রাত ৩:১৯, রবিবার, ২৯শে এপ্রিল, ২০১৭ ইং
/ ক্রিকেট / বাংলাদেশের রোমাঞ্চকর জয়
বাংলাদেশের রোমাঞ্চকর জয়
সেপ্টেম্বর ২৫, ২০১৬

সংপ্তি স্কোর : আফগানিস্তান ৫০ ওভারে ২৫৮/৯ (বাংলাদেশ ২৬৫/১০)
স্পোর্টস রিপোর্টার : ম্যাচ এতটা কঠিন হবে কে ভেবেছিল! ২৬৬ রানের ল্েয খেলতে নেমে ম্যাচকে একেবারে নিজেদের হাতের মুঠোয় নিয়ে ফেলেছিলো আফগানিস্তান। অবশেষে আফগানদের হাতের মুঠো থেকে ম্যাচটা বের করে আনলেন সাকিব-তাইজুল-মাশরাফি এবং তাসকিন আহমেদ। শ্বাসরূদ্ধকর একটি জয় উপহার দিলেন তারা বাংলাদেশকে।
শেষ মুহূর্তেই ম্যাচটির মোড় ঘুরলো বাংলাদেশের দিকে। শেষ দিকে এসে তাসকিন আহমেদই হলেন নায়ক। এক ওভারে দুটি এবং শেষ ওভারে এক উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের মুষড়ে পড়া দর্শকদের মুখে হাসি ফোটালেন তিনি। বাংলাদেশের করা ২৬৫ রানের জবাবে আফগানিস্তানের ইনিংস গিয়ে শেষ হলো ২৫৮ রানে। ফলে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে জয় এলো ৭ রানে।
তাসকিনের করা শেষ ওভারে প্রয়োজন ছিল ১৩ রান। বোলিং অ্যাকশন শুধরে ফেরা এই ফাস্ট বোলার দেন মাত্র ৫ রান। নিজের শেষ ২ ওভারে তাসকিন নেন ৪ উইকেট! টানা তিনটি ফুল লেংথ বল, চতুর্থটি অফ স্টাম্পের বাইরে স্লোয়ার। সেটাই তাসকিন আহমেদকে এনে দেয় মোহাম্মদ নবির উইকেট। সীমানার কাছে ছুটে গিয়ে নবির ক্যাচ তালুবন্দি করেন সাব্বির রহমান। তাসকিনের সেই ওভারের শেষ বলে আসগর স্তানিকজাইয়ের ক্যাচ তালুবন্দি করেন মাহমুদউল্লাহ।
নিজের শেষ ওভারে আঘাত হেনে বাংলাদেশের আশা বাঁচিয়ে রাখেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। অধিনায়কের বলে নাজিবুল্লাহ জাদরানের ক্যাচ গ্লাভসবন্দি করেন মুশফিকুর রহিম। নিজের শেষ ওভারে হাশমতুল্লাহ শাহিদিকে ফেরান তাইজুল ইসলাম। তার বলে সৌম্য সরকারের ক্যাচে পরিণত হওয়ার আগে ১১০ বলে ৭২ রান করেন হাশমতুল্লাহ।
সাকিব আল হাসানের বলে স্টাম্পড হয়ে ফিরেন রহমত শাহ (৯৩ বলে ৭১ রান)। এগিয়ে এসে বল পাননি এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান। সুযোগ কাজে লাগাতে কোনো ভুল করেননি মুশফিকুর রহিম। ভাঙে ১৪৪ রানের জুটি। রহমত শাহর পর অর্ধশতক করেন হাশমতুল্লাহ শাহিদি। ওয়ানডেতে এটাই তার প্রথম অর্ধশতক।
দ্রুত দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানকে হারানো আফগানিস্তান প্রতিরোধ গড়ে রহমত শাহ ও হাশমতুল্লাহ শাহিদির ব্যাটে। তৃতীয় উইকেটে এই দুই জনে গড়েন শতরানের জুটি। রুবেল হোসেনকে ছক্কা হাঁকিয়ে অর্ধশতক করেন রহমত। বোলিংয়ে এসেই আঘাত হানেন সাকিব আল হাসান। তার বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফিরেন আফগানিস্তানের উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান শাবির নুরি (২৪ বলে ৯)। আগের বলেই এগিয়ে এসে এক ছক্কা হাঁকানো মোহাম্মদ শাহজাদকে ফেরান মাশরাফি বিন মুর্তজা। বাংলাদেশ অধিনায়কের বলে ব্যাটের কানা ছুঁয়ে জমা পড়ে মুশফিকুর রহিমের গ্লাভসে। শূন্য রানে জীবন পাওয়া শাহজাদ ২১ বলে করেন ৩১ রান। মাশরাফি বিন মুর্তজার বলে কঠিন একটু সুযোগ হাতছাড়া করেন রুবেল হোসেন। শাবির নুরির ক্যাচ অনেকটা দৌড়েও তালুবন্দি করতে পারেননি তিনি। মিডঅন থেকে লংঅনের কাছে পেছন দিক থেকে আসা বল তার হাত ফস্কে যায়। দ্বিতীয় ওভারেই মোহাম্মদ শাহজাদকে জীবন দিলেন ইমরুল কায়েস। তাসকিন আহমেদের বলে স্লিপে ক্যাচ তালুবন্দি করতে পারেননি তিনি।
এর আগে তামিম ইকবাল, মাহমুদউল্লাহর অর্ধশতকে আফগানিস্তানের বিপে প্রথম ওয়ানডেতে লড়াইয়ের পুঁজি পেয়েছে বাংলাদেশ। মঞ্চ প্রস্তুত করে দিয়েছিলেন এই দুই ব্যাটসম্যান। তবে শেষের দিকে সাকিব আল হাসান ছাড়া আর কেউ জ্বলে উঠতে না পারায় সংগ্রহটা আরও বড় হয়নি স্বাগতিকদের। জয়ের জন্য ২৬৬ রানের ল্য পেয়েছে আফগানরা। গতকাল মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শেষ বলে ২৬৫ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। ১০ মাস পর ওয়ানডে খেলতে নামা বাংলাদেশের শুরুটা ছিল নড়বড়ে। পঞ্চম বলেই ফিরে যান সৌম্য সরকার। দৌলত জাদরানের বল পুল করতে গিয়ে টাইমিংয়ে গড়বড় করে মিডউইকেটে সহজ ক্যাচ দেন এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।
তিন নম্বরে নামা ইমরুল কায়েসের শুরুতে কয়েকবার বেঁচে গেছেন অল্পের জন্য। ১৩, ১৭, ২১ রানে ক্যাচ দিয়ে ফিরতে পারতেন তিনি। তবে ধীরে ধীরে নিজেকে ফিরে পাওয়া এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যানের সঙ্গেই প্রতিরোধ গড়েন তামিম। বিপজ্জনক হয়ে উঠা দ্বিতীয় উইকেট জুটি ভাঙেন মোহাম্মদ নবি। দ্বিতীয় স্পেলে ফেরা এই অফ স্পিনারের বল ইমরুলের ব্যাটের কানায় লেগে প্যাড হয়ে স্টাম্পে আঘাত হানে। তৃতীয় উইকেটে মাহমুদউল্লাহর সঙ্গে ৭৯ রানের আরেকটি কার্যকর জুটি উপহার দেন তামিম। রশিদ খানের বলে কাট করে চার হাঁকিয়ে ৬৩ বলে পৌঁছান অর্ধশতকে। মিরওয়াস আশরাফের বল সীমানা ছাড়া করতে গিয়ে লংঅফে ক্যাচ দিয়ে শেষ হয় তার দারুণ ইনিংসটি। ৯৮ বলে ৯টি চারে ৮০ রান করার পথে দেশের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৯ হাজার রানের মাইলফলক অতিক্রম করেন তামিম। বিশ্বের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার সাকিবের সঙ্গে মাহমুদুউল্লাহর ৪০ রানের জুটিতে দুইশ’ পার হয় বাংলাদেশের সংগ্রহ। দৌলতের বলে লংঅন ও মিডউইকেটের মাঝ দিয়ে দারুণ এক চারে ৬৫ বলে অর্ধশতকে পৌঁছান এই মিডলঅর্ডার ব্যাটসম্যান। রানের গতি বাড়ানোর চেষ্টায় নবির বলে সীমানায় মিরওয়াইস আশরাফকে ক্যাচ দিয়ে ফিরেন মাহমুদউল্লাহ। ৭৪ বলে খেলা তার ৬২ রানের ইনিংসটি গড়া ৫টি চার ও দুটি ছক্কায়।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :