সন্ধ্যা ৭:৫৬, শনিবার, ২৪শে জুন, ২০১৭ ইং
/ ফুটবল / কিরগিজস্তানকে ১০ গোল দিলো বাংলাদেশের মেয়েরা
কিরগিজস্তানকে ১০ গোল দিলো বাংলাদেশের মেয়েরা
আগস্ট ৩১, ২০১৬

আরও দুরন্ত বাংলাদেশের মেয়েরা। এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের বাছাই পর্বে প্রতিপক্ষ বদলালেও ক্রমে আরও দুর্দান্ত ফুটবল উপহার দিয়েছে সানজিদা, কৃষ্ণা, মারজিয়া আর আনুচিং মগিনিরা। প্রথম ম্যাচে ইরানকে ৩-০ ও সিঙ্গাপুরকে ৫-০ গোলে হারানোর পর এবার কিরগিজস্তানের জালে ১০টি গোল দিয়েছে বাংলাদেশের মেয়েরা। বাছাই পর্বের গ্রুপে সি-এর খেলায় এটি সবচেয়ে বড় জয়। বলতে গেলে সবসময় নিজেদের রক্ষণ সামলাতে ব্যস্ত ছিল কিরগিজ মেয়েরা। আর একের পর এক আক্রমণ করে তাদের দিশেহারা করে দেয় বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের মুখোমুখি হলেই প্রতিপক্ষ দলগুলোর কৌশল হলো নিজেদের রক্ষণভাগে যতবেশি সম্ভব খেলোয়াড় রেখে রক্ষণাত্বক কৌশল অবলম্বন করা। কিরগিজস্তান তার ব্যতিক্রম করেনি। এদিনও খেলার শুরু থেকে সানজিদা, কৃষ্ণা, মারজিয়া আর আনুচিং মগিনিরা বারবার কিরগিজ রক্ষণে হানা দিয়েছেন। কিন্তু আটসাঁট রক্ষণের কারণে গোল করতে পারেনি। ৩ ও ১৫ মিনিটে আনুচিং কিরগিজস্তান গোলরক্ষককে একা পেয়েও গোল করতে পারেননি।

খেলার ২০ মিনিটে অবশেষে গোলের দেখা পায় বাংলাদেশ। বামপ্রান্ত থেকে ফ্রি-কিক করেছিলেন মারজিয়া। গোলমুখে তখন বিরাট জটলা। এর মধ্যে ঠিকমতো বল ধরতে পারেননি আদেলিনা ইসকাকোভা। জটলার মাঝ থেকে আলতো টোকায় বল গোললাইন অতিক্রম করিয়ে দেন স্বপ্নার পরিবর্তে প্রথম একাদশে স্থান পাওয়া আনুচিং মারমা।

বাংলাদেশ দ্বিতীয় গোলের দেখা পায় ৩০ মিনিটে। ডানপ্রান্ত থেকে বল নিয়ে কিরগিজস্তান শিবিরে হানা দেন অধিনায়ক কৃষ্ণা রাণী সরকার। তার ক্রসে ডান পায়ের ভলিতে গোলটি করেন মিডফিল্ডার মারজিয়া। বক্সের মাঝামাঝি অবস্থানে অনমার্কড দাাঁড়িয়ে ছিলেন তিনি।

৪৩ মিনিটে গোলদাতাদের তালিকায় নাম লেখান কৃষ্ণা নিজেই, মারজিয়ার করা শট ডিফেন্স ওয়ালে লেগে প্রতিহত হলে তা নিয়ন্ত্রণে নেন কৃষ্ণা। পেছনে ফিরে জায়গা করে নিয়ে তিনি কোনাকুনি শটে বল জড়িয়ে দেন দূরের জালে।

প্রথমার্ধের শেষ মিনিটে ৪-০ গোলে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। গোল করেন আনুচিং মারমা। এবারও উৎস মারজিয়া। তার করা মাপা কর্নারে হেড করে আদেলিনাকে পরাস্ত করেন নিজ দ্বিতীয় গোলের মুখ দেখা আনুচিং। স্বস্তির নিঃশ্বাস নিতে নিতেই বিরতিতে যায় বাংলাদেশে।

বিরতির পর খেলা শুরুর তিন মিনিটের মাথায় নিজ দ্বিতীয় ও দলের পঞ্চম গোলটি করেন কৃষ্ণা। একক প্রচেষ্টায় দ্জুন মার্কারকে কাটিয়ে বক্সের বাইরে থেকে তিনি নেন বাম পায়ের শট। হঠাৎ বাঁক খেয়ে বল আছড়ে পড়ে দূরের জালে। অসহায় দর্শক ছিলেন কিরগিজ গোলরক্ষক।

৬৭ মিনিটে টুর্নামেন্টে প্রথম পেনাল্টি পায় বাংলাদেশ। মাথা ঠাণ্ডা রেখে আদেলিনার বাম হাতের পোস্টে বল প্রবেশ করান ডিফেন্ডার শামসুন্নাহার। ৭৫ মিনিটে ৩৫ গজ দূর থেকে রংধনু ফ্রি-কিকে সপ্তম গোলটি করেন ডিফেন্ডার নার্গিস খাতুন। পেনাল্টি আর ফ্রি-কিকে দুটি গোল করে আগের ম্যাচে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ৬-০ গোলে জয়ের ব্যবধান টপকে যায় বাংলাদেশ। ৮০ মিনিটে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন অধিনায়ক কৃষ্ণা রানী। ৮-০ গোলের অগ্রগামীতা নেয় বাংলাদেশ। ৮৪ মিনিটে মারিয়া মান্ডা নবম ও ৮৭ মিনিটে শামসুন্নাহার করেন দশম গোলটি।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :