রাত ১২:০৯, মঙ্গলবার, ২৭শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ইং
/ ফুটবল / নারী ফুটবলারদের কাছে ‘ক্ষমা’ চাইলেন সেই শিক্ষক
নারী ফুটবলারদের কাছে ‘ক্ষমা’ চাইলেন সেই শিক্ষক
সেপ্টেম্বর ১৬, ২০১৬

অবশেষে বোধোদয় হয়েছে ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার কলসিন্দুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাময়িক বরখাস্ত শিক্ষক জোবেদ আলী তালুকদারের।

এএফসি অনুর্ধ্ব-১৬ নারী ফুটবলের বাছাই পর্বের গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে এশিয়ার সেরা আটে স্থান করে নেওয়া সানজিদা-মার্জিয়া-তাসলিমাদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন ওই স্কুলের শরীর চর্চার শিক্ষক।

দু’দিন আগে ১৪ সেপ্টেম্বর, বুধবার বিকেলে স্থানীয় কলসিন্দুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে তাদের সঙ্গে দেখা করে ক্ষমা চান তিনি।

জোবেদ আলী এও বলেছেন, ‘একদিনের জন্য হলেও আমি তোদের শিক্ষক। তোদের কাছে ক্ষমা চাইতাছি। আমারে বাঁচা।’

শুক্রবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে মোবাইল ফোনে এ কথা জানান গোলরক্ষক তাসলিমার বাবা সবুজ মিয়া।

তিনি জানান, এলাকাবাসী ও উপজেলা প্রশাসন বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে উদ্যোগ নিয়েছেন। সুষ্ঠুভাবে সমাধান হলে কোনো আপত্তি নেই তাদের।

‘মারপিটের অভিযোগ মামলা করেছেন, স্কুল অ্যান্ড কলেজের গভর্নিং বডি জড়িত জোবেদ আলীকে সাময়িক বরখাস্তও করেছেন, এখন মীমাংসা কেন?’

এমন প্রশ্নের উত্তরে তাসলিমার বাবা বলেন, ‘গ্রামের মুরব্বীরা আর আওয়ামী লীগ নেতারা মীমাংসার পক্ষে।
ঘটনার দু’দিন পর তারা বসেন। তাদের কথায় আমিও মীমাংসার পক্ষে।’

‘তবে আমাদের মেয়েদের ও প্রতিষ্ঠানের যাতে কোনো ক্ষতি না হয় সেইভাবে মীমাংসা করতে হবে। আমরা ৯ জন গার্ডিয়ান এ ব্যাপারে একমত।’

গত এক সপ্তাহেও ওই শিক্ষক গ্রেফতার না হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ঘটনার দিন পুলিশের তৎপরতা ছিলো। এখন জোবেদ আলী তালুকদার প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।’

‘আমাদের মেয়েদের কাছে গিয়ে দুইদিন আগে ক্ষমাও চাইছেন তিনি (জোবেদ আলী)। মেয়েরা বলেছে- স্যার তাসলিমার বাবার কিছু করার নাই। সবাই মীমাংসা করলে, তাসলিমার বাবাও মীমাংসা করবেন।’

এ বিষয়ে নারী ফুটবল দলের গোলরক্ষক তাসলিমার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। আর এ নিয়ে কথা বলতে আগ্রহী নন অন্যান্য খেলোয়াড়রাও।

তবে ফুটবলার সানজিদা বলেন, ‘এ নিয়ে কথা বলতে নিষেধ আছে। স্যার সেদিন আমাদের ঠাণ্ডা (কোমল পানীয়) খাইয়েছেন।’

যোগাযোগ করা হলে স্থানীয় কলসিন্দুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ জালাল উদ্দিন বলেন, ‘আমিও শুনেছি শিক্ষক জোবেদ আলী তালুকদার তাদের (খেলোয়াড়) কাছে ক্ষমা চেয়েছেন।’

কুমিল্লায় অনুষ্ঠেয় গ্রীষ্মকালীন ফুটবল প্রতিযোগিতায় খেলতে অস্বীকৃতি জানান বাংলাদেশ অনুর্ধ্ব-১৬ নারী ফুটবল দলের ৯ খেলোয়াড়। এ নিয়ে গত ৭ সেপ্টেম্বর কলসিন্দুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে টিসি দেওয়ার হুমকি ও গোলরক তাসলিমার বাবাকে মারপিট করেন শরীর চর্চা শিক্ষক জোবেদ আলী তালুকদার।

এ ঘটনায় ৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় কলেজের গভর্নিং বডির জরুরি সভায় শরীরচর্চা শিক্ষক জোবেদ আলীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

ঘটনা তদন্তে সভায় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। একই সঙ্গে সাত কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলে গভর্নিং বডি।

তবে ঈদের ছুটি থাকায় এখনও কাজই শুরু করতে পারেনি তদন্ত কমিটি।

এছাড়া বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সংবর্ধনার জন্যে ঢাকায় অবস্থান করছেন নারী ফুটবল দলের সদস্যরাও। শুক্রবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় যান তারা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, কিছুদিনের মধ্যেই শুরু হবে সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের ক্যাম্প। এ অবস্থায় ঈদের ছুটি শেষেও ফুটবলারদের পাচ্ছে না তদন্ত কমিটি।

তবে কলেজের অধ্যক্ষ জালাল উদ্দিন বলছেন, ‘তদন্ত শেষেই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিপোর্ট দেওয়া হবে।’



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :