বিকাল ৫:২৪, সোমবার, ২০শে নভেম্বর, ২০১৭ ইং
/ ক্রিকেট / আবাহনীর রেকর্ড গড়া জয়
আবাহনীর রেকর্ড গড়া জয়
জুন ১৫, ২০১৬

ওয়ালটন ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট সুপার লিগের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল দুই ঐতিহ্যবাহী ক্লাব মোহামেডান ও আবাহনী। আবাহনীর করা রেকর্ড ৩৭১ রানের জবাবে খেলতে নেমে মোহামেডান ১১১ রানেই অলআউট হয়ে যায়। ফলশ্রুতিতে ২৬০ রানের রেকর্ড ব্যবধানে জয় লাভ করে আবাহনী।
গত মৌসুমে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ ২৪৭ রানে হারিয়েছিল ওল্ডডিওএইচএসকে। যা সর্বোচ্চ ব্যবধানে জয়ের রেকর্ড। অন্যদিকে ২০১৩-১৪ মৌসুমে শেখ জামাল মোহামেডানকে ২৩৯ রানে হারিয়েছিল। যা কিনা মোহামেডানের সর্বোচ্চ রানের ব্যবধানে হার ছিলো। এদিন নিজেদের লজ্জাজনক সে রেকর্ডও টপকে গেল মোহামেডান!
মূলত এদিন আবাহনীর রানের পাহাড়ে চাপা পড়ে অসহায় আত্মসমর্পণ করেন মোহামেডানের ব্যাটসম্যানরা। আবাহনীর বোলারদের মধ্যে সাকিব ৬.৩ ওভারে ১৮ রান খরচায় ৫টি উইকেট নিয়েছেন

টসে হেরে আগে ব্যাটিং করা আবাহনীর ব্যাটসম্যানরা মোহামেডানের বোলারদের ওপর শুরু থেকেই ছড়ি ঘোরাতে থাকেন। মূলত লিটন কুমার দাস ও ভারতীয় ক্রিকেটার দিনেশ কার্তিকের সেঞ্চুরিতেই বড় সংগ্রহ পায় আবাহনী। ৬৪ রানে দুই উইকেট হারানোর পর মূলত শুরু হয় আবাহনীর ইনিংস। লিটন ও কার্তিক মিলে মোহামেডানের বোলারদের কচুকাটা করেন। চলতি লিগে ব্যাটে রান ছিলো না লিটনের। এই ম্যাচের আগের ১২ ম্যাচের ১১ ইনিংসে তার রান ছিল সব মিলিয়ে ১৯৬।

বুধবার নিজের প্রিয় পজিশন ওপেনিংয়ে নেমে শুরু থেকেই ছিলেন সাবলীল। ৬০ বলে স্পর্শ করেছিলেন হাফসেঞ্চুরি। পরের পঞ্চাশে লেগেছে মাত্র ৪২ বল। অভিজ্ঞ ফয়সাল হোসেন ডিকেন্সকে সুইপ করে চার মেরে তিন অঙ্ক ছুঁয়েছেন ১০২ বলে। সেঞ্চুরির পর ব্যাটের ধার বেড়ে যায় আরও। বেধড়ক পিটিয়েছেন মোহামেডানের সব বোলারকে। সবচেয়ে বেশি ভুগিয়েছেন অভিজ্ঞ স্পিনার এনামুল হক জুনিয়রকে। তার ২৬ বলে নিয়েছেন ৩৬। ইনিংসের একমাত্র ছক্কাটিও মেরেছেন এনামুলকেই।

দিনেশ কার্তিকের সঙ্গে তৃতীয় উইকেটে লিটন গড়েছেন ১৫০ বলে ১৬২ রানের জুটি। শেষ পর্যন্ত বোল্ড হয়েছেন আরিফুল হকের বলে। তার আগে ১৮ চার ও ১ ছক্কায় করেছেন ১৩৯ রান। লিটন আউট হওয়ার সময় কার্তিকের রান ছিল ৫৩। সেখান থেকে প্রায় চোখের পলকেই পৌঁছে যান শতকে। ৬৬ বলে স্পর্শ করেছিলেন অর্ধশতক, পরের পঞ্চাশ করতে লেগেছে মাত্র ২৩ বল! শেষ পর্যন্ত আউট হওয়ার আগে ১১ চার ও ৪ ছক্কায় ৯৭ বলে ১০৯ রান করেন তিনি।

লিটন-কার্তিক ফিরলেও শেষ হয়নি মোহামেডান বোলারদের ভোগান্তি। উইকেটে গিয়েই তাণ্ডব চালান সাকিব। ২২ বলে করেছেন অর্ধশতক। নাঈম ইসলামের বলে আউট হয়েছেন ৫ ছক্কায় ২৪ বলে ৫৭ রান করেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। ততক্ষণে আবাহনীর রান ধরা ছোয়ার বাইরে।

মোহামেডানের বোলারদের মধ্যে এনামুল জুনিয়র ১০ ওভারে ৮৪ রান খরচ করে নিয়েছেন একটি উইকেট। এছাড়া আরিফুল হক সর্বোচ্চ দুটি এবং থিসারা পেরেরা ও নাঈম ইসলাম প্রত্যেকে একটি করে উইকেট নিয়েছেন।

৩৭২ রানের জয়ের লক্ষ্যে খেলতে নেমে শুরুতেই দিশেহারা হয়ে যায় মোহামেডানের ব্যাটসম্যান। বিকেএসপির স্পিন সহায়ক উইকেটে একের পর এক উইকেট হারাতে থাকে মোহামেডান। দলীয় ৮ রানে দুই ওপেনার ইজাজ আহমেদ ও সৈকত আলীকে হারায় মোহামেডান। তৃতীয় উইকেটে নাঈম ইসলাম ও মুশফিকুর রহিম কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু নাঈম ইসলামকে স্পিন ঘুর্ণির ফাঁদে ফেলে সাজঘরের পথ ধরান সাকলাইন সজিব। তখনই মূলত ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় তারা।

থিসেরা পেরেরার মতো ক্রিকেটারও যখন রান করতে বাধা দিলের আবাহনীর বোলাররা, তখন মোহামেডানের ব্যর্থতার ষোলোকলা পূর্ণ হয়েছে। মোসাদ্দেক হোসেনের বলে ৫ রান করে নাজমুল হোসনকে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নিয়েছেন তিনি। এর কিছুক্ষণ পরই ফিরে যান মুশফিকুর রহিম। ৩২ বলে ৪ চারে তিনি ২৬ রানের ইনিংস খেলেন। মোহামেডানের লেট মিডল অর্ডার ব্যর্থ হলে ১১১ রানেই থেমে যায়।

আবাহনীর বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৫টি উইকেট নিয়েছেন সাকিব আল হাসান। তিনি ৬.৩ ওভারে ১৮ রান খরচায় নিয়েছেন ৫টি উইকেট। এছাড়া সাকলাইন সজিব ও মোসাদ্দেক হোসেন প্রত্যেকে দুটি উইকেট নিয়েছেন। ম্যাচে একটি মাত্র উইকেট পড়েছে পেস আক্রমনে। সেটি নিয়েছেন তাসকিন আহমেদ। ওপেনার সৈকত আলীকে রিটার্ন ক্যাচে তালুবন্দী করেন তাসকিন।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :