রাত ১:১৮, বুধবার, ১৭ই জানুয়ারি, ২০১৭ ইং
/ ক্রিকেট / আবাহনী ৯-৪ মোহামেডান!
আবাহনী ৯-৪ মোহামেডান!
মে ১১, ২০১৬

ওয়ালটন ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে বৃহস্পতিবার মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হচ্ছে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আবাহনী লিমিটেড ও মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। দুই দলের লড়াই মানেই টান-টান উত্তেজনা। মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি মাঠের বাইরের লড়াইও বেশ জমজমাট।
ক্রিকেট, ফুটবল কিংবা হকি- ক্রীড়াঙ্গনে ঢাকা লিগ মানেই আবাহনী-মোহামেডান। এ দুই দলের খেলা হলে এক বিন্দুর ক্রিকেটপ্রেমিরাও দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। অতীত আমেজ না থাকলেও এখনো আবাহনী-মোহামেডান মানে তুমুল উত্তেজনা, চায়ের কাপে ঝড় আর হই-হুল্লোড়। ক্ষণে ক্ষণে এ ম্যাচে রঙ পাল্টায়। ক্ষণে ক্ষণে বেড়ে যায় চাপ, আবেগ ও প্রতিদ্বন্দ্বীতা। সেই লড়াইয়ে বৃহস্পতিবার মাঠে নামছে দুই দল।
কে জিতবে, আবাহনী না মোহামেডান? প্র্রশ্নটা মিরপুরে গত কয়েকদিন ধরেই ঘুরপাক খাচ্ছে। গত নয় বছরের ইতিহাস বলছে উত্তেজনা ও মর্যাদার লড়াইয়ে আবাহনী এগিয়ে। তবে দলবদল হওয়াতে নয় বছরে একেক জন খেলছেন একেক দলে।
ঢাকা লিগে ২০০৭-০৮ মৌসুম থেকে ২০১৪-১৫ মৌসুম পর্যন্ত ১৩টি ম্যাচ খেলেছে দুই দল। এতে জয়ের পাল্লা ভারী আবাহনীর। মোহামেডানের ৪ জয়ের বিপরীতে আবাহনীর জয় ৯টিতে।

এক নজরে দুই দলের মুখোমুখি (২০০৭-০৮ থেকে ২০১৪-১৫):

২০১৪-১৫ মৌসুম

দুই দলের শেষ দুই মুখোমুখির দুটিতেই জয় আবাহনীর। গত আসরে লিগ পর্বের প্রথম রাউন্ডেই মুখোমুখি হয়েছিল তারা। মিরপুর শের-ই-বাংলায় অনুষ্ঠিত ম্যাচে মোহামেডানকে ৫ উইকেটে হারিয়েছিল ধানমন্ডি পাড়ার ক্লাবটি। এরপর সুপার লিগে জয়ের ব্যবধান নেমে আসে ৩ উইকেটে। ম্যাচটি হয়েছিল ফতুল্লায়। গত আসরে আবাহনীতে খেলেছিলেন নাসির হোসেন ও জিয়াউর রহমান। অন্যদিকে মোহামেডানের হয়ে খেলেছিলেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। এবার তাদের কেউই আগের দলে নেই।

২০১৩-১৪ মৌসুম

২০১৩-১৪ মৌসুমে মাশরাফির নেতৃত্বে আবাহনীর বিপক্ষে জয়ের স্বাদ পেয়েছিল মোহামেডান। শামসুর রহমানের অপরাজিত ১০৫ রানের ইনিংসে আবাহনীর দেওয়া ২৮২ রানের টার্গেট টপকে গিয়েছিল মতিঝিল পাড়ার ক্লাবটি। শামসুর শতরান উপহার দিলেও মোহামেডানের অধিনায়ক মাশরাফি নিয়েছিলেন ৪০ রানে ৪ উইকেট। ওই মৌসুমে আবাহনীর অবস্থা ছিল একেবারেই করুণ। রেলিগেশন এড়াতে লড়তে হয়েছিল তাদের। ১০ ম্যাচে ৬ জয়ের বিপরীতে ৪ হার তাদের।

২০১২-১৩ মৌসুম

এই মৌসুমে লিগ আয়োজন করতে পারেনি সিসিডিএম।

২০১১-১২ মৌসুম

এই মৌসুমে আবাহনীর জয়-জয়কার। গ্রুপ পর্ব ও সুপার লিগ দুটোই জিতে নেয় তারা। প্রথমটিতে ৫ উইকেটে জয়ের পর দ্বিতীয়টিতে জয় পায় ৩ উইকেটের ব্যবধানে।

২০১০-১১ মৌসুম

১-১ এ সময়তায় ছিল দুই দলের লড়াই। মোহামেডানকে উড়িয়ে আবাহনী ১০ উইকেটে জয় পেলেও সুপার লিগে মোহামেডান বেশ কষ্টে ১ উইকেটে জয় তুলে নেয়।

২০০৯-১০ মৌসুম

২০০৯-১০ মৌসুমে গ্রুপ পর্ব ও সুপার লিগে জয় পায় মোহামেডান। শক্ত দল গড়েও মোহামেডানের সঙ্গে পারেনি আবাহনী। সেবার আবাহনীর হয়ে খেলেছিলেন সাকিব আল হাসান, মোহাম্মদ রফিক ও নাসির হোসেন। অন্যদিকে মোহামেডানে খেলেছিলেন শামসুর রহমান, মোহাম্মদ আশরাফুল ও আফতাব আহমেদের মতো ক্রিকেটাররা। গ্রুপ পর্বের ৬ উইকেটে জয়ের পর সুপার লিগে ৩ উইকেটে জয় পায় আশরাফুলের দল।

২০০৮-০৯ মৌসুম

এই মৌসুমে গ্রুপ পর্ব ও সুপার লিগে দুবারই মোহামেডান হেরেছে বড় ব্যবধানে। গ্রুপ পর্বে ৫ উইকেটে হারের পর সুপার লিগে মোহামেডান হেরে যায় ১২২ রানে। সেবার শ্রীলঙ্কার সনাৎ জয়াসুরিয়াকে এনেও মাশরাফির আবাহনীর কাছে হার ঠেকাতে পারেনি মোহামেডান।

২০০৭-০৮ মৌসুম

২০০৭-০৮ মৌসুমে প্রথম মুখোমুখিতে মিরপুর শের-ই-বাংলায় আবাহনী ২ উইকেটে জয় পায়। মোহামেডান আগে ব্যাটিং করে মাত্র ১৬২ রানে অলআউট হয়ে যায়। জবাবে ৮ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে আবাহনী। সুপার লিগে মোহামেডানের ভাগ্য ফেরেনি। আগে ব্যাটিং করে মোহাম্মদ আশরাফুলের মোহামেডান মাত্র ১৩৩ রান করে। জবাবে সগির হোসেন পাভেল (৬৭) ও শাহরিয়ার নাফীসের (৬২) ব্যাটে ৯ উইকেটে জয় পায় আবাহনী।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :