দুপুর ১:৩২, সোমবার, ২৯শে মে, ২০১৭ ইং
/ ক্রিকেট / দুই স্তর বিশিষ্ট নির্বাচক কমিটির বিপক্ষে বুলবুল
দুই স্তর বিশিষ্ট নির্বাচক কমিটির বিপক্ষে বুলবুল
জুন ৬, ২০১৬

দুই স্তর বিশিষ্ট নির্বাচক কমিটি প্রায় চূড়ান্ত করে ফেলেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। রবিবার বিসিবি প্রধান এমনটাই জানিয়েছেন সংবাদ মাধ্যমগুলোকে। এই কাঠামোতে নির্বাচক প্যানেল ও নির্বাচক কমিটি দুটোই থাকছে। নির্বাচক প্যানেলের সদস্য সংখ্যা মোট চারজন। তিন নির্বাচকের সঙ্গে কোচও থাকছেন।

এই নির্বাচক প্যানেলের মূল কাজ হচ্ছে ক্রিকেট দলের প্রাথমিক এবং ১৫ সদস্যের দল ঠিক করা। এ প্যানেলের প্রধান নির্বাচকের পদটা অবশ্য থাকছে। তবে চূড়ান্ত দল ঠিক করবে নির্বাচক কমিটি! সেই দলে আগের তিন নির্বাচক থাকছেন। প্রধান কোচও থাকছেন। বাড়তি হিসেবে যোগ হচ্ছেন দলের ম্যানেজার। এছাড়া নির্বাচক কমিটিতে আহ্বায়ক হিসেবে থাকবেন ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের চেয়ারম্যান।

তবে এমন দুই স্তরের নির্বাচক কমিটির বিপক্ষে মত দিলেন সাবেক ক্রিকেটার ও আইসিসি’র ডে‌‌‌ভলাপমেন্ট ম্যানেজার আমিনুল ইসলাম বুলবুল। নির্বাচক কমিটিকে এভাবে সাজানোটা কতটা যৌক্তিক-এমন প্রশ্নে সোমবার মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে সংবাদ মাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘যখন কোথাও কোনও সমস্যা হয়, তখন আমরা সেটা সমাধান করার চেষ্টা করি। নির্বাচন নিয়ে আমাদের কোনও সমস্যা হচ্ছে না। আমাদের দল ভালো খেলছে। তারা বিশ্বকাপে ভালো খেলে এসে ঘরের মাঠে অভাবনীয় ক্রিকেট খেলেছে। এখানে পরিবর্তনটা কতটুকু দরকার ছিলো, সেটা একটা বড় প্রশ্ন। যে প্রস্তাবনাটা এসেছে সেটা পৃথিবীর কোনও ক্রিকেট দলের সঙ্গে যায় না। কারণ আমরা যে তিনজন নির্বাচককে কাজে লাগাচ্ছি। তারা সর্বোচ্চ মানসম্পন্ন এবং সফল। তাদের ক্রিকেট জ্ঞান নিয়ে কোনও প্রশ্ন ওঠা উচিত নয়। আমাদের নির্বাচক কমিটি ভালো করছে। তারা যদি খারাপ করতো বা আমাদের দলের পারফরম্যান্স খারাপের দিকে যেত তাহলে তখন হয়তো আমরা এই চিন্তাটা করতে পারতাম। যেহেতু সব কিছু ভালো চলছে তাহলে কেন আমরা তাদের বিরক্ত করবো?’

দ্বি-স্তর টেস্ট চালু হলে আমাদের মতো দেশের জন্য কতোটা সম্মানজনক হবে। এমন প্রশ্নে বুলবুল বলেন, ‘এটা যেহেতু এখনও প্রস্তাবনা পর্যায়ে আছে, তাই মন্তব্য করা ঠিক হবে না। তবে এমন হলে মেনে নিতেই হবে। আর এই অবস্থানটা কিন্তু গত ১৬ বছরের পারফরম্যান্সের ফল। ১৬ বছর টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার পর টেস্ট খেলার ব্যাপারে আমরা কতোটুকু মনোযোগী ছিলাম, আমাদের পারফরম্যান্স কী ছিলো তার ফলটাই কিন্তু এখন আমাদের অবস্থান। আমরা টেস্ট বাদ দিয়েছি। সেই ব্যাপারগুলোর প্রতিফলনই ঘটতে যাচ্ছে।’
আমিনুল ইসলাম বুলবুল

দ্বি-স্তর হয়ে গেলে সাধারণ মানুষদের আগ্রহের জায়গাটায় কতটা প্রভাব ফেলবে- এমন প্রশ্নে সাবেক এই ক্রিকেটার বলেন, ‘আমি এটা আগেও বলেছি আমরা ঘরোয়া ক্রিকেটকে আমরা কখনও ওইভাবে মূল্যায়ন করিনি। লঙ্গার ভার্সনে অঞ্চলভিত্তিক যে ক্রিকেট হয় সেখানে আমরা মনোযোগী ছিলাম না। আমরা যদি ঘরোয়া ক্রিকেটে আরও বেশি মনোযোগী হতাম; তাহলে এখন যেখানে দাঁড়িয়ে আছি ৭০-৮০টা টেস্ট ম্যাচ খেলার পর হয়তাে আমরা এখানে দাঁড়িয়ে থাকতাম না। এটা আমাদের নিজেদের ব্যর্থতার ফল।’

দ্বি-স্তর বিশিষ্ট হলেও নিচের সারির দলগুলোকে নিজেদের মধ্যে খেলতে হবে। বাদ দেওয়ার সুযোগ নেই। এটাকে ইতবাচক হিসেবে নেওয়া যায় কিনা- এমন প্রশ্নে বুলবুল বলেন, ‘অবশ্যই খেলার মধ্যে থাকা যাবে। বেশি টেস্ট ম্যাচ খেলতে থাকবো। কিন্তু আমার প্রশ্নটা হচ্ছে ১৬ বছর টেস্ট ম্যাচ খেলার পর আজ কেন আমরা এই চিন্তা করছি? কেন আমরা ১৫ বছর আগে এই চিন্তটা করিনি। আমাদের ধারাবাহিক যে পরিকল্পনার অভাব ছিলো তারই প্রতিফলন এটা।’



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :