সকাল ১১:৪৬, শুক্রবার, ২০শে জানুয়ারি, ২০১৭ ইং
/ ক্রিকেট / টেস্টে পেসার ঘাটতি পূরণ করবেন কে?
টেস্টে পেসার ঘাটতি পূরণ করবেন কে?
অক্টোবর ১৪, ২০১৬

ইংল্যান্ডের বিপে টেস্ট স্কোয়াড ঘোষণার সম্ভাব্য দিনণ রবিবার। কেমন হচ্ছে চট্টগ্রাম টেস্টের স্কোয়াড? এই নিয়ে চট্টগ্রামের আকাশে জল্পনা-কল্পনা চলছে অনেক। তিন পেসার নাকি দুই পেসার নিয়ে হবে ইংলিশদের বিপে ১৪ জনের স্কোয়াড। তিন পেসার হলে তারা কারা?এসব প্রশ্ন চলে আসছে সামনে। প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু অবশ্য জানালেন আগামী দুইদিনের মধ্যেই জানা যাবে সেই সব প্রশ্নের উত্তর।
মূলত মোহাম্মদ শহীদ, আল আমিন হোসেন, রুবেল হোসেন, তাসকিন আহমেদ ও শফিউল ইসলাম আছেন নির্বাচকদের ভাবনাতেই। এর বাইরে যাওয়ার সম্ভাবনা যে নেই; বিষয়টি তেমন নয়। তরুণরাও পেতে পারেন সুযোগ!
প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু অবশ্য তেমনটাই ইঙ্গিত দিলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমরা ভাবছি। আমাদের হাতে এখন পাঁচজন পেসার আছে। ওখান থেকে আমরা তিনজনকে বেছে নেবো। দল আমরা ১৬ তারিখে ঘোষণা করবো।’
পেস বোলারদের কল্যানেই গত কয়েক বছর ধরে সাফল্য পাচ্ছে বাংলাদেশ। সেই ধারাবাহিকতা সংপ্তি ফরম্যাটে থাকলেও; থাকছে না টেস্ট ক্রিকেটে। মাশরাফির নেতৃত্বে পেসাররা দুর্দান্ত হয়ে উঠলেও হচ্ছেন না মুশফিকের নেতৃত্বে। অবশ্য কারণও আছে যথেষ্ট। মাশরাফি ও তাসকিন সংপ্তি ফরম্যাটে ক্রিকেটে খেললেও খেলেন না টেস্ট ক্রিকেট।
২০০৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপে সর্বশেষ টেস্ট খেলেছিলেন মাশরাফি। এরপর আর কখনোই জাতীয় দলের জার্সিতে লাল বলে বোলিং করা হয়নি। অন্যদিকে তাসকিন রঙিন পোষাকে প্রতিপরে জন্য ত্রাস সৃষ্টি করলেও টেস্টের ময়দানে এখনো পা রাখা হয়নি। সবমিলিয়ে তাই টেস্টে প্রতিপ ব্যাটসম্যানদের মনে ত্রাস সৃষ্টি করতে পারে এমন বোলার খুঁজে পাচ্ছেন না নির্বাচকরা।
গত বছর বাংলাদেশ ঘরের মাঠে পাঁচটি টেস্ট খেলেছে। যার সবকটিতেই শহীদ ছিলেন স্কোয়াডে। অন্যদিকে শেষ সিরিজে দণি আফ্রিকার বিপে সাদা পোষাকে অভিষেক হয়েছিল মুস্তাফিজের। খুব স্বাভাবিকভাবেই ইংল্যান্ডের বিপে এই দুই জন অটোমেটিক চয়েজের মাধ্যমের দলে সুযোগ পেতেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত তারা দুজন ইনজুরিতে পড়ে ফেরার লড়াইয়ে ব্যস্ত মিরপুরের ইনডোরে।
মূলত জাতীয় লিগের দ্বিতীয় রাউন্ডে খেলতে গিয়ে সাইড স্ট্রেইনের ইনজুরিতে পড়েন শহীদ। কিছুদিন বিশ্রাম নিয়ে বৃহস্পতিবার বল হাতে নিয়েছেন। ইংল্যান্ডের বিপে তার চট্টগ্রাম টেস্টে থাকার সম্ভাবনা একদম নেই বলা চলে।
শহীদের মতোই ফেরার লড়াইয়ে ব্যস্ত মুস্তাফিজও। আগামী ডিসেম্বরে নিউজিল্যান্ড সিরিজের জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন তিনি। মুস্তাফিজের বর্তমান অবস্থার উন্নতি না হলে অপোটা আরও দীর্ঘ হতে পারে। এছাড়া নির্বাচকদের চিন্তাতে যে ৫ পেসার রয়েছেন, বিসিবির ফিজিওর বক্তব্য অনুযায়ী কমপে চট্টগ্রাম টেস্ট থেকে বাদ পড়ে যাচ্ছেন মোহাম্মদ শহীদ!


আর শহীদের ইনজুরিতেই মূলত ভাবনায় পড়ে গেছেন নির্বাচকরা। কেননা গত ৫ টেস্টের সবগুলোই খেলেছেন বাংলাদেশের টেস্ট স্পেশালিস্ট পেসার মোহাম্মদ শহীদ। প্রত্যেক ম্যাচেই শহীদের সঙ্গী ছিলেন রুবেল-মুস্তাফিজ-শাহাদাত। এমনকি টিম ম্যানেজমেন্ট যখন একজন পেসার খেলিয়েছেন তখনও দলে ছিলেন শহীদ। তাই তার ইনজুরিই ভাবাচ্ছে প্রধান নির্বাচককে, ‘পেস বোলিং নিয়ে সব সময়ই আমরা কাজ করছি। আমাদের চিন্তায় এখনো সে আছে, সবকিছু নিয়ে আমাদের একটা পরিকল্পনা আছে। আশা করি, খুব একটা সমস্যা হবে না।’
শহীদের ইনজুরি নিয়ে জাতীয় দলের ফিজিও বায়েজেদুল ইসলাম বলেছেন, ‘শহীদ মাত্র রিহ্যাব শুরু করল। বোলিং করেছে কয়েক ওভার। এখনই কিছু বল যাচ্ছে না। এখানেও কোচ, ফিজিও, টিম ম্যানেজমেন্ট দেখবে, তারপর সিদ্ধান্ত। পুরোপুরি ফিট না থাকলে দীর্ঘদিনের জন্য বাইরে চলে যাবার সম্ভাবনাও থাকবে।’
অন্যদিকে মুস্তাফিজ ইনজুরির আপডেট প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি জানিয়েছেন, ‘মুস্তাফিজের অবস্থা ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে। আশা করছি নিউজিল্যান্ড সিরিজের আগেই সে পুরোপুরি ফিট হয়ে যাবে। তার উন্নতিতে আমরা সন্তুষ্ট।’
এদিকে শহীদের ইনজুরিতে হঠাৎ করেই তাসকিনকে নিয়ে ভাবছেন নির্বাচকরা। তাইতো ওয়ানডে সিরিজ পর তাসকিনকে ঢাকায় না পাঠিয়ে ইংলিশদের বিপে দ্বিতীয় প্রস্তুতি ম্যাচের একাদশে রেখে দেওয়া হয়েছে। জানা গেছে, তাসকিনের ব্যাপারে আগ্রহ থেকেই নির্বাচকরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। গত কিছুদিন ধরেই তাসকিন ওভারের নির্ধারিত কোটা পূরণ করছেন। এই কারণে নির্বাচকদের মনে আস্থা জাগতে শুরু করেছে। হয়তো টেস্টে ১৫-২০ ওভার বোলিং করতে পারবেন তিনি। অবশ্য ১৬ তারিখে দ্বিতীয় প্রস্তুতি ম্যাচ দেখেই তার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচকরা।
তাসকিন এর আগে সর্বশেষ প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলেছেন ২০১৩ সালে ওয়ালটন সেন্ট্রাল জোনের হয়ে। হয়তো সাদা পোষাকে চট্টগ্রামেই প্রথমবার দেখা যাবে তাসকিনকে। তাসকিন নিজেও অপোয় আছেন সেই স্বপ্ন পূরণের।
এদিকে রুবেল ও আল আমিনের নেই ফর্ম। আফগানিস্তান সিরিজে থাকলেও ফর্মহীনতায় ইংল্যান্ড সিরিজে ছিলেন না রুবেল হোসেন। যদিও তাদের দুইজনকে পরিকল্পনায় রেখেছে নির্বাচকরা।
আলোচনায় থাকা পেসারদের মধ্যে একজন প্রায় নিশ্চিত। বিসিবির একটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। আর তিনি হলেন ২০১৪ সালে সর্বশেষ টেস্ট খেলা শফিউল ইসলাম। বহুদিন পর আফগানিস্তান ও ইংল্যান্ডের বিপে ওয়ানডে সিরিজে দলে ফিরেছিলেন শফিউল। এবার প্রায় দুই বছর পর টেস্ট স্কোয়াডে ফেরার অপোয় আছেন তিনি। শফিউল জানালেন সুযোগের অপো আছেন তিনি, ‘আজ জিম করেই কাটিয়েছি। অনেকদিন পর সুযোগের অপোয় আছি। যদি সুযোগ আসে অবশ্যই দলের চাহিদা পূরণের চেষ্টা করবো।’
প্রধান নির্বাচক ৫ পেসারের ওপর আস্থা রাখলেও উড়িয়ে দিচ্ছেন না তরুণদের সম্ভাবনা। বিসিবি একাদশের হয়ে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলা কামরুল ইমলাম রাব্বি, আবু হায়দার রনি, শুভাশিষ রায় কিংবা এবাদত হোসেন যে চিন্তায় নেই বিষয়টি একেবাড়ে উড়িয়ে দেওয়া যায় না, ‘প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে খেলে অনেকেই এখানে আসছে। চারদিনের ম্যাচের স্কিল ফিটনেসে ওদের যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হয়তো আরও কয়েকটা দিন অপো করতে হবে।’



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :