বিকাল ৫:৫২, শনিবার, ২৭শে মে, ২০১৭ ইং
/ হকি / জিমির কাছে হেরে গেল ঊষা!
জিমির কাছে হেরে গেল ঊষা!
জুন ২৯, ২০১৬

রাসেল মাহমুদ জিমির হ্যাটট্রিকসহ ৫ গোলের ওপর ভর করে গ্রিন ডেল্টা ইনস্যুরেন্স প্রিমিয়ার ডিভিশন হকিতে ঊষাকে হারিয়ে দিয়েছে মোহামেডান। আজ বুধবার মওলানা ভাসানী জাতীয় হকি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত খেলায় মোহামেডান ৫-৩ গোলে হারিয়ে দেয় ঊষাকে।
এ পরাজয়ের ফলে ১৫ ম্যাচে ঊষার পয়েন্ট দাঁড়ালো ৩৮, প্রথমবারের মতো পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে ৪০ পয়েন্ট নিয়ে এককভাবে অবস্থান নিল মেরিনার্স। মোহামেডানের পয়েন্ট ১৫ ম্যাচে ৩২। শুক্রবার লিগের শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হবে মেরিনার্স ও ঊষা। ড্র হলে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হবে মেরিনার্স, জিতলে তো কথাই নেই। আর শিরোপা জিততে হলে জয় ছাড়া আর কোনও উপায় নেই ঊষার।

এদিন খেলার তিন মিনিটে এগিয়ে যায় মোহামেডান। ডান প্রান্তের গোললাইন ধরে সোজা স্টিকের আঁকিবুকিতে ঊষা ডিফেন্স ভেদ করেন পাকিস্তানি ফরোয়ার্ড সালমান হোসেন। আড়াআড়ি পাস দেন রাসেল মাহমুদ জিমিকে, কোনাকুনি হিটে বল বোর্ডে আছড়ে ফেলেন জিমি।

আক্রমণ অব্যাহত রেখে আরও দুটি গোলের সুযোগ তৈরি করেছিল মোহামেডান। ১০ মিনিটে তাসওয়ার আব্বাস ও পরের মিনিটে সালমান হোসেন বাইরে ও গোলরক্ষক আবু সাইদ নিপ্পনের প্যাডে মেরে সুযোগ নষ্ট করেন।

গুছিয়ে উঠে ঊষা যায় পাল্টা আক্রমণে। হাসান যুবায়ের নিলয়, পুষ্কর খিসা মিমো, কৃষ্ণ কুমার ও মো. ইরফানকে নিয়ে আক্রমণে গিয়েও তারা লক্ষ্যভেদ করতে পারেনি। ২৯ মিনিটে প্রথম পেনাল্টি কর্নার আদায় করে নেয় আর এটিতেই আসে সমতা। কৃষ্ণ কুমারের পুশ, সারোয়ার হোসেনেরর স্টপে ড্র্যাগ স্পেশালিস্ট আলিম বেলালের জোরালো ড্র্যাগ কোনও সুযোগ দেয়নি মোহামেডান গোলরক্ষক জাহিদ হোসেনকে।

৩০ মিনিটে আবারও গোল করেন রাসেল মাহমুদ জিমি। হাফলাইন থেকে জোরালো হিটে বল জিমির কাছে পৌঁছে দেন ওমর ভুট্টো। আর্চের বাম কোনা থেকে জিমি নেন জোরালো রিভার্স হিট। গোলরক্ষক আবু সাইদ নিপ্পনের প্যাডে লেগে দুই পায়ের মাঝ দিয়ে বল অতিক্রম করে গোললাইন।

এর দুই মিনিট পর জিমি পূর্ণ করেন তার হ্যাটট্রিক। সালমান হোসেন বল তৈরি করে দিয়েছিলেন জিমিকে। গোল পোস্টের বাম দিকে লাইন সোজা দাঁড়িয়ে জিমি হিট করেননি, আস্তে করে বল তুলে দেন বাতাসে। নিপ্পন আঁচ করতে পারেননি জিমির কৌশল, বল জালে জড়াবার পর বুঝতে পারেন ভুল হয়ে গেছে। জিমির অভিজ্ঞতার কাছে হার মানেন নিপ্পন।

বিরতির পর যা প্রয়োজন ছিল ঊষার তাই করতে সমর্থ হয় তারা। চতুর্থ অর্থাৎ ৩৯ মিনিটে ব্যবধান কমিয়ে খেলায় ফিরে আসে তারা। আবারও গোলদাতা আলিম বেলাল। সেই একই পেনাল্টি কর্নার কম্বিনেশন।

কিন্তু দিনটি ছিল জিমির, পরের মিনিটেই দ্রুত গতির একটি পাল্টা আক্রমণে তাসওয়ার আব্বাস ডান প্রান্ত থেকে বল ঠেলে দেন জিমিকে, সামনের দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে আলতো ছোঁয়ায় নিপ্পনকে পরাস্ত করেন জিমি।

ঊষা এরপর অনেক চেষ্টা করেও ব্যবধান কমাতে পারেনি, মাঝে একটি পেনাল্টি কর্নার পেলেও আলিম বেলালের স্কুপ কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন মোহামডোন গোলরক্ষক জাহিদ।

ম্যাচের শেষ দিকে জিমির পঞ্চম গোল আবারও আঘাত হানে ঊষার মনোবলে। তবে ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার পরও পেনাল্টি কর্নারে হ্যাটট্রিক পূরণ করেন আলিম বেলাল।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :