দুপুর ২:০৪, শুক্রবার, ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ইং
/ ক্রিকেট / জাতীয় দলে ফিরবেন, বিশ্বাস জিয়ার
জাতীয় দলে ফিরবেন, বিশ্বাস জিয়ার
এপ্রিল ৫, ২০১৬

বাংলাদেশ দলে জিয়াউর রহমানের অন্তর্ভূক্তি হয়েছিল হার্ডহিটার ব্যাটসম্যান হিসেবে। বল হাতে মিডিয়াম পেসটা ভালো করতে পারায় দলে অলরাউন্ডার হিসেবে বিবেচনায় থাকতেন। এ কারণে টি-টোয়েন্টি দিয়েই বাংলাদেশ দলে অভিষেক ঘটে খুলনার এ ক্রিকেটারের।
বেলফাস্টে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে অভিষেক ম্যাচেই তাক লাগিয়েছিলেন। মাত্র ১৭ বলে ৫টি ছক্কায় করেন ৪০ রান। তাকে ঘিরে প্রত্যাশার বেলুনও বড় হতে থাকে সবার। এরপর ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টি দলে নিয়মিতই দেখা যেত জিয়াকে। হারারেতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একটি টেস্টও খেলেন। তবে শুরুর জিয়াকে খুঁজে পাওয়া যায়নি শেষের বেশ কয়েকটি ম্যাচে।
পারফরম্যান্সের গ্রাফ একটু নেমে যেতেই বাদ পড়েন দলে থেকে। টাইগারদের হয়ে সর্বশেষ ম্যাচ খেলেছেন ২০১৪ সালে ঘরের মাঠে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। এখন কি করছেন জিয়া?
খুলনার শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে ইনডোরের নেটে ধুপ-ধাপ আওয়াজ। বোলার বল করছেন আর ব্যাটসম্যান সপাটে ব্যাট চালাচ্ছেন। বল গুলোকে চমৎকারভাবে ব্যাটের সুইটপার্টে এনে খেলছেন ড্রাইভ। ঠিক চেনা যাচ্ছে না। কৌতুহল নিয়েই ইনডোর ম্যানেজারের কাছে জানতে চাওয়া ব্যাটসম্যানটা কে, উত্তর এলো, ‘জনি। জাতীয় দলে খেলতো’। জনি নামে কেউ জাতীয় দলে কখনও খেলেছে এমন কথা শুনিনি। হেলমেটটা খুলতেই সব কৌতুহল শেষ! এ তো জিয়াউর রহমান! খুলনার মানুষের কাছে জনি নামেই পরিচিত এই ক্রিকেটার।
এমনিতেই ইনডোর আর দীর্ঘক্ষণ ব্যাটিং করায় অঝোরে ঘাম ঝরছে শরীর থেকে। খুলনার আরেক ক্রিকেটার নুরুল হাসান সোহান ও ভেন্যু ম্যানেজার আব্দুস সাত্তার কচির সঙ্গে কিছুটা আড্ডা মেরে জিয়া ঢুকলেন জিমে। ওখানে বসেই কথা হলো তার সঙ্গে। শুরুতেই জানতে পারলাম বিপিএলে কাঁধের ইনজুরিতে পড়েছিলেন, ‘বিপিএলে খেলার সময় ডান কাঁধের ইনজুরিতে পড়ি। সার্জারিও করা হয়েছে। আলহামদুলিল্লাহ বিসিএল থেকে খেলা শুরু করেছি। এখন খুবই ভালো। আশা করছি, প্রিমিয়ার লিগ থেকে পূর্ণদ্যোমে মাঠে নামতে পারবো।’
প্রিমিয়ার লিগে ভালো করতে পারলে জাতীয় দলে আবার সুযোগ আসবে বলেই বিশ্বাস এ ক্রিকেটারের, ‘পারফরম্যান্সের দিক থেকে একটু পেছনে চলে আসছি। প্রিমিয়ার লিগে ভালো করে নিজেকে আগের জায়গায় নিয়ে আসতে হবে, সে লক্ষ্যেই ফিটনেস, ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং-সব ডিপার্টমেন্টেই কাজ করছি।’
জাতীয় দলে সুযোগটা কি আপনি অন্যদের তুলনায় কম পেয়েছেন-এমন প্রশ্নে জিয়া বললেন, ‘আমি কতটা সুযোগ পেয়েছি, পাইনি-এ নিয়ে কিছু বলে লাভ নেই। যতটুক সুযোগ পেয়েছি হয়তোবা আশানুরূপ করতে পারিনি। চেষ্টা করছি ওভারকাম করে আবার প্রিমিয়ার লিগে ভালো করে জাতীয় দলে আসার। নির্বাচকদের এখনো আমার দিকে দৃষ্টি আছে। ভালো করতে পারলে আবার ফিরতে পারবো।’
জাতীয় দলে অনেকদিন খেলার পর অনেকদিন ধরে বাইরে থাকার অভিজ্ঞতা যে কতটা কষ্টের সেটা জানা গেল প্রসঙ্গ বদলে, ‘অনেক খারাপ লাগে। একটা ক্রিকেটার জাতীয় দলে যখন সুযোগ পায় আর যখন ভালো করে তখন সবকিছুই পরিবর্তন হয়। তার পরিচিতি, উন্নতি সব কিছু। বাদ পড়লে ওই জিনিসটা থাকে না। কদর ,সম্মান, সুযোগ-সুবিধা কমে আসে। জাতীয় দলে খেললে সব আছে, বাদ পড়লে কিছুই নাই। ব্যাপারটা এমনই হয়। আসলে এটা আমাদের কালচার হয়ে গেছে। তবে, আমরা ওইভাবে মানিয়েও নিয়েছি।’
নিজের স্থান ফিরে পাওয়াটা এখানে দাঁড়িয়ে কতটা চ্যালেঞ্জিং মনে হচ্ছে-এমন প্রশ্নে জিয়া বললেন, ‘বাংলাদেশ দল অনেক ভালো পারফরম্যান্স করছে। ঢুকতে হলে এখন যারা আছে তাদের চেয়ে ভালো করতে হবে। একটা ছেলে ফিফটি মারলে, আমাকে সেঞ্চুরি মেরেই ফিরতে হবে-এমন মানসিকতা নিয়েই আগাতে হবে, আমাকে আরও কঠিন হতে হবে, পারফরম্যান্সে উন্নতি করতে হবে। সেই চ্যালেঞ্জটা কাঁধে নিয়েছি। বাকিটা উপর আল্লাহর ইচ্ছা।’



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :