সকাল ৭:৪২, রবিবার, ২২শে জানুয়ারি, ২০১৭ ইং
/ ক্রিকেট / উল্টাে কাঠগড়ায় ম্যাচ অফিসিয়ালরাই!
উল্টাে কাঠগড়ায় ম্যাচ অফিসিয়ালরাই!
জুন ১৩, ২০১৬

ক্রিকেটের নিয়ম অনুযায়ী ম্যাচ রেফারিই ম্যাচের অভিভাবক। ম্যাচ চলাকালীন সময়ে তিনি যে কোনও বিষয়ে একক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা রাখেন। কিন্তু চলতি ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে যেন দেখা যাচ্ছে উল্টো দৃশ্য।
এই লিগে একের পর এক নাটক মঞ্চস্থ হয়েছে বিভিন্ন ভেন্যুতে। যার সর্বশেষটি আবাহনী ও প্রাইম দোলেশ্বরের মধ্যকার ম্যাচে। ম্যাচে আবাহনীর অধিনায়ক তামিম ইকবাল দুই ফিল্ড আম্পায়ার গাজী সোহেল ও তানভীর আহমেদের সিদ্ধান্ত মেনে নিতে না পেরে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন। অকথ্য ভাষায় তাদের গালিগালাজ করতে থাকেন জাতীয় দলের এই অভিজ্ঞ ওপেনার। এমন পরিস্থিতিতে দুই আম্পায়ার খেলা পরিচালনা করতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
ম্যাচের দিন এই ব্যাপারে কোনও সিদ্ধান্ত দিতে পারেনি ম্যাচ রেফারি মন্টু দত্ত। তিনি জানিয়েছিলেন, ম্যাচ রিপোর্টে সবকিছু উল্লেখ্য করে সিসিডিএমের কাছে পাঠাবেন। অথচ সেই ম্যাচ রিপোর্টে তামিমের অসদাচরণের কোনও বিষয়ই উল্লেখ্য করা হয়নি। উল্টো আম্পায়ারদের অসুস্থ দেখিয়ে ম্যাচ পরিচালনা সম্ভব হয়নি বলে দাবি করেছেন তিনি।

কোনও এক অদৃশ্য কারণে তার রিপোর্টে দুই আম্পায়ারের অসুস্থতা ছাড়া আর কিছুই নেই। বিষয়টি সোমবার মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে সিসিডিএমের সমন্বয়ক আমিন খান নিশ্চিত করেছেন। ওই রিপোর্ট এরই মধ্যে সিসিডিএমের সভা হয়ে চলে গেছে বোর্ডের কাছে। বোর্ড সভায় আবাহনী ও প্রাইম দোলেশ্বর ম্যাচ নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে বলে জানিয়েছেন আমিন খান।

ম্যাচ নিয়ে একক সিদ্ধান্ত দেওয়ার ক্ষমতা ম্যাচ রেফারির থাকলেও মন্টু দত্ত অদৃশ্য কারণে কোনও পদক্ষেপ নেননি। ফলে বড় অপরাধ করেও পার পেয়ে যাচ্ছেন তামিম ইকবাল। অথচ এর চেয়ে অনেক কম অপরাধে নিষিদ্ধের মতো শাস্তি পেয়েছেন রূপগঞ্জের দুই ক্রিকেটার!

তামিমকে শাস্তি না দেওয়ার ব্যাপারে সিসিডিএমের সমন্বয়ক আমিন খান বলেন, ‘ঘটনা কী হয়েছে, আমি জানি না। আমি দেখব ম্যাচ রেফারির রিপোর্ট। ম্যাচ রেফারির রিপোর্টে কোনও দলের ব্যাপারে, কোনও ক্রিকেটারের ব্যাপারে বা সমর্থকদের ব্যাপারে কিছু লেখা নেই। শুধু লেখা হয়েছে আম্পায়াররা অসুস্থ। এই ধরণের পরিস্থিতি উনি আগে কখনও ফেস করেননি। দুজনই আম্পায়ারই অসুস্থ হওয়ায় খেলা স্থগিত করেছেন।’

সেক্ষেত্রে কাঠগড়ায় কাকে দাঁড় করাচ্ছে বোর্ড! দায়িত্ব অবহেলার কারণে ম্যাচ অফিসিয়ালরা শাস্তি ভোগে করছেন নাতো! এই ব্যাপারটি সিসিডিএম অবশ্য ছেড়ে দিয়েছেন বোর্ডের উপর। আমিন খান বলেন, ‘এই ম্যাচ আমরা বোর্ডের কাছে রেফার করেছি। বোর্ড সিদ্ধান্ত নেবে। এছাড়া আম্পায়ারদের ব্যাপারেও বোর্ড সিদ্ধান্ত নেবে। আমরা জানতে পেরেছি, দুই দল একসময় খেলার জন্য প্রস্তুত ছিল। আম্পায়ারদের অপারগতার কারণেই খেলা হয়নি।’

সিসিডিএমের সমন্বয়ক আমিন খানের কথাইতে ইঙ্গিত মিলেছে, যথাযথ দায়িত্ব পালন না করার অভিযোগ ম্যাচ রেফারি কিংবা আম্পায়ারদের শাস্তি পেতে হতে পারে! আমিন খান সরাসরি বলেই দিলেন, ‘উনি ম্যাচের অভিভাবক ছিলেন, উনার দায়িত্ব ছিল সবকিছু দেখার। অথচ উনার রিপোর্টে এসব নেই! অসুস্থতা ছাড়া আর কিছু উনি লিখেননি। ম্যাচ রেফারি সিদ্ধান্ত ছেড়ে দিয়েছেন আমাদের কাছে। আমরা রেফার করেছি বোর্ডের কাছে।’

রবিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত আম্পায়ারের সঙ্গে তামিমের বাজে আচরণ নিয়ে মিডিয়াতে যেসব রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে আমিন খানের কথা অনুযায়ী সব কিছুই সাজানো! তিনি বলেন, ‘মিডিয়ায় কী আছে সে ব্যাপারে আমার কোনও বক্তব্য নাই। ম্যাচ রেফারির রিপোর্টে যা আছে, সেটাই আমি বলতে পারি।’

এ বিষয়ে ম্যাচ রেফারি মন্টু দত্তের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি গতকালই রিপোর্ট জমা দিয়েছি। আপনারা সিসিডিএমের কাছ থেকে সবকিছু জেনে নিতে পারেন। আমি এই মুহূর্তে কোনও কমেন্ট করতে পারবো না।’



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :