রাত ১০:৩২, রবিবার, ২৮শে মে, ২০১৭ ইং
/ হকি / হকির সাফল্যে উদ্বেলিত মেরিনার্স
হকির সাফল্যে উদ্বেলিত মেরিনার্স
জুলাই ২, ২০১৬

প্রথমবারের মতো প্রিমিয়ার ডিভিশন হকি লিগের শিরোপা জিতে আনন্দে উদ্বেলিত মেরিনার ইয়াংস ক্লাব, সংক্ষেপে ঢাকা মেরিনার্স। ১৯৮৮ সালে দ্বিতীয় বিভাগ চ্যাম্পিয়ন হয়ে তৎকালীন হকির শীর্ষ আসর প্রথম বিভাগ হকি লিগে উন্নীত হওয়ার পর কেটে গেছে ২৮ বছর। গতকাল শুক্রবার হয়েছে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। তৃতীয় বা চতুর্থ শক্তি নয় মেরিনার্স এবার চ্যাম্পিয়ন, এ বার্তাই এখন বয়ে বেড়াচ্ছে আরামবাগের বাতাসে। এতো বড় সাফল্য ক্লাব এর আগে কখনও পায়নি।

১৯৭২ সালে আরামবাগ এলাকার ক্রীড়ানুরাগী ব্যক্তিত্ব ইসহাক চৌধুরির উদ্যোগে শুরু হয় ক্লাবটির যাত্রা। তার সঙ্গে ছিলেন ফরিদউদ্দিন, মরহুম নিয়াজ আহমেদ চৌধুরি ভোলা, দুলালসহ আরও কয়েকজন। স্টেডিয়ামের কাছের এলাকাটি এমনিতেই ছিল ক্রীড়া চাঞ্চল্যে ভরপুর। আর নিজের একটি প্ল্যাটফর্ম পেয়ে এলাকার খেলাধুলার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয় মেরিনার্স। ধীরে ধীরে বিকশিত হতে থাকে পাড়ার ক্লাবটি।

১৯৮৮ সালে এই হকিকে ঘিরেই মেরিনার্সের সাফল্য যাত্রা শুরু। দ্বিতীয় বিভাগ হকি লিগে চ্যাম্পিয়ন হয়ে প্রথম বিভাগে উন্নীত হয় মেরিনার্স। এলাকার এক ঝাঁক নিবেদিত তরুণ হয়ে ওঠে মেরিনার্সের প্রাণশক্তি। ১৯৮৯ সালে মেরিনার্সের প্রথম বিভাগের প্রথম ম্যাচে অধিনায়ক মঈনউদ্দিন ভূইয়া আজও মেরিনার্স হকির এক অবিচ্ছদ্য অঙ্গ। ১২ বছর আগে খেলা ছাড়লেও এখনও মেরিনার্সের প্রতিটি ম্যাচে তার উপস্থিতি নিশ্চিত। ম্যানেজার বদরুল ইসলাম দীপুও সাবেক খেলোয়াড়। যেখানে মেরিনার্স হকি সেখানে অাছেন দীপু। শুধু তারা নন, আরও অনেকেই মেরিনার্স হকি দলের সঙ্গে জড়িয়ে আছেন দীর্ঘদিন।

হকিকে ঘিরে মেরিনার্সের যত আলোচনা হলেও, অনেকেই জানে না মেরিনার্স একসময় ঢাকা বাস্কেটবলের অন্যতম পরাশক্তি ছিল। একঝাঁক তরুণ খেলোয়াড় নিয়ে তারা আলোড়ন তুলেছিল বাস্কেটবল অঙ্গনে। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে ১৯৯৪/৯৫ মৌসুম পর্যন্ত মেরিনার্স টানা পাঁচবার সিনিয়র ডিভিশন বাস্কটবলের শিরোপা জিতেছিল। জাতীয় দলের তারকা খেলোয়াড়দের অনেকেই ছিলেন মেরিনার্সের। জুনায়েদ, জহির মবি অনেকেই বাস্কেটবলের কোর্ট কাাঁপিয়েছেন মেরিনার্সের হয়ে। ২০০০ সালে প্রথম মহিলা বাস্কেটবল লিগের শিরোপাও জিতেছিল মেরিনার্স।

এছাড়া দ্বিতীয় বিভাগ ক্রিকেটে ২০০৮ ও ২০০৪/৫ মৌসুমের শিরোপা জিতেছে মেরিনার্স। প্রথম বিভাগ মহিলা হ্যান্ডবলের চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ২০০০ ও ২০১৫ সালে।

তবে হকিকে ঘিরেই মেরিনার্সের আগামীর চিন্তা। বর্তমান সাধারণ সম্পাদক হাসানউল্লাহ খান রানা দলের সাবেক গোলরক্ষক। ক্লাবের সঙ্গে জড়িয়ে আছেন সর্বক্ষণ। তিনি বলেন, ‘হকির এ সাফল্যে আরামবাগে একটা নতুন উদ্দীপনা এসেছে। আমরা এ সাফল্য অব্যাহত রাখার সর্বাত্মক চেষ্টা করবো। ঈদের পরে বড় করে খেলোয়াড়দের সংবর্ধনা দেওয়া হবে। হাতে তুলে দেওয়া হবে প্রতিশ্রুত দশ হাজার ডলারের অর্থ। আমাদের হকি কমিটির চেয়ারম্যান এলাকার কমিশনার মমিনুল হক সাঈদকে ধন্যবাদ জানাই। তিনি সর্বাত্মক সমর্থন দিয়েছেন। আর আমরা দ্বিতীয় বিভাগ হকি লিগে ক্লাবের খেলোয়াড় তৈরির একটি পাইপলাইন তৈরির জন্য আরেকেটি দল গঠনের চিন্তা ভাবনা করছি। মেরিনার্সের হকিকে আমরা আরও এগিয়ে নিতে চাই।’

শুক্রবার হকি স্টেডিয়ামে ক্লাবের সমর্থকদের ভাংচুরের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেন রানা। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ঘটনাটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নয় বা ফেডারেশনের বিপক্ষেও নয়। এটি দুই ক্লাব কর্মকর্তার বাদানুবাদের ও কথা কাটাকাটির ফসল। খেলার মাঠে এ ঘটনার কোনও প্রভাব পড়েনি। তবে ক্লাবের পক্ষ থেকে আমি দুঃখ প্রকাশ করছি। এর পুনরাবৃত্তি যাতে না হয় সে ব্যাপারে সবাইকে অনুরোধ করছি।’



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :