রাত ২:২৪, শুক্রবার, ২২শে জুন, ২০১৭ ইং
/ ক্রিকেট / আগ্রাসী স্টোকসেই টাইগারদের লক্ষ্যচ্যুতি
আগ্রাসী স্টোকসেই টাইগারদের লক্ষ্যচ্যুতি
অক্টোবর ৭, ২০১৬

দুইবার জীবন পেয়ে নিজের প্রথম একদিনের ওয়ানডে শতক অর্জন করে ইংল্যান্ডকে লড়ার মতো একটা সংগ্রহ দাঁড় করিয়ে দিয়েছেন বেন স্টোকস। ৬৩ রানে তিন উইকেট হারিয়ে ইংল্যান্ড যখন খাদের কিনারায় তপ্ত শ্বাস নিচ্ছে তখন স্টোকসই হন তাদের ত্রাণকর্তা। তার গড়ে দেওয়া মঞ্চেই তরতর করে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড।

৩১ ওভারের দ্বিতীয় বলে তাসকিন আহমেদের বলে অনড্রাইভ করেছিলেন স্টোকস; টাইমিং ভালো ছিল না। সেই সঙ্গে বল পায়নি পর্যাপ্ত গতি। তাই মিডঅনে দাঁড়ানো মাহমুদউল্লাহর জন্য সহজ ক্যাচ হলেও বল একটি নিচু হয়ে যাওয়াতে মাহমুদউল্লাহ তা লুফে নিতে পারেননি।

ক্যাচ ছাড়ার ঘটনা ঘটেছিল আরও একবার। স্টোকসের রান তখন ছিল ৬৯। দুই রান পরে মাশরাফির বলে অফস্টাম্পের বাইরে স্ল্যাপ করেছিলেন স্টোকস। ডিপ কাভারে দাঁড়ানো মোশাররফ রুবেল বল হাতে নিয়েও ফেলে দেন।

এরপরেই শুরু হয় আলোচনা। হতে পারে গবেষণাও। কারণ বেন স্টোকসের মতো ব্যাটসম্যানকে তিন রানে দুই বার জীবন দেওয়ার ঘটনায় পরিণতি কী হবে সেটি গবেষণারই বিষয়!

এরপর বেন স্টোকস প্রথমে যা অর্জন করেন তা হলো ওয়ান-ডে-তে তার সর্বাধিক রানের ইনিংসটি। ‍এর আগে পাকিস্তানের বিপক্ষে কার্ডিফে করা ৭৫ রান ছিল তার সর্বাধিক সংগ্রহ। কিন্ত তিনি থামবার পাত্র ছিলেন না। বীর দর্পে এগিয়ে চলেন নিজের প্রথম ওডিআই সেঞ্চুরির দিকে। ওই ক্যাচ ফেলে না দিলে ইংল্যান্ডের চতুর্থ উইকেট জুটিটি ভাঙতে পারতো ১৭৪ রানে। কিন্তু সেটি ভাঙে ২১৬ রানে। অর্থ্যাৎ ৪২টি রান বেশি হয় এ জুটিতে। যার ফেল হিসেবে যথাসময়ে স্টোকস অর্জন করে নেন তার প্রথম সেঞ্চুরি।৯৮ বলে আটটি চার ও চারটি ছক্কায় সাজানো ছিল এই ইনিংস।

ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি উদযাপন করছেন স্টোকস। (ছবি: এএফপি)
সবচেয়ে বড় কথা বাংলাদেশ দাপটের সঙ্গে ফিরতে পারতো ম্যাচে; কারণ বেন স্টোকস ছিলেন সেট ব্যাটসম্যান আর দুই বেন (স্টোকস ও ডাকেট) এর মাঝে বেশি বিপদজনক। কিন্তু তাকে ফেরাতে না পারায় ক্রিজে স্টোকসের স্থায়িত্ব ও বাংলাদেশের বোলারদের হতাশা দুটিই অব্যাহত থাকে। সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে ইংল্যান্ডের সংগ্রহ।

স্টোকসের এই গল্পটা ভিন্ন হলেও হতে পারতো! কারণ ১২ বছর বয়সে বাবা জেরার্ড স্টোকসের সঙ্গে নিউজিল্যান্ড ছেড়ে ইংল্যান্ডে পাড়ি জমান। বাবা রাগবি কোচ ছিলেন। তাই স্বাভাবিকভবে ছেলেও শুরুতে রাগবি বল নিয়ে নাড়াচাড়া করতেন। কিন্তু ১৩ বছর বয়সে ভেবে দেখলেন ক্রিকেটটাই তার কাছে বেশি উপভোগ্য। তাই ক্রিকেটকেই বেছে নেন পেশা হিসেবে। শেষ পর্যন্ত আগ্রাসী স্টোকস গতবছর লর্ডসে তার জন্মভূমি নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৮৫ বলে সেঞ্চুরি করে হন দ্রুততম ইংলিশ টেস্ট সেঞ্চুরিয়ান। প্রতিভার ঝলক দেখানো শুরু করেন তখন থেকেই। স্টোকস এর আগে ২০১৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দল থেকে বাদ পড়ে শিরোনামে আসেন। ‍ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে একটি টি-টোয়েন্টিতে শূন্য রানে বিদায় নিয়ে ড্রেসিং রুমে এসে বাম হাতে ঘুষি মারেন লকারের ওপর। যেই ঘটনায় তার আঙুল যায় ভেঙে। আর মাঠ থেকেও দূরে থাকতে হয় দেড়মাস।
এই আগ্রাসী মনোভাবই যে বেন স্টোকসের পথচলার শক্তি; তা প্রমাণ করলেন এই সিরিজেও! আর সুযোগ দেওয়া মানেই যে বিপদ, সেটিও হাড়ে হাড়ে টের পেল বাংলাদেশ!



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :