সকাল ১১:০৯, রবিবার, ১৯শে নভেম্বর, ২০১৭ ইং
/ রিও অলিম্পিক / অলিম্পিকে ‘বাংলার বাঘিনী’র স্বর্ণ জয়
অলিম্পিকে ‘বাংলার বাঘিনী’র স্বর্ণ জয়
আগস্ট ২১, ২০১৬

রিও অলিম্পিকে রিদমিক জিমন্যাস্টিকসে একক অল অ্যারাউন্ড ইভেন্টে স্বর্ণ জিতেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত রুশ জিমন্যাস্ট মার্গারিতা মামুন বা বাংলার বাঘিনী। অসাধারণ শারীরিক কলাকৌশল প্রদর্শন করে সেরা হন তিনি।

তিনবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্বদেশি ইয়ানাকে পেছনে ফেলে সর্বোচ্চ ৭৬.৪৮৩ স্কোর করে সেরা হন মামুন। তার এই সাফল্যে রিদমিক জিমন্যাস্টিক্সে দীর্ঘদিন আধিপত্য ধরে রাখা রাশিয়া এই ইভেন্টে টানা পঞ্চমবার স্বর্ণ জিতল।

‘বাংলার বাঘিনী’ খ্যাত রিটার বাবা বাংলাদেশি। রিটার বাবা আবদুল্লাহ আল মামুন, রাজশাহীর সন্তান তিনি। মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে মাস্টার্স ডিগ্রিধারী। মা রাশিয়ান, আন্না। তারা এখন সপরিবারে রাশিয়াতেই থাকেন। তার মা সাবেক রিদমিক জিমন্যাস্ট, তার হাত ধরেই এই খেলায় হাতেখড়ি রিটার। পরে সেখান থেকে এ বছর প্রথমবারের মতো অলিম্পিকে অংশ নিয়েছেন তিনি।

এদিন ফাইনালে প্রতিযোগিতার হুপ ও বলের রুটিন শেষে পয়েন্ট তালিকায় শীর্ষেই ছিলেন তিন বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্বদেশি ইয়ানা কুদ্রিয়াভৎসেভা । কিন্তু ক্লাব-পারফরম্যান্সের শেষ মুহূর্তে ভুল করে বসেন। ক্লাব উপরে ছুড়ে ফ্লোরে গড়িয়ে ধরতে পারনি। বাড়িয়ে থাকা হাতকে ফাঁকি দিয়ে তা পড়ে যায় ফ্লোরে। এতে অনেকটাই এগিয়ে যান মামুন।

সর্বমোট ৭৬.৪৮৩ স্কোর করে সেরা হন মামুন। শেষ পর্যন্ত ৭৫.৬০৮ স্কোর করে রুপা জেতেন ইয়ানা। ইউক্রেইনের গানা রিজাতদিনোভা পেয়েছেন ব্রোঞ্জ।

এর আগে গত কয়েক বছরে এই অঙ্গনে বেশ সুনাম কুড়িয়েছেন মামুন। এর মধ্যে জিতেছেন রাশিয়ার রিদমিক জিমন্যাস্ট দলের প্রধান কোচের মনও। আর তাই তো সে কোচ রিটার নাম দিয়েছেন ‘দ্য বেঙ্গল টাইগ্রেস’ বা ‘বাংলার বাঘিনী’।তার এই বিশেষ নামটি আন্তর্জাতিক জিমন্যাস্টিকস ফেডারেশনের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটেও পাওয়া যায়, সঙ্গে উইকিপিডিয়াতেও।

রিদমিক জিমন্যাস্টিকসে বিশ্ব রেকর্ড গড়েছেন রিটা। ২০১৬ বাকু বিশ্বকাপে চারটি ইভেন্টে মোট ৭৭.১৫০ পয়েন্ট পেয়ে বিশ্ব রেকর্ড গড়েন তিনি। বাংলাদেশের হয়েই গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ মাতানোর কথা ছিল তার। কিন্তু নানা জটিলতায় সেটি আর সম্ভব হয়নি, তবে অদম্য এই নারী ঠিকই অলিম্পিক মাতাচ্ছেন।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :