রাত ১০:০৩, বৃহস্পতিবার, ২৯শে জুন, ২০১৭ ইং
/ ফুটবল / ‘ক্লাবগুলোতে পেশাদার কাঠামো ছাড়া ফুটবলের উন্নয়ন সম্ভব নয়’
‘ক্লাবগুলোতে পেশাদার কাঠামো ছাড়া ফুটবলের উন্নয়ন সম্ভব নয়’
জুন ২৫, ২০১৬

ক্লাবগুলোতে পেশাদার কাঠামো না গড়লে ফুটবলের অগ্রগতি কঠিন। ‘বিপিএল-বিসিএল: নতুন সম্ভাবনার সন্ধানে’ শীর্ষক সেমিনারে এমন মন্তব্য করে‌‌‌‌‌‌ছেন বক্তারা। রাজধানীর এক হোটেলে বাংলাদেশ ক্রীড়ালেখক সমিতি আয়োজিত অনুষ্ঠানে ফুটবল সংশ্লিষ্টরা এ সেমিনারে অংশ নেন।

দেশজুড়ে জনপ্রিয় খেলাটির উন্নয়নে নতুন রূপে শুরু হতে যাওয়া প্রিমিয়ার লিগের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। প্রস্তাবিত বাংলাদেশ সুপার লিগ (বিএসএল) দর্শকদের মাঠে ফেরাতে ভূমিকা রাখতে পারে বলে মত দেন বক্তারা।

সেমিনারের শুরুতে স্বাগত বক্তব্যে ক্রীড়ালেখক সমিতির সভাপতি মোস্তফা মামুন বলেন, ‘বাংলাদেশই বোধ করি বিশ্বের একমাত্র দেশ, যেখানে প্রধান খেলা পরিবর্তিত হয়েছে। ২০ বছরের ব্যবধানে ফুটবল কেন এ পর্যায়ে নেমে আসলো তা নিয়ে আমাদের ভাবতে হবে।’

সিনিয়র ক্রীড়া সংবাদিক দিলু খন্দকার বলেন, ‘আজ ফুটবলের যে অবস্থা তার দায় অনেকাংশে ক্লাবগুলোর ওপর বর্তায়। আবাহনী-মোহামেডানের সমর্থক সংখ্যা একসময় কোটি ছাড়িয়েছিল। কিন্তু ক্লাবগুলো জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে কোনও উদ্যেগ নেয়নি। অবকাঠামো নির্মাণের উদ্যোগও ছিল না।’

সিলেটের সংগঠক ও বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) নির্বাহী সদস্য মাহিউদ্দিন আহমেদ সেলিম বলেন, ‘ফুটবলের জনপ্রিয়তা হারিয়ে যায়নি। বড়দের খেলা তো বটেই, সিলেটে বয়সভিত্তিক প্রতিযোগিতায় আমরা ২৪ হাজার টিকিট বিক্রি করেও চাহিদা পুরণ করতে পারিনি।’

দক্ষিণ এশিয়া ফুটবল সংস্থার (সাফ) সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল হক হেলাল বলেন, ‘ক্লাবগুলো পেশাদার না হলে কোনও উদ্যোগ কাজে আসবেনা। ক্লাবগুলো মোট আয়ের ৯০ শতাংশ অর্থ খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিকে ব্যয় করে। এছাড়াও অন্যান্য কাজ, বিশেষ করে অবকাঠামো উন্নয়ন ও যুব উন্নয়নে কোনও উদ্যেগ নেই।’

সাইফ গ্লোবাল স্পোর্টস লিমিটেড চেয়ারম্যান তরফদার রুহুল আমীন বলেন, ‘পেশাদার কাঠামোর মধ্যে আসার জন্য ক্লাবগুলোকে নির্দিষ্ট একটা সময় বেধে দেয়া উচিত। ওই সময়ের মধ্যে ক্লাবগুলো নতুন সিস্টেম বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেবে।’

বাফুফে সভাপতি কাজী মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বলেন, ‘আমি ক্ষমতা গ্রহণের আগে খেলোয়াড়রা মঞ্চ তৈরি করে খেলার দাবি জানিয়েছে, আন্দোলন হয়েছে। গত আট বছরে কোনও লিগ বন্ধ থাকেনি। আমি কোচ নই, নিজে খেলতেও পারব না। সংগঠক হিসেবে আমার কাজ খেলা আয়োজন করা, জাতীয় দলকে সকল সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিদেশি এবং স্থানীয় কোচ মিলিয়ে প্রতিমাসে আমাকে ২০ লাখ টাকা বেতন গুনতে হয়। তাজিকিস্তানের ঠাণ্ডা আবহাওয়ার কথা বলা হচ্ছে। সেখানে তো আমি চারদিন আগে দল পাঠিয়েছি। তারপরও ৫ গোলে হেরে আসলে আমি কী করতে পারি?’



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :