রাত ৩:৩৫, শনিবার, ২০শে অক্টোবর, ২০১৭ ইং
/ অলিম্পিক (বিওএ) / ২০ কৃতী নারী ক্রীড়াবিদকে সম্মাননা দিলো বিএসপিএ
২০ কৃতী নারী ক্রীড়াবিদকে সম্মাননা দিলো বিএসপিএ
এপ্রিল ১৬, ২০১৬

বাংলাদেশ ক্রীড়ালেখক সমিতির (বিএসপিএ) আয়োজনে ফেয়ার অ্যান্ড লাভলী ফাউন্ডেশন অদম্য নারী শিরোনামে নারী ক্রীড়াবিদের মিলনমেলা বসেছিলো জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের অডিটরিয়ামে। শনিবার বিকাল চারটায় এক ছাদের নিচে মিলিত হয়েছিলেন দেশের সকল নারী কৃতী ক্রীড়াবিদ।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশি-বিদেশি আসরে ২০ জন স্বর্ণপদক পাওয়া নারী ক্রীড়াবিদকে ক্রেস্ট দিয়ে সম্মাননা জানানো হয়। তারা হলেন, মাহফুজা খাতুন শিলা (সাঁতার), মাবিয়া আক্তার সীমান্ত (ভারত্তোলন), শারমিন ফারজানা রুমি (তায়কোয়ান্দো), শাম্মী আক্তার (তায়কোয়ান্দো), মুন্নি খানম (কারাতে), জ উ প্রু (কারাতে), উসাইনু মারমা (কারাতে), মরিয়ম খাতুন (কারাতে), ইতি ইসলাম (উশু), শারমিন আক্তার রতœা (শ্যুটিং), সৈয়দা সাদিয়া সুলতানা (শ্যুটিং), তৃপ্তি দত্ত (শ্যুটিং), শারমিন আক্তার (শ্যুটিং), ফৌজিয়া হুদা জুঁই (অ্যাথলেটিকস), লাভলী চৌধুরী আঁখি (শ্যুটিং), রহিমা খানম যুঁথি (অ্যাথলেটিকস), সাবরিনা সুলতানা (শ্যুটিং), কাজী শাহানা পারভীন (শ্যুটিং), মোল্লা সাবিরা সুলতানা (ভারোত্তোলন) ও শাহরিয়া সুলতানা সুচি (ভারোত্তোলন)। এছাড়া ক্রীড়ায় বিশেষ অবদান রাখায় রানী হামিদকে বিশেষ সম্মাননা দেয়া হয়। সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর প্রধান অতিথি হিসেবে কৃতী নারী ক্রীড়াবিদদের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন। মন্ত্রী আশা করেন, বিএসপিএ তার এই উদ্যোগ আগামী দিনগুলোতেও অব্যাহত রাখবে।
BSPA-3
দেশের নারী ক্রীড়াবিদদের অগ্রগন্য রানী হামিদ। যাকে সবাই দাবার রানী বলেই জানেন। সেই রানী হামিদ বিশেষ সম্মাননা পেয়ে দারুণ খুশী। তার কথায়, ‘খুব ভালো লাগছে। অদম্য নারী- এমন পুরস্কার পেয়ে খুব ভালো লাগছে। অনেককেই আজ দেখতে পেরেছি এই অনুষ্ঠানের কল্যাণে। তাই আমার মনটাও ভালো। বিদেশের মাটিত লাল সবুজের পতাকা উড়ানো এই মেয়েদের দেখে আমি খুব আনন্দিত। ধীরে ধীরে এই সংখ্যাটা আরও বাড়বে-এই প্রত্যাশাই করছি।’
বিকেএসপির উপ-পরিচালক (প্রশিক্ষণ) ও জাতীয় পুরস্কার পাওয়া সাবেক তারকা অ্যাথলেট শামীমা সাত্তার মিমোও উচ্ছ্বসিত এমন অনুষ্ঠানে আসতে পেরে। তার কথায়, ‘খুব ভালো লাগছে এখানে এসে। কতদিন পর অনেকের সঙ্গে দেখা হলো। অদম্য নারী- নামই বলে দিচ্ছে মেয়েদের জন্য কতটা মহতী উদ্যোগ। দেশের মেয়েরা এগিয়ে যাচ্ছে। এটা মেয়েদের আরও ভালো ফল করতে উৎসাহ যোগাবে।’ তিনি যোগ করেন, ‘সাঁতারে বিদেশী কোচ আসায় যেমন গতি বেড়েছে, তেমনি নেপাল এসএ গেমসের আগে অন্য ডিসিপ্লিনগুলোতেও বিদেশী কোচ আসলে গতি বাড়বে। বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গণের নতুন নতুন প্রযক্তির সঙ্গে পরিচিত হতে প্রয়োজনে আমাদের দেশের কোচদের বিদেশেও পাঠানো উচিত। যাতে নিত্য নতুন নিয়ম কানুন রপ্ত করে তারা আমাদের ক্রীড়াবিদদের অনুশীলন করাতে পারেন।’
BSPA-4
১৯৯১ ও ’৯৯ সাফ গেমসে স্বর্ণ জয়ী শুটার কাজী শাহানা পারভীন বলেন, ‘অদম্য নারী শিরোনাম শুনলেই স্পিড বেড়ে যায়। খুব ভালো লাগছে সম্মাননা পেয়ে।’ দেশের প্রথম স্বর্ণজয়ী নারী এই ক্রীড়াবিদ বলেন, ‘আমাদের সময়ে অনেক মনযোগি ছিলাম। কিন্তু এখনকার ছেলে মেয়েদের মধ্যে সে রকমটা দেখা যায় না। তাছাড়া সময় দিতে পারি না বলে তেমন খোঁজ খবরও রাখি না বর্তমান শুটিয়ের। নতুনদের জন্য শুধু এটুকুই বলব, সাধনা কর, ফল পাবে।’
১৯৯৩ ও ’৯৯ সাফ গেমসে স্বর্ণজয়ী শুটার সাবরিনা সুলতানা বলেন, ‘অদম্য নারী শব্দ দু’টাই ভালো লাগে। দেশের মেয়েরা এগিয়ে যাচ্ছে এটা ভাবতেই ভালো লাগে। তবে মাঝে সাঝে হতাশ হই যখন শুটিংয়ের মেয়েদের মধ্যে ইচ্ছা শক্তির অভাব দেখি। তাদের মধ্যে সাধনার ইচ্ছা কমে গেছে। আমাদের সময়ে ক্যাম্প বন্ধ থাকলে নিজেদের গুলি দিয়েই প্রশিক্ষণ করতাম। কিন্তু এখনকার মেয়েদের মধ্যে ভাবটা এমন, ক্যাম্প বন্ধ তো আমাদের অনুশীলনও বন্ধ-এমনটাই।’
২০১০ ঢাকা এসএ গেমসে স্বর্ণজয়ী কারাতেকা জ উ প্রুর কথায়, ‘আমি বান্দরবানের বৈসাবী উৎসব রেখে এখানে এসেছি। অদম্য নারী- অনুষ্ঠানে এসে পুরনো দিনের কথা মনে পড়ে গেলো। যদিও আমি এখন সংসারি। তবে এবারের গৌহাটি-শিলং এসএ গেমসে কারাতে ডিসিপ্লিনটি না থাকায় আমিও হতাশ হয়েছি। হয়তো অংশও নিতে পারতাম। সেই সুযোগটি নষ্ট হয়েছে।’
গৌহাটি-শিলং এসএ গেমসে দু’টি স্বর্ণজয়ী সাঁতারু মাহফুজা খাতুন শিলার কথা, ‘স্বর্ণ জয়ের পর যেন সংবর্ধনায় ভাসছি। তবে ক্রীড়া সাংবাদিকদের সংগঠন ক্রীড়ালেখক সমিতির কাছ থেকে এমন সম্মাননা পেয়ে আমি গর্বিত। আশাকরি এই পুরস্কার আমাকে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে সহায়তা করবে।’ স্বর্ণজয়ী ভারোত্তোলক মাবিয়া আক্তার সীমান্ত বলেন, ‘স্বর্ণজয়ের পর আমার জীবনে আশাতীত পরিবর্তন এসেছে। তবে আগামীতে সাফল্য পেতে হলে আমাদের জিমন্যাশিয়াম আরও বড় করা প্রয়োজন।’

সংবাদ প্রেরক

জিয়াউদ্দিন সাইমুম
দফতর সম্পাদক



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :