সন্ধ্যা ৬:১৮, রবিবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং
/ ক্রিকেট / সৌম্য-মোশাররফদের দ্বিতীয় হার
সৌম্য-মোশাররফদের দ্বিতীয় হার
মে ১৬, ২০১৬

ওয়ালটন ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে চতুর্থ জয় তুলে নিয়েছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব। সোমবার সাভারের বিকেএসপিতে প্রাইম ব্যাংক ৬০ রানে হারিয়েছে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জকে। সৌম্য সরকার ও মোশাররফ হোসেন রুবেলদের লিগে এটা দ্বিতীয় হার।

প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে ৯ উইকেটে ২৯৯ রান সংগ্রহ করে প্রাইম ব্যাংক। জবাবে সবকটি উইকেট হারিয়ে ২৩৯ রানে গুটিয়ে যায় লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ।

আগে ব্যাটিং করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি প্রাইম ব্যাংকের। ২৫ রানে ইয়াসির আলী (২) ফিরে যান। দ্বিতীয় উইকেটে দলকে টেনে তোলার দায়িত্ব নেন ওপেনার মেহেদী মারুফ ও সাব্বির রহমান। সাব্বির রহমানও হতাশ করেন। মাত্র ১১ রানে সাজঘরের পথ ধরেন প্রাইম ব্যাংকের আইকন সাব্বির।

একপ্রান্ত আগলে খেলে যেতে থাকেন মেহেদী মারুফ। তুলে নেন লিগের দ্বিতীয় হাফসেঞ্চুরি। কিন্তু পুরনো বৃত্তে ঘুরপাক খেতে থাকেন ডানহাতি টপ অর্ডার এ ব্যাটসম্যান। ভালো শুরু পেলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি। ৬৪ বলে ৭৫ রানে ফিরে আসেন আসিফ আহমেদের বলে। তার সঙ্গে ৫২ রানের জুটি বাঁধেন নুরুল হাসান সোহান।

এরপরই ম্যাচের দৃশ্যপট পাল্টে দেন সোহান ও শচীন রানা। চতুর্থ উইকেটে তাদের ব্যাট থেকে আসে ৯৮ রান। সোহান দেখে শুনে সেঞ্চুরির পথে বেশ ভালো এগিয়ে যেতে থাকেন। কিন্তু ভারতীয় সোহান ৪০ রানে সাজঘরে ফিরেন আলাউদ্দিন বাবুর বলে। সতীর্থ হারানোর পরপরই প্রথমবারের মত লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে তিন অঙ্কের ম্যাজিকাল ফিগারের দেখা পান সোহান। ১০৭ বলে শতরান তুলে নেন ৬ চার ও ২ ছক্কায়। এরপর স্কোরবোর্ডে আরও ৮ রান যোগ করে নাহিদুলের বলে সৌম্যর হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফিরেন ডানহাতি এ ব্যাটসম্যান।

শেষ দিকে প্রাইম ব্যাংকের স্কোরবোর্ডে গুরুত্বপূর্ণ ২৫ রান যোগ করেন তাইবুর রহমান। রায়হান উদ্দিন ১৪ রানে অপরাজিত থাকেন। শেষ পর্যন্ত ৯ উইকেটে ২৯৯ রান সংগ্রহ করে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

বল হাতে রূপগঞ্জের হয়ে ২টি করে উইকেট নেন মোশারাফ হোসেন রুবেল, আসিফ আহমেদ, আলাউদ্দিন বাবু ও নাহিদুল ইসলাম। এদিন বল হাতে ২ ওভারে ১৩ রান খরচায় ১ উইকেট নেন সৌম্য সরকার।

৩০০ বলে ৩০০ রানের জবাবে ব্যাটিং করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ। দলটির আইকন ক্রিকেটার সৌম্য সরকার মাত্র ১৭ রানে সাজঘরে ফিরে আসেন। সৌম্যর পথ ধরেন মিজানুর রহমান (১), মোহাম্মদ মিঠুন (৬)। ৩৯ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বিপদে রূপগঞ্জ। চতুর্থ উইকেটে খানিকটা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন রূপগঞ্জের বিদেশী ক্রিকেটার জালাজ সাক্সেনা ও মোশাররফ হোসেন রুবেল। ৪৭ রান যোগ করেন তারা। এ প্রতিরোধ ভাঙেন রায়হান উদ্দিন। রূপগঞ্জের আগের ম্যাচের জয়ের নায়ক মোশাররফ হোসেন রুবেলকে ব্যক্তিগত ২৫ রানে সাজঘরে ফেরত পাঠান রায়হান উদ্দিন। পঞ্চম উইকেটে ৫৮ রান যোগ করেন আসিফ আহমেদ ও জালাজ সাক্সেনা। কিন্তু এ জুটির বিদায়ের পর আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি রূপগঞ্জ। ওপেনার জালাজ সাক্সেনা ৫২ ও রাতুল ৪৭ রানে যখন তখনও রূপগঞ্জের প্রয়োজন ছিল ১৩০ রান। সেই লক্ষে নাহিদুল ইসলামের ২৮ , সাজ্জাদুল হকের ১৬ ও আবু হায়দারের ২১ রানে ২৩৯ রান করে রূপগঞ্জ। ৬০ রানের বড় পরাজয়ের তিক্ত স্বাদ পেতে হয় সৌম্য সরকারদের।

ব্যাট হাতে ৪০ রানের পর বল হাতেও ৪ উইকেট নেন শচীন রানা। এছাড়া ২ উইকেট নেন নাজমুল ইসলাম ও রুবেল হোসেন। ১টি করে উইকেট নেন রায়হান উদ্দিন ও মনির হোসেন। ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন সেঞ্চুরিয়ান নুরুল হাসান সোহান।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :