রাত ৪:২২, রবিবার, ১৯শে আগস্ট, ২০১৭ ইং
/ অলিম্পিক (বিওএ) / ‘দেশের প্রতিনিধিত্ব করার চেয়ে গর্বের কিছু হতে পারে না’
‘দেশের প্রতিনিধিত্ব করার চেয়ে গর্বের কিছু হতে পারে না’
জুলাই ১৮, ২০১৬

রিও অলিম্পিক গেমসে তীর-ধনু নিয়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন আর্চার শ্যামলী রায়। ২০১৫ সালে ডেনমার্কে বিশ্ব আর্চারিতে ৩২তম স্থানে প্রতিযোগিতা শেষ করায় শ্যামলী প্রত্যাশা করেছিলেন অলিম্পিক ওয়াইল্ড কার্ডের। গত মাসে এটি নিশ্চিত হওয়ার পর এখন নিবিড় অনুশীলনে মগ্ন এই আর্চার। ২৩ বছর বয়সী শ্যামলী রিকার্ভ বো ইভেন্টে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন এবং অলিম্পিকে এটিই তার ইভেন্ট। তার কথোপকথনের মধ্য দিয়ে উঠে এসেছে তার প্রস্তুতির নানা দিক। সেটিই পাঠকদের সামনে তুলে ধরা হলো-

প্রশ্ন: কেমন চলছে আপনার প্রস্তুতি?

শ্যামলী: আমার অলিম্পিক প্রস্তুতি ভালোই চলছে। ৩১২ থেকে ৩১৫ পর্যন্ত স্কোর করতে পারছি, কোচ নিশিথ দাষ আমাকে নিয়মিত একটি প্রক্রিয়াবদ্ধ অনুশীলনের মাঝে রেখেছেন। ব্যাংকক এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে আমি ৩১৭ স্কোর করেছিলাম। আর এটিই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আমার সেরা স্কোর। এখন প্রচেষ্টা স্কোরকে আরও ওপরে নেওয়া, আর্চারিতে কন্ডিশনটাও খুব গুরুত্বপূর্ণ। আশা করছি ব্রাজিলে একটা অনুকুল কন্ডিশন পাবো আর সঠিক মনোসংযোগ এবং নিজেকে যথাযথভাবে উপস্থাপন করতে পারলে অলিম্পিকের পদক জেতা সম্ভব। তবে ৩২০+ স্কোর অবশ্যই লাগবে।

প্রশ্ন: আর্চারিতে কতদিন হলো?

শ্যামলী: আমি নড়াইলের মেয়ে, ছোটবেলা থেকেই খেলাধুলার প্রতি ছিল আমার প্রবল ঝোঁক। তবে আর্চার হবো এমনটি ভাবিনি কখনও, ২০১৩ সাল থেকে আমি আর্চারির আনুষ্ঠানিক বা শীর্ষ পর্যায়ে সম্পৃক্ত হয়েছি । বলা যায় এ তিন বছরেই আমি আর্চারির যা কিছু জেনেছি এবং বুঝেছি। আর্চারিতে মোটিভেশন একটা বড় ব্যাপার এবং সার্বক্ষণিক নিজেকে আরও পরিশীলিত করার চিন্তাটা করতে হয়। এটি নিজের সাধনার ব্যাপার। কোচ শিখিয়ে দিচ্ছেন, বলে দিচ্ছেন অনেক কিছু। কিন্তু আমি যদি এটি মাঠে বাস্তবায়িত করতে না পারি, তবে কোনও লাভ নেই। আর্চারিতে তাই সাধনা করতে হয়।

প্রশ্ন: বাংলাদেশের আর্চারির সম্ভাবনা কতটুকু?

শ্যামলী: আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পদচারণা আমাদের খুব একটা নেই। তবে এর মাঝেও যতটুকু রয়েছে তাতে আমার মনে হয় বাংলাদেশের আর্চারির রয়েছে উজ্জ্বল সম্ভাবনা। আমাদের আর্চাররা খুব অল্প সময়ের মাঝেই একটা অবস্থানে পৌঁছেছে, বাংলাদেশে আর্চারির প্রচলন খুব বেশি দিনের নয়। এছাড়া এটা এখনও কোনও জনপ্রিয় ইভেন্ট নয়। এর মাঝেই আমাদের আর্চাররা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভালোভাবেই এগিয়ে চলেছেন। আমি দৃঢ়বিশ্বাসী বাংলাদেশের আর্চাররা অদূর ভবিষ্যতে আরও অনেক আন্তর্জাতিক সাফল্য আনবে।

প্রশ্ন: অলিম্পিক নিয়ে আপনার অনূভূতি ও প্রত্যাশা…

শ্যামলী: আমি ওয়াইল্ড কার্ড নিয়ে অলিম্পিকে যাচ্ছি, আরও অনেক ভালো লাগতো যদি কোয়ালিফাই করে অলিম্পিকে যেতে পারতাম। আগামীতে কোয়ালিফাই করার লক্ষ্য আমি এখনই নির্ধারণ করে রেখেছি। অলিম্পিক যে কোনও খেলোয়াড়ের জন্য স্বপ্ন। বিশ্বের শীর্ষ ক্রীড়া উৎসবে আমি আমার দেশের প্রতিনিধিত্ব করবো এর চেয়ে গর্বের আর কিছুই হতে পারে না। লাল-সবুজ পতাকা বুকে নিয়ে দেশের জন্য জন্য লড়বো সেরা নৈপুণ্য দিয়ে- এটিই আমার একমাত্র লক্ষ্য।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :