ভালো করতে আশাবাদী শ্যামলী

ভালো করতে আশাবাদী শ্যামলী

এম এস সাহাব : রিও অলিম্পিকে টার্গেট ছিল অন্তত ৬৩০ স্কোর করা। কিন্তু তা ছুঁতে পারেননি বাংলাদেশের অ্যারচার শ্যামলী রায়। অবশ্য লক্ষ্যের কাছাকাছি পৌঁছান। মেয়েদের রিকার্ভবো ইভেন্টে ব্যক্তিগত র‌্যাংকিং রাউন্ডে তিনি ৬০০ স্কোর করেন। ৬৪ প্রতিযোগীর মধ্যে হয়েছেন ৫৩ তম। অবশ্য এখানেই শেষ হচ্ছে না। সুযোগ হয়েছে ১/৩২ অ্যালিমিনেশন রাউন্ডে খেলার।

 

আগামী ৮ আগস্ট খেলবেন ‘হেড টু হেড’ রাউন্ডে। শ্যামলী আশাবাদী হেড টু হেডে ভালো করতে পারবেন। শুক্রবার রিও অলিম্পিক গেমসের উদ্বোধনী দিনে সাম্বাড্রাম আরচ্যারি স্টেডিয়ামে নিশানায় তীর ছুঁড়তে নেমেছিলেন বাংলাদেশের এই তরুণী। লক্ষ্য কোন পদকের না। ইচ্ছে ছিল নিজের টার্গেট পুরন করার। শুরুটা সেই অর্থে ভালোই করেছিলেন। প্রথম রাউন্ডের প্রথম চার টার্গেটে পজিশন ছিল ৫৩, ৪৯, ৫২ ও ৫৩। এরপর পরের ২টি টাগের্টে নিশানা ঠিক লাগেনি। ৫৯- এ’র পর পজিশন দাঁড়ায় ৫৫। মোট স্কোর ৩০৩।

 
সামান্য ক্লান্ত শ্যামলী পরের রাউন্ডে শুরুটা খুব একটা ভালো করতে না পারলেও শেষ দুই টার্গেটে নিজের পজিশন ৫৩ এ-ই রাখতে সক্ষম হন। দুই রাউন্ড শেষে তার স্কোর দাঁড়ায় ৬০০। ৬৬৯ স্কোর করে র‌্যাংকিং রাউন্ডে শীর্ষ হন কোরিয়ার চায় মি সান। একই দেশের চ্যাং হাই জিন (৬৬৬) ও কি বো বায়ে (৬৬৩) যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় হয়েছেন।

 
কেন শ্যামলী পারলেন না নিজের টার্গেট ছুঁতে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি রিও’তে আসার পর মাত্র এক দিন আধা বেলা প্র্যাকটিকসের সুযোগ পেয়েছি। তাই সব কিছুর সাথে মানিয়ে নিতে একটু অসুবিধা হচ্ছে।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘তবে আমি আশাবাদী হেড টু হেড এ ভালো করার ব্যাপারে।’
তিনি ১/৩২ অ্যানিমিনেশন রাউন্ড পেরিয়ে র‌্যাংকিংয়ে আরও উপরের দিকে যেতে চান। শ্যামলীর পারফরমেন্সে মোটামুটি সন্তুষ্ট কোচ নিশিত দাশ। তিনি বলেন, ‘লক্ষ্যের খুব কাছে গিয়েছে সে। আশা করি পরের রাউন্ডে সে আরও ভালো করবে।’

 
সাম্বাড্রাম স্টেডিয়ামে শ্যামলীর পাশে ছিলেন শুধু কোচ। রিওতে আসা বাংলাদেশী কোন কর্মকর্তাকে সেখানে দেখা যায়নি। জানতে চাওয়া হয়, সেই সব কর্তারা কি কোন খোঁজ রাখছেন তাদের? কোচ কিছু বললেন না। শ্যামলী কিছু সময় চুপ থেকে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, ‘হ্যাঁ খোঁজ নিচ্ছেন।’ কেউ আসেননি? মুসকি হেঁসে চলে যাওয়ার সময় বললেন, ‘তাদের হয়ত সময় হয়নি।’

 
রিওতে আসা কর্তারা হয়ত সে সময় ব্যস্ত ছিলেন অলিম্পিক গেমসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ানি। মার্চ পাস্টে তাদের দেখাও যায়। অবশ্য বাংলাদেশ আরচ্যারী ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক কাজী রাজীবউদ্দিন আহমেদ চপল ম্যাচ চলাকালেই ঢাকা থেকে কথা বলেছেন কোচের সাথে। নিয়েছেন খোঁজ খবর। এই প্রতিবেদকের সাথেও হয় তার কথা। শ্যামলীর পারফরমেন্সে মোটামুটি তিনি সন্তুষ্ট। জানালেন, ‘অলিম্পিকে কোনো পদক পাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই আমাদের। তবে এখানে অংশ নিতে পেরে শ্যামলীর মনোবল বাড়বে। যা তার ভবিষৎতে কাজে আসবে।’

olympic-04
‘ভবিষৎ’ এর আশায় বরাবরের মত এবারও বাংলাদেশ অংশ নিচ্ছে রিও অলিম্পিক গেমসে। ৭ প্রতিযোগীর মধ্যে শ্যামলীই প্রথম মাঠে নামলেন। সোমবার শ্যুটিং রেঞ্জে পরীক্ষা দেবেন শ্যুটার আব্দুল্লাহ হেল বাকী।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




bangladesherkhela.com 2019
Developed by RKR BD