রাত ১:০৯, শনিবার, ১৭ই নভেম্বর, ২০১৭ ইং
/ ক্রিকেট / মাশরাফিদের অবিশ্বাস্য হার
মাশরাফিদের অবিশ্বাস্য হার
মে ১৮, ২০১৬

শেষ সময়ের নাটকীয়তায় ব্রাদার্স ইউনিয়নের কাছে হেরেছে কলাবাগান ক্রীড়া চক্র। ৭ উইকেট হাতে নিয়েও ৫ ওভারে প্রয়োজনীয় ২৫ রান করতে পারেনি মাশরাফি বিন মুর্তজার দল। দারুণ এক শতক করেও ৯ রানে হারের হতাশা নিয়ে দেশে ফিরে যাচ্ছেন দলটির মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান হ্যামিল্টন মাসাকাদজা।
বুধবার রাতেই জিম্বাবুয়ে ফিরে যাওয়ার কথা মাসাকাদজার। তার আগে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে চলতি আসরে নিজের দ্বিতীয় শতক তুলে নিয়েছেন এই ব্যাটসম্যান। এই মুহূর্তে লিগে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকও তিনিই। ৪১৯ রান করে তিনি পেছনে ফেলেছেন প্রাইম দোলেশ্বরের ওপেনার ইমতিয়াজ হোসেনকে (৪০৪)। বুধবার বিকেএসপির তিন নম্বর মাঠে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ৪৯ ওভার তিন বলে অলআউট হওয়ার আগে ২৬২ রান করে ব্রাদার্স। জবাবে চার বল বাকি থাকতে ২৫৩ রানে গুটিয়ে যায় কলাবাগান। জয়ের সম্ভাবনা জাগিয়েও শেষ ১৫ রানে ৭ উইকেট হারানোয় মাশরাফির দলের সঙ্গী অবিশ্বাস্য হার। ল্য তাড়া করতে নেমে সাদমান ইসলামের সঙ্গে জসিমউদ্দিনের ৫৬ রানের জুটি সতর্ক সূচনা এনে দেয় কলাবাগানকে। তবে উইকেটে থিতু হয়ে দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান ফিরে গেলে কিছুটা চাপে পড়ে দলটি। তৃতীয় উইকেটে তাসামুল হকের সঙ্গে ম্যাচ সেরা মাসাকাদজার ১২২ রানের জুটি ধাক্কা সামলে কলাবগানকে জয়ের পথে নিয়ে যায়। নাবিল সামাদের বল উড়িয়ে মারতে গিয়ে তাসামুলের (৪৫) বিদায়ে ভাঙে ১৯.১ ওভার স্থায়ী চমৎকার এই জুটি। মাসাকাদজা উইকেটে থাকায় ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল কলাবাগানের হাতেই। এক সময়ে দলটির স্কোর ছিল ৩ উইকেটে ২৩৮ রান। শেষ ৫ ওভারে দলটির প্রয়োজন ছিল ২৫ রান। নাবিলের বলে সঞ্জিত সাহাকে ক্যাচ দিয়ে মেহরাব হোসেন জুনিয়রের বিদায়ে ব্রাদার্সের ম্যাচে ফেরা শুরু। পরের ওভারের প্রথম বলে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন আগের ম্যাচে ঝড়ো ব্যাটিংয়ে শতক করা মাশরাফি। সেই ওভারে রান আউট হয়ে মাসাকাদজার বিদায়ে জয়ের সত্যিকারের সম্ভাবনা দেখতে শুরু করে ব্রাদার্স। ১০৫ বলে খেলা মাসাকাদজার ১১১ রানের ইনিংসটি গড়া ৯টি চার ও একটি ছক্কায়। তানভীর হায়দার, শরীফউল্লাহ, আব্দুর রাজ্জকদের সামর্থ্য ছিল এরপরও ম্যাচ বের করে নেওয়ার। কিন্তু সেই কাজটি করতে পারেননি তারা। নাবিলের বলে এগিয়ে এসে স্টাম্পড হন তানভীর। রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে এলবিডব্লিউ হন শরীফউল্লাহ। জয়ের জন্য শেষ ওভারে কলাবাগানের দরকার ছিল ১০ রান। অফ স্পিনার সাদিকুর রহমানের প্রথম দুই বলে উড়িয়ে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে রাজ্জাক ও দেওয়ান সাব্বির ক্যাচ দিয়ে ফিরে গেলে হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় দলটিকে। কলাবাগানের শেষ সাত ব্যাটসম্যানের কেউই দুই অঙ্কে যেতে পারেননি। ৪৭ রানে চার উইকেট নিয়ে ব্রাদার্সের সেরা বোলার বাঁহাতি স্পিনার নাবিল। এর আগে শুরুতেই আগের ম্যাচে শতক করা শাহরিয়ার নাফীসকে হারায় ব্রাদার্স। তার কোনো প্রভাব দলের ওপর পড়তে দেননি তুষার ইমরান। ইমরুল কায়েসের সঙ্গে ১২৬ রানের জুটিতে দলকে বড় সংগ্রহের পথে রাখেন তিনি। এক সময়ে কলাবাগানের স্কোর ছিল ১ উইকেটে ১৬২ রান। তুষারকে (৭৭) ফিরিয়ে শরীফউল্লাহ বিপজ্জনক হয়ে উঠা দ্বিতীয় উইকেট জুটি ভাঙার পর খেলার চিত্রটা পাল্টে যায়। অনেক বড় স্কোরের সম্ভাবনা জাগানো ব্রাদার্স কোনোমতে আড়াইশ পার হয়। ১০০ রান যোগ করতে শেষ নয় উইকেট হারানো দলটি পুরো পঞ্চাশ ওভারও ব্যাট করতে পারেনি। তুষার ফিরে যাওয়ার পরের ওভারে বিদায় নেন ইমরুলও (৬৭)। তৃতীয় সর্বোচ্চ ২৭ রান আসে মিলিন্দ কুমারের ব্যাট থেকে। সাদিকুর (২২) ও নূর আলম (২৩) ছাড়া ব্রাদার্সের শেষ সাত ব্যাটসম্যানের আর কেউ দুই অঙ্কে যেতে পারেননি। কলাবাগানের সাব্বির, শরীফউল্লাহ, মাসাকাদজা ও রাজ্জাক দুটি করে উইকেট নেন। এই ম্যাচে খরুচে ছিলেন মাশরাফি। ৯ ওভারে ৭৩ রান দিয়ে উইকেটশূন্য ছিলেন তিনি। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে এটি ব্রাদার্সের চতুর্থ জয়, অন্য দিকে মাশরাফিদের পঞ্চম হার।
সংপ্তি স্কোর : ব্রাদার্স ইউনিয়ন : ৪৯.৩ ওভারে ২৬২ (শাহরিয়ার ১৫, ইমরুল ৬৭, তুষার ৭৭, মিলিন্দ ২৭, জাকির ২, রুমান ৫, সাদিকুর ২২, নূর আলম ২৩, সঞ্জিত ৯, আরিফ ৬, নাবিল ০*, সাব্বির ২/১৮, শরীফউল্লাহ ২/২৮, মাসাকাদজা ২/৪৩, রাজ্জাক ২/৫৬)
কলাবাগান ক্রীড়া চক্র : (সাদমান ৩০, জসিম ৩০, মাসাকাদজা ১১১, তাসামুল ৪৫, মেহরাব জুনিয়র ৬, মাশরাফি ২, শরীফউল্লাহ ৬, তানভীর ১, রাজ্জাক ৪, সাব্বির ০, শাহবাজ ০*, নাবিল ৪/৪৭, সাদিকুর ২/২৩, মিলিন্দ ১/২৭, আসিফ ১/৪১, তুষার ১/৪৪)। ফল : ব্রাদার্স ইউনিয়ন ৯ রানে জয়ী। ম্যান অব দ্য ম্যাচ : হ্যামিল্টন মাসাকাদজা।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :