বিকাল ৩:২৩, বুধবার, ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং
/ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ / পাক-ভারত যুদ্ধ শনিবার ইডেনে
পাক-ভারত যুদ্ধ শনিবার ইডেনে
মার্চ ১৮, ২০১৬

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে মূল পর্বের খেলা শুরু হয়েছে ১৫ মার্চ। ওই ম্যাচে ভারতীয় দর্শকদের মন ভরাতে পারেননি মহেন্দ্র সিং ধোনিরা। নিউজ্যিলান্ডের কাছে ৪৭ রানের পরাজয়ের লজ্জা পেতে হয়েছিল স্বাগতিক ভারতকে। তবে নিউজিল্যান্ডের ওই ম্যাচ ভুলে এখন ভারতীয়রা মেতেছে ইডেনে পাক-ভারত ম্যাচ নিয়ে। শনিবার কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে মুখোমুখি হচ্ছে ক্রিকেটের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত এবং পাকিস্তান।
এই ম্যাচে কি জিতবে পাকিস্তান? প্রতিটা বিশ্বকাপের আগেই এই প্রশ্ন তৈরী হওয়াটা যেন একটা স্বাভাবিক বিষয়ে পরিণত হয়েছে। কারণ ইতিহাসটা যে মোটেও পাকিস্তানের পে নয়। পুরোপুরিই ভারতের প।ে এখন পর্যন্ত কোনো বিশ্বকাপের কোনো আসরে ভারতের বিপে জয়ের স্বাদ পায়নি পাকিস্তান। সুতরাং পরিসংখ্যান কিংবা ইতিহাস যাই বলুন- এসব বলছে ইডেন কথা বলবে ভারতের হয়েই।
এখনও পর্যন্ত ওয়ানডে বিশ্বকাপে ৬ বার, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ৪ বার মুখোমুখি হয়েছে ভারত এবং পাকিস্তান। প্রতিটি ম্যাচই জিতেছে ভারত৷ ফলে তারা এগিয়ে ১০-০ ব্যবধানে। এর মধ্যে ২০০৭ সালে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ম্যাচ টাই হয়েছিল৷ বোল আউট নিয়মে সেই ম্যাচও জেতে ভারত৷
অবশ্য পরিসংখ্যান যাই হোক পাকিস্তানের স্বস্তি পাওয়ার মত ইতিহাসও রয়েছে। ইডেনে কোন ম্যাচেই পাকিস্তানকে হারাতে পারেনি ভারত। তবে কী এবার ইতিহাসটা বদলাতে যাচ্ছে? আত্মবিশ্বাসী পাকিস্তানের কোচ ওয়াকার ইউনুস। তার মতে, ‘শনিবারের ম্যাচে ভারতই পিছিয়ে থাকবে। কারণ তারা প্রথম ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের কাছে হেরেছে। ফলে তাদের কাছে এ ম্যাচ বাঁচা-মরার লড়াই। বিশ্বকাপ থেকেই ছিটকে পড়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে তাদের সামনে। এটা বাড়তি একটা চাপ তৈরী করেছে তাদের ওপর। অন্যদিকে গত ম্যাচটা জিতেছি আমরা। ব্যাটসম্যানরাও রান পেয়েছে। তাই আমাদের দলের খেলোয়াড়রা বেশ আত্মবিশ্বাসী।’
ওয়াকার তার বোলারদের নিয়ে আরও বেশি আত্মবিশ্বাসী। তিনি বলেন, ‘পাকিস্তানের বোলাররাই হচ্ছে এই টুর্নামেন্টে রিয়াল গেম চেঞ্জার। যদিও বুমরাহ এবং নেহরা খুবই প্রতিভাবান বোলার। তবে আমরাই এ েেত্র এগিয়ে থাকবো। কারণ, আমাদের পেসাররা ১৪৫-১৫০ কিলোমিটার গতিতে বল করতে পারে। মোহাম্মদ আমির এবং ওয়াহাব রিয়াজরা কিন্তু আমাদের সত্যিকারের ম্যাচ উইনার।’
তিনি আরও বলেন, ‘ইতিহাস বদলাতেই পারে। এবারই তার সেরা সময়। আশা করি এই সুযোগ আমরা কাজে লাগাতে পারব।’
এদিকে ম্যাচের আগে শুক্রবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন ভারতীয় অফস্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিন। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানে সীমান্ত যুদ্ধ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ কখনওই শুধু একটি ম্যাচ নয়। এটার সঙ্গে শুধু সীমান্ত সংঘাতের তুলনা চলে অ্যাসেজ থেকেও এর মাহাত্ম্য বেশি।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘চাপ তো যে কোনও ম্যাচেই থাকে। এতদিন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার পর কেউই আর বাড়তি চাপ অনুভব করে বলে মনে হয় না। তবে আবেগটা তো এই ম্যাচে একটু বেশি থাকেই।’
ভারতীয় এই অফস্পিনার বলেন, ‘এই রকম কঠিন অবস্থা থেকে কোনও দল যদি ঘুরে দাঁড়াতে পারে, তা হলে সেটা আমরাই।’
উল্লেখ্য, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই অন্যরকম এক উত্তেজনা। তবে এ উত্তেজনা দুই দেশের মাঝেই শুধু সীমাবদ্ধ থাকে না, এর রোমাঞ্চ ছড়িয়ে পড়ে সারা বিশ্বেই। এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটছে না। ফেসবুকসহ সব সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমেই ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে দুদদলের সমর্থকদের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য। যদিও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে পাকিস্তান আদৌ ভারতে যাবে কি না, শুরুতে তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছিল। আর তাতেই পাক-ভারত মহারণ দেখার আশা ফিকে হয়ে যায় ক্রিকেটপ্রেমীদের। তবে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অনেক আগেই কলকাতায় পৌঁছে আফ্রিদিরা এবং বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচও তারা খেলে ফেলেছে বাংলাদেশের বিপ।ে এবার মহারণে মাঠে নামার পালা। কলকাতার ইডেনে হচ্ছে সেই পাক-ভারত যুদ্ধ। সম্প্রতি ঢাকায়ও এই দু’দল মুখোমুখি হয়েছিল এশিয়া কাপে। জিতেছিল ভারত। তারা এশিয়া কাপের শিরোপা জিতেছে স্বাগতিক বাংলাদেশকে হারিয়ে।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :