্ডের বিপে টাইগারদের ৭ ম্যাচে জয় ৫ টিতে। আর স্কটল্যান্ডের বিপে চার ম্যাচ খেলে সবগুলো ম্যাচেই জয় পেয়েছে টাইগাররা। আফগানিস্তানের বিপে চার ম্যাচের মধ্যে তিনটিতে জিতেছে লাল-সবুজরা। বারমুডা, কানাডা ও নেদারল্যান্ডসের বিপে দুটি করে ম্যাচ খেললেও বারমুডার সঙ্গে শতভাগ জয় ছাড়া বাকি দুটি দলের বিপে বাংলাদেশের জয় একটি। হংকং ও আরব আমিরাতের বিপে একটি করে ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। এখানে জিতেছে টাইগাররাই।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :