সকাল ৬:৪৬, সোমবার, ২১শে আগস্ট, ২০১৭ ইং
/ হকি / মোহামেডানকে হারিয়ে টিকে রইলো আবাহনী
মোহামেডানকে হারিয়ে টিকে রইলো আবাহনী
জুন ২১, ২০১৬

গ্রিন ডেল্টা ইনস্যুরেন্স প্রিমিয়ার ডিভিশন হকি লিগের সুপার সিক্সের গুরুত্বপূর্ণ খেলায় চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহামেডানকে ৪-২ গোলে হারিয়ে শিরোপা লড়াইয়ে টিকে থাকলো আবাহনী। আজ মঙ্গলবার মওলানা ভাসানী জাতীয় হকি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এ খেলায় জিতে মোহামেডানকে শিরোপা লড়াই থেকেও ছিটকে ফেললো আবাহনী।
এ ম্যাচের পর ১২ খেলায় আবাহনীর পয়েন্ট ২৯। শীর্ষে থাকা ঊষার পয়েন্ট ৩৪, মেরিনার্সের পয়েন্ট ৩১। আর মোহামেডানের পয়েন্ট ১২ খেলায় ২৬।
এদিন খেলার পাঁচ মিনিটে প্রথম পেনাল্টি কর্নার পায় মোহামেডান। সালমান হোসেনের হিট গোল লাইন থেকে ফিরিয়ে দিয়ে দলকে বাঁচান পাকিস্তানি ডিফেন্ডার কাশিফ আলি। ১০ মিনিটে একটি কাউন্টার অ্যাটাক থেকে শাকিল আব্বাসির ফরোয়ার্ড পুশ আয়ত্ত্বে নিয়ে ক্রস করেছিলেন শাফকাত রাসুল। যেখানে মাকসুদ আলম হাবুল ছিলেন তার লক্ষ্য। কিন্তু মোহামেডান গোলরক্ষক জাহিদ হোসেন এগিয়ে এসে বল বিপদমুক্ত করেন।

তবে ১৪ মিনিটে গোলের সহজ সুযোগ নষ্ট করে মোহামেডান। রাসেল মাহমুদ জিমি তার স্টিওয়ার্কে দুইজন মার্কারকে কাটিয়ে আড়াআড়ি পাসে দেন ওমর ভুট্টোকে। স্টিক ছোঁয়াতে পারলেই গোল এমন অবস্থায় পাকিস্তানি ফরোয়ার্ড বল স্টিকে লাগাতে পারেননি।

উল্টোদিকে বিশ মিনিটে আবাহনীর প্রথম পেনাল্টি কর্নারেই লক্ষ্যভেদ করেন কাশিফ আলি। শাফকাত রাসুলের পুশ, বিপ্লবের স্টপের পর কাশিফ আলি হালকা স্কুপে মাঝ জালে বল জড়ান।

২৭ মিনিটে আবাহনী করে দ্বিতীয় গোল। শাকিল আব্বাসির হিট ডিফ্লেক্ট করে প্রান্ত পরিবর্তন করে দেন রোম্মান সরকার। বলের গতিপথ আগে থেকেই আঁচ করতে পারা রাজিব দাস সামনের দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে বল ঠেলে দেন পোস্টে।

ম্যাচে এদিন প্রচণ্ড তাপের মাঝে দেহের শক্তি সঞ্চয় করে খেলার কৌশল নিয়েছিল দুই দলই। তবে আবাহনী কোচ মাহবুব হারুন পাকিস্তানি ফরোয়ার্ড শাকিল আব্বাসিকে ফরোয়ার্ড হিসেবে না খেলিয়ে অনেকটা প্লেমেকার হিসেবে খেলান। ডিফেন্স ও অফেন্সের মাঝে একটা যোগসূত্র স্থাপন করেন তিনি। অধিনায়ক ফরহাদ আহমেদ শিটুল দেখিয়েছেন ‘কুল টেম্পারমেন্ট’ আর মোহামেডানের সেরা পারফরমার ছিলেন জিমি। কিন্তু পাকিস্তানি খেলোয়াড়রা ভালো খেলতে না পারাতে প্রথমার্ধে পিছিয়েই থাকে মোহামেডান।

বিরতির পর চাপ সৃষ্টি করে মোহামেডান এবং ৪২ মিনিটে জিমির গোলে খেলায় ফিরে আসে। সালমান হোসেনের করা থ্রু পাসে জিমি বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আলতো পুশে গোলরক্ষক ওয়ালিদকে পরাস্ত করেন।

তবে ৪৭ মিনিটে রোম্মান সরকারের দ্রুত গতির একটি আক্রমণে বল গ্যাপ দিয়ে অতিক্রম করে আবাহনী ডিফেন্স লাইন। এরপর আর দেরি করেননি শাফকাত রাসুল। কোনাকুনি হিটে তিনি বল আছড়ে ফেলেন বোর্ডে। ফলে আবারও ম্যাচে চালকের আসনে বসে আবাহনী।

৬২ মিনিটে আবাহনীর ডিফেন্ডার বিপ্লব মোহামেডান মিডফিল্ডার মশিউর রহমান ফিরোজকে বক্সের মাঝে অবৈধভাবে রুখে দিলে পেনাল্টি স্ট্রোক পায় মোহামেডান। স্পট থেকে গোল করতে ভুল করেননি পাকিস্তানি খেলোয়াড় মো. ইমরান।

এরপর আবারও আঘাত হানে আবাহনী। ৬৫ মিনিটে রাজিব দাস ম্যাচে তার দ্বিতীয় গোল করলে খেলায় ফেরার সময়ও শেষ হয়ে যায় মোহামেডানের। জিমি ও ওমর ভুট্টো শেষ দিকে কিছু সুযোগও নষ্ট করেন। কিন্তু আবাহনীর সম্মিলিত নৈপুণ্যে জয়মাল্য তাদের গলাতেই শোভা পেতে থাকে।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :