সন্ধ্যা ৬:০২, বুধবার, ২৩শে আগস্ট, ২০১৭ ইং
/ রিও অলিম্পিক / ভালো করার ব্যাপারে আশাবাদী গলফার সিদ্দিক
ভালো করার ব্যাপারে আশাবাদী গলফার সিদ্দিক
আগস্ট ১০, ২০১৬

চলতি রিও অলিম্পিক গেমসে ২০৬টি দেশ অংশগ্রহণ নিচ্ছে। যার মধ্যে ৮২ টি দেশ আছে যার এখনো একাধিকবার অলিম্পিকে অংশ নিয়ে কোনও পদক পায়নি। বাংলাদেশও রয়েছে এ দেশের তালিকায়। তবে অলিম্পিকে রয়েছে বাংলাদেশের অনভিপ্রেত একটি রেকর্ড। আর তা হলো হলো কোনও পদক না জেতা দেশের মধ্যে বাংলাদেশ হচ্ছে সবচেয়ে জনবহুল দেশ। এবার বাংলাদেশের ৭ প্রতিযোগী অংশ নিচ্ছেন রিও অলিম্পিকে। ১৯৮৪ অলিম্পিক থেকে অংশ নেয় বাংলাদেশের পদক গড়া এবারও কাটার সম্ভাবনা ক্ষীন। শ্যূটার আব্দুল্লাহ হেল বাকী ৮ আগস্ট তার ১০ মিটার এয়ার রাইফেলে অংশ নিয়ে ৫০ জনে ২৫তম হয়ে বিশ্বের সেরা ক্রীড়া আসর থেকে বিদায় নিয়েছেন। অ্যারচার শ্যামলী রায়ের সম্ভাবনা নেই। ৬৪ প্রতিযোগীর মধ্যে তিনি হয়েছেন ৫৩ তম। অংশ নিচ্ছেন দুই সাতারু ও এ্যাথলেট। আশাবাদী হওয়ার মত কোন কথা তারও বলতে পারছেন না। ‘অলিম্পিকে অংশ নেয়ায় বড় কথা’- সেটাই মেনে ওয়ালকার্ডের বদলে রিও অলিম্পিকে তারাও অংশগ্রহনকারী। আশাবাদী হওয়ার জায়গা সত্যিকার অর্থে রয়েছে এক জায়গায়- তিনি দেশ সেরা গলফার সিদ্দিকুর রহমান। তার মানে তিনি কি পদক গড়া মিটাবেন। সম্ভাবনা নেই সেখানেও। তবে তিনি ভালো করে অন্তত একটা মর্যাদাপূর্ন জায়গায় থাকতে পারবেন। এমনটা বিশ্বাস করেন সিদ্দিক নিজেও। রিওতে আসার পর টানা চারদিন অনুশীলন করেছেন তিনি। জানিয়েছেন, বিশ্বমানের  গলফ গ্রাউন্ডে অনুশীলন করতে পেরে তিনি সন্তুষ্ঠ। নিজের প্রস্তুতি নিয়েও বেশ আশাবাদী-মঙ্গলবার দুপুরে অনুশীলন শেষে জানালেন দেশের সেরা এই গলফার। অলিম্পিক গলফ কোর্সের মনোরম পরিবেশও তার খুব মনে ধরেছে।

 

 
এবারই প্রথম অলিম্পিকে অন্তর্ভূক্ত হয়েছে গলফ। ১১২ বছর পর অলিম্পিক গেমসে গলফের প্রথম আসরে নিজের নাম লেখাতে পেরে বেশ খুশিও ২০১০ সালে প্রথম দক্ষিণ এশিয়ান হিসেবে ব্রুনাই ওপেনের শিরোপা জয় করে। এর পর থেকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি সিদ্দিককে। আর বড় কোনো শিরোপা জিততে না পারলেও পিজিএ ট্যুর ও ইউয়োপীয় ট্যুরে অংশ নিয়ে বেশ কয়েকবার ভালো করেছেন। এ বছরই ইউরোপীয় ট্যুরের ২টি আসরে অংশ নিয়ে থেকেছেন ৭ ও ২ নম্বর র‌্যাংকিংয়ে। আর যার সুবাদে বাংলাদেশের প্রথম গলফার হিসেবে সরাসরি অংশ নিচ্ছেন অলিম্পিকে। এবারের আসরে তিনিই এক মাত্র নিজের যোগ্যতায় অলিম্পিকে জায়গা করে নিয়েছেন। বাকিরা সুযোগ পেয়েছেন আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির দয়ায়, ওয়ালকার্ডের মাধ্যমে। ফলে সিদ্দিক নিয়ে দেশবাসী স্বপ্ন দেখছেন। তবে কোনো পদকের কথা বলছেন না সিদ্দিক নিজেও।

 

 
অলিম্পিক ভিলেজ থেকে ফোনে জানালেন, তিনি বেশ আশাবাদী। ভালো করতে পারবেন। বললেন, সব কিছু ঠিকমতই চলছে। এভাবে চললে রেজাল্ট ভালো হবে।
৩২ বছরের এই যুবক বলবয় হিসেবে তার ক্যারিয়ার শুরু করেন ৮ বছর বয়সে। গলফ ক্লাবে এক প্রতিভা অন্বেষ প্রোগ্রামের মাধ্যমে প্রথম নজরে আসেন সিদ্দিক। এর পর পেশাদার গলফার হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করেন ২০০৫ সালে। প্রথম বড় সাফল্য আসে ৫ বছর পর ব্রুনাইয়ে। এরপর দেশসেরা এই গলফার হয়ে উঠেন ‘বাংলাদেশের টাইগার উডস’। তিনি বিশ্বাস করেন, গলফ হচ্ছে মাইন্ড গেমস। এবং কঠোর অনুশীলনই এনে দিতে পারে গলফে সাফল্য। আর তাই রিওতে এসে করে চলেছেন সেই কঠোর অনুশীলন। বাংলাদেশের অন্য প্রতিযোগীদের মুখে অনুশীলন ঘাটতির কথা শোনা গেলেও সিদ্দিকের এই বিষয়ে কোনো অভিযোগ নেই। বললেন, ফেডারেশন ও বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশন থেকেও সাধ্যমত সহযোগিতা পাচ্ছেন। ভালো করার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়াও চাইলেন। বললেন, আমি জানি দেশের সবাই আমার দিকে তাকিয়ে আসে। আমি সাধ্যমত চেষ্টা করবো তাদের সন্তুষ্ট করতে। সাথে যোগ করলেন এত বড় আসরে এবারই প্রথম অংশগ্রহন। তার প্রতিপক্ষরা তার চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন অনেক। এ বিষয়টিও সবার মাথায় থাকতে হবে।

 

 
বিষয়টি মাথায় রাখার মতই। কারণ চাইলেই অলিম্পিকে পদক যেতা যায় না। অলিম্পিক র‌্যাংকিংয়ে ৫৬তম হয়ে সর্বপ্রথম বাংলাদেশি খেলোয়াড় হিসেবে অলিম্পিকে কোয়ালিফাই করা সিদ্দিকুরের বর্তমান বিশ্ব র‌্যাংকিং ৩১০। তার চেয়ে র‌্যাংকিংয়ে এগিয়ে থাকা বহু গলফারই খেলবেন ১১২ বছর পর অলিম্পিক গেমসে ফেরা গলফে। তবুও যেহেতু গলফ হবে ইন্ডিভিজুয়াল ইভেন্ট তাই আশাবাদী সিদ্দিকুর।
১১ আগস্ট স্থানীয় সময় সকাল ১০ টায় গলফ কোর্সে ব্যক্তিগত স্ট্রোকে অংশ নেবেন তিনি। পরের দিনও রয়েছে তার খেলা।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :