সকাল ৮:৫১, মঙ্গলবার, ২১শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ইং
/ Special Post / জবাবটা ব্যাট হাতেই দিলেন ইমরুল
জবাবটা ব্যাট হাতেই দিলেন ইমরুল
অক্টোবর ৭, ২০১৬

শুক্রবার ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সুযোগ পেয়ে সেঞ্চুরি করেই ম্যানজমেন্টকে দাঁত ভাঙা জবাব দিলেন ইমরুল কায়েস। সেঞ্চুরি পূর্ণ হতেই ড্রেসিংরুমের দিকে তাকিয়ে হয়তো টিম ম্যানেজম্যান্ট বলছিলেন, ‘আমি যোগ্য। আমাকে কেনও এতদিন খেলাওনি!’ ১০৫ বলে মাঠের চারদিকে দুর্দান্ত সব শট খেলে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় এবং সর্বোচ্চ সংগ্রহ করেছেন এই ম্যাচে।

সর্বশেষ জিম্বাবুয়ে সিরিজে ব্যাক টু ব্যাক হাফসেঞ্চুরি করেও মূল একাদশে নিয়মিত হতে পারেননি। আফগানিস্তান সিরিজে প্রথম ম্যাচে ৩৭ রান এসেছিল তার ব্যাটে। তারপরও বাকি দুটি ম্যাচে টিম কম্বিনেশনের কারণ দেখিয়ে একাদশে সুযোগ দেওয়া হয়নি ইমরুলকে।

এদিনে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে একাদশে ফিরেই নিজের কারিশমা দেখালেন; প্রমাণ করলেন সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটের ক্রিকেটে তিনি কতটা ফিট। শুক্রবার শুরু থেকেই বিস্ফোরক ব্যাটিং করে তুলে নিয়েছেন ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। অবশ্য তিনি যে জাতীয় দলের জার্সিতে সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটের ক্রিকেটে প্রস্তুত তার আভাসটা গত মঙ্গলবারের প্রস্তুতি ম্যাচেই দিয়ে রেখেছিলেন। খেলেছিলেন ১২১ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ম্যাচে ইমরুল ১০৫ বলে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরির দেখা পান। সেঞ্চুরি পেতে ১১ চার ও ২ ছয়ে তিনি এই মাইলফলকে পৌঁছান। এর আগে তার সর্বোচ্চ রান ছিল ১০১। ২০১০ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিনি প্রথম সেঞ্চুরি পেয়েছেন। যা তার ক্যারিয়ারের দশম ম্যাচ ছিল। এরপর খেলেছেন আরও ৫০টি ম্যাচ। সবমিলিয়ে ৪৯ ইনিংস পর তার ব্যাট থেকে আসলো ওয়ানডে ক্রিকেটে তার দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। এই কয় বছরে তার ব্যাট থেকে এসেছে ১১টি হাফসেঞ্চুরি।

শুক্রবার ৫৫ বলে তিনি ৫০ রানের কোটা স্পর্শ করেন; যেই রান করতে তার বাউন্ডারি ছিল ৭টি এবং ওভার বাউন্ডারি ছিল ২টি। বাকি ৫০ রান ছুঁতে ইমরুল খেলেছেন ৫০ বল। শেষ পর্যন্ত ১০৫ বলে তিনি সেঞ্চুরির দেখা পান।

উল্লেখ্য, ২০০৮ সালে ওয়ানডে ক্রিকেটে অভিষেক হওয়ার পর জাতীয় দলে আসা যাওয়ার মধ্যেই ছিলেন ইমরুল। এই আট বছরে ইমরুল খেলেছেন ৬০টি ওয়ানডে। অভিষেক হওয়ার পর শুধু মাত্র ২০১২ ও ২০১৩ সালে জাতীয় দলের বাইরে ছিলেন। ওই দুই বছরে ১৮টি ম্যাচ খেলে তিনটি হাফসেঞ্চুরি এসেছিল তার ব্যাট থেকে। সর্বোচ্চ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৯৩ রান।

ওই দুই বছর বেশ পরিশ্রম করে ফের ফেরেন জাতীয় দলে। ২০১২-১৩ মৌসুমে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের হয়ে খেলে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংগ্রাহক হয়েছিলেন তিনি। এক সেঞ্চুরি ও চার হাফসেঞ্চুরিতে করেছিলেন ৬৫৫ রান। ওই মৌসুমে ভাল ক্রিকেট খেলার ফল স্বরূপ সুযোগ হয় ২০১৪ সালের এশিয়া কাপে। যদিও মাত্র একটি ম্যাচে মাঠে নামার সুযোগ পান তিনি। সুযোগ পেয়েই ৫৯ রানের ইনিংস আসে তার ব্যাট থেকে।

এশিয়া কাপ শেষে ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত হয় ভারতের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ। অথচ এশিয়া কাপে একটি মাত্র ম্যাচে সুযোগ পেয়ে ভালো খেলা ইমরুলের সুযোগ হয়নি ভারতের বিপক্ষে ১৪ জনের স্কোয়াডে। এরপর ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে সুযোগ পেলেও ভালো খেলতে পারেননি তিনি। ১০৪ সালের শেষ দিকে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে পাঁচটি ওয়ানডে খেললেও ইমরুল সুযোগ পান একটি ওয়ানডে। সেখানে অবশ্য ভালো করতে পারেননি তিনি। স্বাভাবিক ভাবেই অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড বিশ্বকাপে স্কোয়াডে ছিলেন না ইমরুল।

কিন্তু এনামুলের ইনজুরিতে ভাগ্য খুলে ইমরুলের। একদিনের নোটিশে উড়াল দেন অস্ট্রেলিয়ায়। ফিরলেন অবশ্য ব্যর্থ হয়েই। এরপর ঘরের মাঠে পাকিস্তান-ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট স্কোয়াডে থাকলেও ছিলেন না ওয়ানডে দলে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে গত বছরের শেষের দিকে ওয়ানডে সিরিজে ব্যাক টু ব্যাক হাফসেঞ্চুরি পেয়েছিলেন তিনি।

উল্লেখ করার মতো আরও বিষয় হলো এই ইংল্যান্ডের বিপক্ষেই ২০১১ বিশ্বকাপে জয়ের নায়ক ছিলেন এই ইমরুল। হয়তো তার ব্যাটেই ইংলিশদের বিপক্ষে বাংলাদেশের চতুর্থ জয়টি ধরা দেবে!



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :