দুপুর ১:৫২, বুধবার, ২৪শে মে, ২০১৭ ইং
/ ক্রিকেট / চট্টগ্রাম টেস্টের দল নির্বাচনের ব্যাখ্যা দিলেন নির্বাচকরা
চট্টগ্রাম টেস্টের দল নির্বাচনের ব্যাখ্যা দিলেন নির্বাচকরা
অক্টোবর ১৭, ২০১৬

আগামী বৃহস্পতিবার ইংলিশদের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। প্রথম টেস্টটি শুরু হওয়ার আগে রবিবার এম এ আজিজ স্টেডিয়ামে চট্টগ্রাম টেস্টের দল ঘোষণা করেছেন প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু। এছাড়া নির্বাচক হাবিবুল বাশার ও নির্বাচক কমিটিতে থাকা প্রধান কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহেও উপস্থিত ছিলেন।

এদিন দল নির্বাচনের ক্ষেত্রে পারফরম্যান্সকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রধান নির্বাচক, ‘আমরা অনেক দিন ধরে টেস্ট খেলি না। কিছু ক্ষেত্রে আমরা পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করেছি, কিছু ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা।’

দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজে খেলা সর্বশেষ স্কোয়াড থেকে ৬টি পরিবর্তন হয়েছে চট্টগ্রাম টেস্টের স্কোয়াডে। লিটন কুমার দাস, মুস্তাফিজুর রহমান ও মোহাম্মদ শহীদ ইনজুরির কারণে মূলত বাদ পড়েছেন। অন্যদিকে রুবেল হোসেন, জুবায়ের হোসেন লিখন ও নাসির হোসেনকে বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।

তাদের বাদ দিয়ে নির্বাচকরা বেছে নিয়েছেন তরুণ ক্রিকেটারদের। এই কারণেই চট্টগ্রাম টেস্টে চারজনের প্রথমবারের মতো সুযোগ হয়েছে। টেস্টে শুভাগত হোমের অন্তর্ভুক্তি বাড়তি প্রশ্ন যোগ করেছে। শুভাগত হোম সর্বশেষ দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে খেলা দুই টেস্টের একটিতে ছিলেন না। সর্বশেষ প্রিমিয়ার লিগে এবং জাতীয় লিগের দুই রাউন্ডে আহামরি কোনও পারফরম্যান্সও করেনি। ব্যাটিংয়ের চেয়ে কিঞ্চিৎ বল হাতেই বেশি কার্যকরী শুভাগত। দলে নেওয়ার ব্যাখ্যায় নির্বাচকরা বলেছেন তাকে দলে সুযোগ দেওয়া হয়েছে অভিজ্ঞতার কারণেই, ‘শুভাগত অভিজ্ঞতার কারণেই সুযোগ পেয়েছেন। ইংল্যান্ড দলের কথা চিন্তা করে অফ স্পিনার জরুরী হয়ে পড়েছিল। ওদের বাঁহাতি অনেক ব্যাটসম্যান আছে। সে হিসেবে দুই জন অফ স্পিনার দলে রেখেছি। মূলত মিরাজের সঙ্গে শুভাগতকে ডাকা হয়েছে।’

দলে দুইজন পেসার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। শফিউল ইসলাম দুই বছর পর টেস্ট ক্রিকেটে ফিরেছেন। অন্যজন তরুণ পেসার কামরুল ইসলাম রাব্বি। তাদের প্রসঙ্গে প্রধান নির্বাচক বলেছেন, ‘আমরা আগের টেস্টগুলোতেও এভাবেই দল করেছি। যেখানে উইকেট ফ্ল্যাট সেখানে দুই জন পেস বোলার নিয়েই আমরা খেলব।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘রাব্বী অনেক দিন ধরে এনসিএল, বিসিএল খেলছে। পুরনো বলে জোরে বল করার ক্ষমতা আছে। এখনো ফ্ল্যাট উইকেট, লো ট্র্যাক সেজন্য ওকে বিবেচনা করা হয়েছে।’

চলতি বছর যুব বিশ্বকাপে নেতৃত্ব দেওয়া মেহেদী হাসান মিরাজ প্রথমবারের মতো সুযোগ পেয়েছেন। জাতীয় দলে খেলার মতো প্রস্তুত বলেই সুযোগ দেওয়া হয়েছে তাকে, ‘অনূর্ধ্ব-১৯ এবং ঘরোয়া ক্রিকেটেও যথেষ্ট ভালো খেলেছে। সে হিসেব সুযোগ দিয়েছি। আমাদের মনে হচ্ছে দীর্ঘ পরিসরের ক্রিকেটে ওর কাছ থেকে অনেক কিছু পাওয়ার আছে। তারও দেওয়ার আছে অনেক কিছু। সে জন্যই তাকে দলে নেওয়া। দলে যখন নিয়েছি অবশ্যই প্রস্তুত।’

ইনজুরি থেকে ফিরলেও লিটনের ফিটনেসের অবস্থা ভালো নয়। তার জায়গাতেই সুযোগ পেয়েছেন নুরুল হাসান সোহান। তাকে দলভুক্ত করা প্রসঙ্গে নান্নু বলেছেন, ‘এখনও খেলার মতো স্কিল ফিটনেস এখনো আসেনি। রিকভারি করেছে ইনজুরি থেকে। এখনো শতভাগ ফিট নয়। সেজন্য দ্বিতীয় উইকেট কিপার হিসেবে সুযোগ পেয়েছেন সোহান।’

প্রায় একই বক্তব্য সোহান প্রসঙ্গে রেখেছেন হাথুরুসিংহে, ‘দলে আমরা দুজন উইকেট কিপার রেখেছি কারণ যদি ম্যাচের দিন সকালে কারও কিছু হয় তখন তো কাউকে লাগবে। এই মুহূর্তে মুশফিকই আমাদের কিপার। সোহান দেশের অন্যতম ভালো কিপার, লিটনও ভালো। তবে সে ইনজুরিতে। সেজন্য সোহান সুযোগ পেয়েছে।’

সৌম্যর আত্মবিশ্বাস ফিরে পেতেই তাকে সুযোগ দেওয়া হয়েছে বলে জানান হাথুরুসিংহে, ‘গত টেস্ট স্কোয়াডে সে ছিল। আমরাও তার ফর্ম নিয়ে চিন্তিত। আত্মবিশ্বাস ফিরে পেতেই ওকে বেশি সুযোগ দিচ্ছি। এখনও সে ভালো খেলোয়াড়। ফর্ম খারাপ হলেও সেটা সাময়িক।’

সাব্বিরকে টেস্ট স্কোয়াডে সুযোগ দিয়েই ভাবনা শেষ করেননি হাথুরুসিংহে। তাকে কীভাবে সেরা একাদশে সুযোগ দেওয়া যায় সেই ভাবনাটাও কাজ করছে প্রধান কোচের, ‘এখন আমাদের হাতে অনেক অপশন। এক জায়গার জন্য অনেক খেলোয়াড় থাকা ভালো। সাব্বিরকে নিয়ে আমরা সিরিয়াসলি ভাবছি, কীভাবে তাকে একাদশে সুযোগ দেওয়া যায়।’

সবশেষে সংবাদ সম্মেলনে তাসকিন প্রসঙ্গ উঠে আসে। টেস্টে তাসকিনকে নিয়ে আপাতত ভাবনা না থাকলেও ভবিষ্যতে ঠিকই রয়েছে। এই কারণেই লাল বলে তাসকিন কেমন, সেটা দেখতেই বিসিবি একাদশের হয়ে তাকে দ্বিতীয় প্রস্তুতি ম্যাচে সুযোগ দেওয়া হয়েছে। হাথুরুসিংহে এর ব্যাখ্যায় বলেছেন, ‘ওকে টেস্টে সুযোগ দেওয়া হবে বলে নেওয়া হয়নি। নেওয়া হয়েছে সাদা পোষাকে সে কেমন করে দেখার জন্য, চর্চার মধ্যে রাখার জন্য।’



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :