সকাল ৭:১৫, বৃহস্পতিবার, ২৫শে মে, ২০১৭ ইং
/ রিও অলিম্পিক / ভুল শুধরে এগিয়ে যেতে চান বাকী
ভুল শুধরে এগিয়ে যেতে চান বাকী
আগস্ট ৯, ২০১৬

বাংলাদেশের পদক পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। এটা যেনেও বাংলাদেশের সাত প্রতিযোগী অংশ নিচ্ছেন রিও অলিম্পিক গেমসে। বরাবরের মত এবার অভিজ্ঞা অর্জনই যেখানে প্রধান, সেখানে সামান্য ভালোর করার আশা ছিল শ্যূটার আব্দুল্লাহ হেল বাকী ও গলফকার সিদ্দিকুর রহমানকে নিয়ে। প্রথম জন ব্যর্থ হয়েছেন। পারেননি নিজের সেরা টাইমিংটাও করতে। গত মঙ্গলবার রিও অলিম্পিক শ্যূাটিং সেন্টারে ব্যক্তিগত ১০ মিটার এয়ার রাইফেলে অংশ নেন বাকী। ৬২১.২ স্কোর করে ৫০ প্রতিযোগীর মধ্যে হয়েছেন ২৫তম। তার সেরা টাইমিং ৬২৪.৭।

 
১০ মিটার এয়ার রাইফেলে একজন শ্যুটার দাঁড়িয়ে ১ ঘণ্টা ১৫ মিনিটের মধ্যে ১০টি করে একটি সিরিজের মোট ছয়টি সিরিজ (৬০টি গুলি) গুলি ছুঁড়তে পারেন। আব্দুল্লাহ হেল বাকী তার প্রথম সিরিজে ১০৩.৮, দ্বিতীয়টি ১০৪.০, তৃতীয়টি ১০৫.৪, চতুর্থটিতে ১০৩.৬, পঞ্চমটিতে ১০০.৬ এবং ষষ্ঠ ও সর্বশেষটিতে ১০৩.৮ স্কোর করেন।
সান্তÍনা তিনি কমনওয়েলথ গেমসে স্বর্ণপদক জয়ী ভারতীয় শ্যুটার গগন নারাংয়ের সঙ্গে সমানতালে পাল্লা দিয়েছেন। গগনও ছিলেন বাকীর কাতারে। অবশ্য শুরুটা ভালোই ছিল। প্রায় ঘণ্টাখানিক টানা টিগারে আঙ্গুল চেপে হঠাৎই মনোযোগ যেন হারিয়ে বসেন আব্দুল্লাহ হেল বাকী। আর তাতেই সবশেষ। উৎসাহ দিকে শ্যূটিং সেন্টারে এসেছিলেন  নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস। কিন্তু তাতেও কাজ হয়নি।  কোয়ালিফিকেশন থেকে বিদায় হওয়ায় চোখেমুখে রাজ্যের হতাশা বাকী। ৬২১.২ স্কোর করে বাছাইয়ে ৫০ জনের মধ্যে ২৫তম হওয়ায় রিও অলিম্পিকই শেষ হয়ে গেল প্রথম দিনেই। তাই হতাশায় ভুগছেন তিনি, -‘আমি হতাশ। ভাবিনি এতটা খারাপ হবে। আগের দিনও প্র্যাকটিসেও ৬২৬-৬২৭ স্কোর করেছিলাম। কিন্তু আজ হলো না।

 

 
কোয়ালিফাই না করতে পারার পাশাপাশি নিজের সেরা টাইমিং (৬২৪.৮) ছুঁতে না পারাটাও নিরাশ করেছে তাকে। বললেন, পদক নিয়ে ভাবেনি। চিন্তা ছিল কিভাবে নিজের সেরা টাইমিংটা করা যায়। আমার সব মনোযোগ ছিল  এটাই। এটা অলিম্পিক নাকি অন্য কোনো প্রতিযোগিতা তাও ভাবিনি।’
নিজের সেরা স্কোর দিয়েও অবশ্য পদকের লড়াইয়ে নামা হতো না বাকীর। শীর্ষ যে আটজন পৌঁছেছেন চূড়ান্ত লড়াইয়ে, তাদের মধ্যে সবচেয়ে কম স্কোরটাও ৬২৫.৫। গত অলিম্পিকের চ্যাম্পিয়ন ভারতের অভিনব বিন্দ্রা সপ্তম হয়েছেন ৬২৫.৭ স্কোর করে। শীর্ষে থেকে মূল আসরে গেছেন ইতালির নিকোলো ক্যাম্প্রিয়ানি। কোচ ক্রিস্টিয়েনসেন শিষ্য বাকী চেয়েছিলেন চাপমুক্ত থাকার। শুরুত শীর্ষ পাঁচে ঘোরাঘুরি করা বাকীকে পিছিয়ে গেলেন শেষ পর্যন্ত সেই চাপেই। জানালেন, ‘মনঃসংযোগের অভাব নাকি অন্য কিছু, আমি আসলে বলতে পারব না কেন এমনটা হলো। প্রথম ৫০ মিনিট পর্যন্ত সব ঠিকঠাকই হচ্ছিল। আমি ইনজয়ও করছিলাম। কিন্তু কিছু ভুল হয়েছে এরপরই।’ সাথে যোগ করলেন, আগামীতে এই ভুলগুলো শুধরে নিতে চাই।

 

 
আগামী কিছুদিন কোনো আন্তর্জাতিক ইভেন্ট নেই বাকীর। তাই লম্বা সময় পাবেন নিজেকে ঝালিয়ে নিতে। আরচ্যার শ্যামলী রায়ের মত তিনিও অভিযোগ করলেন রিওতে এসে পর্যাপ্ত অনুশীলন করতে না পারর। নানান অসংহতির কথা জানালেন বাংলাদেশ শ্যূটিং ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ইন্তেখাবুল হামিদ অপু। বললেন, রিও অলিম্পিকের ব্যবস্থাপনায় ত্রুটি রয়েছে। শ্যামলীর পর বাকীর অভিযোগ। কিন্তু সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য বাংলাদেশ থাকা রিওতে আসা কর্মকর্তাদের ততটা তৎপরতা দেখা যায়নি।

 
মূল মিডিয়া সেন্টার থেকে ৪৪ কিলোমিটার দূরে পাহাড়ঘেরা দেওদোর শ্যুটিং সেন্টাওে বিশ্বকাপ উপলক্ষে মাস কয়েক আগে ঘুরে গিয়েছিলেন বাকী। চেনা রেঞ্জও কেন হলো না টার্গেট পুরন? জানতে চাইলে বললেন, ‘একবার দেখে গিয়েছি। তবে চীন-কোরিয়ার অনেক নামিদামি শ্যুটাররা দিন বিশেক আগে এখানে এসেছে। আরো আগে এখানে আসতে পারলে হয়তো ভালো হতো।’
দুর্বলতা রয়েছে আমাদের ফেডারেশনের সামর্থ্যওে। শ্যূটিং ফেডারেশন বিদেশি কোচ নিয়োগ দিয়েছে বেশি দিন হয়নি। বাংলাদেশের অন্য ক্রীড়াবিদদের মতো তাই বাকীরও সর্বোচ্চ প্রস্তুতি হয়নি। তাই বাকীর অনুরোধ ফেডারেশনের কাছে,-‘ফেডারেশন আমার জন্য অনেক করেছে। আমার অনুরোধ থাকবে অলিম্পিকের পরও যেন এই সহায়তা অব্যাহত থাকে। নিয়মিত যেন বিশ্বমানের টুর্নামেন্টগুলোয় অংশগ্রহণের সুযোগ পাই।’ বাকী আশ্বস্ত করেছেন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক। বলেছেন, তিনি চেষ্টা করবেন বাকী সহ অন্য শ্যূটারদের সুগোযাসুবিধা নিশ্চিত করার।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :