রাত ১:৫৮, শনিবার, ২০শে জানুয়ারি, ২০১৭ ইং
/ ক্রিকেট / মাঠে ফিরে ভালো খেলার প্রত্যয় শাহাদাতের
মাঠে ফিরে ভালো খেলার প্রত্যয় শাহাদাতের
মে ১১, ২০১৬

ঘরোয়া ক্রিকেটের নিষেধাজ্ঞা উঠেছে বাংলাদেশের পেসার শাহাদাত হোসেনের উপর থেকে। বাংলাদেশের ক্রিকেট বোর্ডের অনুমতিক্রমে শেষ পর্যন্ত অনুমতি পেয়েছেন গৃহকর্মী নির্যাতনের অভিযোগে কারাভোগী পেসার শাহাদাত হোসেন। গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে গৃহকর্মী হ্যাপিকে নির্যাতনের অভিযোগে দুই মাস কারাবাসের পর জামিনে ছাড়া পেয়ে গত ২৮ এপ্রিল আনুষ্ঠানিক ভাবে ক্ষমা চাওয়ায় মঙ্গলবার (১০ মে) বিসিবি ক্ষমা করে দেয় শাহাদাত হোসেনকে।
তবে, শাহাদাতের প্রতি বিসিবি’র এই ক্ষমা সাময়ীক। বাংলাদেশ ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমতিক্রমে কোন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নয়, আপাতত ঘরোয়া ক্রিকেট খেলতে পারবেন শাহাদাত।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড শাহাদাতকে ক্ষমা করে দেওয়ার পর গণমাধ্যমকে নিজের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি যখন খেলার বাইরে ছিলাম, আমার জন্য ব্যাপারটা অনেক কষ্টদায়ক ছিলো। সব সময় খেলতে মন চাইতো। বিপিএল খেলতে পারিনি। সব সময় আফসোস লাগতো। ক্রিকেট বোর্ডকে ধন্যবাদ। তারা সব সময় আমার পাশে ছিল। আমি যখনই সাহায্য চেয়েছি, আমাকে সাহায্য করেছে। সাংবাদিকরাও আমাকে অনেক সাহায্য করেছেন। বিশেষ করে রিহ্যাবের সময় সবাই আমাকে অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে।’
বিসিবির ক্ষমার পর এখন মাঠে ফেরা নিয়ে রীতিমতো উদগ্রীব ডানহাতি পেসার বলেন, ‘মাঠে ফিরতে পারলে ভালো খেলার চেষ্টা করবো। আমি সব সময়ই বলি আমার এখনো জাতীয় দলকে অনেক কিছু দেয়ার আছে। আমি দশ বছর খেলেছি। আরো পাঁচ ছয় বছর খেলতে চাই।’
কোন ব্যাপারটা ভুলে সামনে এগোতে চাইবেন? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে শাহাদাত জানান, ‘সবচেয়ে বড় কথা হল আমার বয়স এখন ২৮ বছর। আগে মন মানসিকতা অন্য রকম ছিল। পেসার হিসেবে আমার জীবনটা খুব ভালো ছিল না। নানা রকম অনিয়ম ছিল। এখন আমি কীভাবে এগুবো, তা আমার মাথায় আছে। সব কিছু চিন্তায় আছে। ইনশাল্লাহ আমি সব কিছু বদলে ফেলতে পারব।’
এদিকে গৃহকর্মী নির্যাতনে তার বিপক্ষে অভিযোগ গঠনের পর পালিয়ে বেড়াতে হয় শাহাদাতকে। ঠিকমতো রিহ্যাব করতে পারেননি। এমন অবস্থার মধ্যে যাওয়ার পর খেলাটা সঙ্গত কারণেই তার জন্য বেশ কঠিনই হয়ে দাঁড়ানোর কথা। কিন্তু হাল ছাড়েননি শাহাদাত। ফিটনেস ধরে রাখতে তিনি কারগারে নিয়মিত অনুশীলন করেছেন এবং বর্তমানে ফিটনেসও যথেষ্টই ভাল বলেই দাবি তার। ‘আমি কিন্তু কারাগারে সুযোগ পেলেই খেলেছি, অনুশীলনও করেছি। জেলে তো জিম নাই। আমার জেদ ছিল দ্রুত ফিট হওয়ার। আজ ফিটনেস টেস্ট দিলাম। আপনারা জানতে পারবেন, কেমন হলো। এখন আমি পুরো শক্তিতে বোলিং করতে পারছি। ফিটনেস আগের চেয়ে খুব ভালো।’
নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে জাতীয় দলে ফিরতে টাইগার পেসার মাশরাফি তাকে সব সময় সহযোগিতা করেছেন বলে মাশরাফির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে শাহাদাত বলেন, ‘মাশরাফি ভাইয়ের সাথে কথা হয়েছে। হয়তো তার সুপারিশের কারণেই আমি খেলার সুযোগ পাচ্ছি। আমি যখন ছোটবেলায় ক্রিকেট খেলি, তখন মাশরাফি ভাই ছিলেন আমাদের অনুপ্রেরণা। আমি মাশরাফি ভাইয়ের বড় ভক্ত।’



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :