রাত ৪:৩৭, বুধবার, ২৩শে মে, ২০১৭ ইং
/ ক্রিকেট / টিকিটের জন্য হাহাকার
টিকিটের জন্য হাহাকার
অক্টোবর ৭, ২০১৬

আক্ষেপে পুড়ছেন অনেক ক্রিকেটপ্রেমী। এমনই একজন স্কুল পড়ুয়া আসিফ। তার আফসোস, মাঠে বসে খেলা দেখতে পারছেন না। স্টেডিয়ামের একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্ত হন্যে হয়ে ঘুরছেন সোনার হরিণসম টিকিটের আশায়। কিন্তু কোথায় টিকিট? যারা মাঠে ঢুকছেন সেদিকেই রাজ্যের হাহাকার নিয়ে তাকিয়ে রাসেল। শুধু আসিফ-রাসেল নন, স্টেডিয়ামের আশ-পাশে এমন হাজার হাজার ক্রিকেটপ্রেমী এভাবেই টিকিটের জন্য সময় ব্যয় করছেন।

আফগানিস্তান সিরিজের মতো ইংল্যান্ড সিরিজেও টিকিটের দায়িত্ব পেয়েছে সহজডটকম। কিন্তু ইংল্যান্ড সিরিজে সমর্থকরা সহজডটকমে টিকিট সহজে কিনতে পারেনি। পদে পদে তাদের সমস্যা হয়েছে। টিকিট ছাড়ার ৫-১০ মিনিটের মধ্যেই গ্রাহকরা টিকিট পাচ্ছিলেন না বলে অভিযোগ করছেন। গত দুই দিনে যতবারই সহজের ওয়েবসাইটে টিকিট কেনার চেষ্টা করা হয়েছে ততবারই ব্যর্থ হয়েছেন গ্রাহকরা।

সহজডটকমের প্রধান নির্বাহী মালিহা কাদির বলেছিলেন, ‘গ্রাহকরা যাতে সবাই টিকিট পেতে পারেন, এজন্য সব টিকিট একসঙ্গে না ছেড়ে কয়েক ধাপে টিকিটগুলো ছাড়া হবে।’ সহজডটকমের এমন পদক্ষেপের পরও সাব্বির নামের এক ক্রিকেট ভক্ত টিকিট কিনতে পারেননি।

তিনি অভিযোগ করে বলেছেন, ‘গত তিনদিন ধরে আমি সহজডটকমের ওয়েবসাইট খুলে বসে আসি। কিছুক্ষণ পর পরই চেষ্টা করছি টিকিট কেনার। কিন্তু ওদের সাইটে দেখাচ্ছে সব টিকেট ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে।’

সাব্বিরের প্রশ্ন-আমি সারাদিন সাইটে বসে টিকিট পাইনি; তবে কারা পেলো এই টিকিট? এইসব প্রশ্নের উত্তর জানতে সহজডটকমের টেকনোলোজি অফিসার সন্দীপ দেবনাথ বলেছেন, ‘আমরা মাত্র ৩০ শতাংশ টিকিট ছাড়ি। বাকি টিকিটগুলো ইনডোরে বিসিবিই বিক্রি করে। এখানে আমাদের বলার কিছু নেই। আপনাকে একটা কথা বলি, বিসিবির প্রেস কনফারেন্সেই কিন্তু বলা হয়েছে আমাদেরকে তারা স্টেডিয়াম ক্যাটাগরির মাত্র ৩০ শতাংশ টিকিট দিয়েছে। এখন আমাদের ওয়েবসাইটে যখন টিকিট ছাড়া হচ্ছে, তখন একই সময়ে একসঙ্গে সাড়ে চার থেকে পাচহাজার ব্যবহারকারী থাকছেনই। এজন্য সবাই টিকিট পাচ্ছেন না।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘যেদিন আমরা প্রথমবার টিকিট ছেড়েছি সেদিন মোটাদাগে ১লক্ষ ৭৩ হাজার ব্যবহারকারী আমাদের ওয়েবসাইটে ছিলেন। এখন সবাই যদি তিনটা করে টিকিট বুকিং দেয়, তাহলে সবাইকে সন্তুষ্ট করার জন্য তিনলাখ টিকিট দরকার!’

জানা গেছে, সহজডটকমের কাছে বোর্ড থেকে মাত্র সাড়ে ৭ হাজার টিকিট আসে। এই প্রক্রিয়ায় একজন গ্রাহক যদি তিনটি করে টিকিট বুকিং দেন। সেক্ষেত্রে সহজডটকমের এতোগুলো টিকিট সরবরাহ করা সম্ভব নয়। এ কারণেই এত হাহাকার।

৩০ ভাগ টিকিট অনলাইনে ছাড়লে বাকি টিকিটগুলোর কিছু অংশ বোর্ড ম্যাচ শুরুর আগে মিরপুর ইনডোর স্টেডিয়ামের নির্ধারিত বুথে ছাড়া হয়। আর কিছু অংশ সৌজন্য টিকিট হিসেবে দেওয়া হয়। মূলত বিসিবির কাউন্সিলর, ক্লাব, স্পন্সর, পরিচালকদের কোটা প্রভৃতি খাতেই এসব টিকিট দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া পুলিশ প্রশাসন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় এবং রাজনৈতিক দলগুলোকে সৌজন্য টিকিট পাঠায় বিসিবি।

যদিও বাড়তি টাকা খরচ করে অনেকেই টিকিটের সন্ধান পেয়েছেন- নানা পথে। একশো টাকার টিকিটের পেছনে ব্যয় করতে হয়েছে এক-দুই এমনকি ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত! আবার কেউ কেউ পোশাকি বাহিনী নামধারী কিছু সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার মাধ্যমে টাকা দিয়ে টিকিট ছাড়াই ম্যাচ দেখার সুযোগ পেয়েছেন।

ফলে কার্ডধারী বিশেষ লোকদের যারা চিনতে পেরেছেন; তারা ভাগ্যবান বটে। সাধারণ দর্শক সাজ্জাদ জানিয়েছেন, কার্ডধারী এবং পোশাকি বাহিনীর কিছু কিছু লোক টাকার বিনিময়ে গ্যালারিতে অনেককেই ঢুকিয়েছেন। এমন অভিযোগ সাজ্জাদসহ অনেকেরই।

মিরপুর স্টেডিয়ামের আশপাশে কালোবাজারিদের আনা-গোনা চোখে পড়েছে। শুক্রবার ভোর থেকেই টিকিটের জন্য লাইন দেখা গেছে মিরপুর ইনডোর স্টেডিয়ামে। ম্যাচ শুরুর আগের মুহূর্তে ভেন্যুর আশপাশে বেশকিছু যুবককে ম্যাচ চলাকালীন সময় টিকিট বিক্রি করতে দেখা গেছে।

উল্লেখ্য, শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামের দর্শক ধারণ ক্ষমতা ২৫ হাজার। অর্থাৎ পুরো স্টেডিয়ামে দক্ষিণ গ্যালারি, উত্তর গ্যালারি, পূর্ব গ্যালারি, শহীদ মুশতাক ও শহীদ জুয়েল স্ট্যান্ড, ইন্টারন্যাশনাল গ্যালারি ও ভিআইপি গ্র্যান্ড স্ট্যান্ডের সবগুলো সিট মিলিয়েই এই সংখ্যা।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :