সকাল ৮:০৫, বুধবার, ২৮শে জুন, ২০১৭ ইং
/ ফুটবল / সেলাঙ্গরের কাছেও হারলো শেখ জামাল
সেলাঙ্গরের কাছেও হারলো শেখ জামাল
মার্চ ১৫, ২০১৬

গোলরক্ষক শহিদুল আলম সোহেলের অমার্জনীয় ভুলে এএফসি কাপে গ্রুপ ই’তে মালয়েশিয়ার সেলাঙ্গরের কাছে ৪-৩ গোলে হারলো শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাব। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এ খেলার ৮৩ মিনিটে সেলাঙ্গরের আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড মাওরো অলিভির একটি দুর্বল শট সোহেলের হাত ফসকে গোল হয়ে গেলে ব্যবধান দাঁড়ায় ৪-৩। এ গোলটি না হলে অন্তত ড্র করতে পারতো শেখ জামাল, কিন্তু হার নিয়েই মাঠ ছাড়ে তারা।
সতর্কতার সঙ্গে শুরু করে দুই দলই প্রাথমিকভাবে একে অপরের কৌশল বোঝার জন্যই কিছুটা সময় নেয়। তবে ধীরে ধীরে আধিপত্য বিস্তার করে সেলাঙ্গরই। ফরোয়ার্ড লাইনে আর্জেন্টাইন অ্যাটাকার মাওরো অলিভি ও অ্যাটাকিং মিডফিল্ড পজিশনে খেলা প্যাট্রিক রোনালদিনহোর ওপরই বেশি নির্ভর ছিল তারা। আর সারা মাঠ জুড়ে চষে বেরিয়েছেন আরেক ফরোয়ার্ড গোপীনাথান।
শেখ জামাল তাদের তিন বিদেশি খেলোয়াড় অধিনায়ক ওয়েডসন, এমেকা ও ল্যান্ডিং ডারবের ওপরেই নির্ভর করে তাদের আক্রমণগুলো শানায়। ২৯ মিনিটে দুর্দান্ত গোল করেন জামালের গাম্বিয়ান ফরোয়ার্ড ল্যান্ডিং ডারবে। প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে দূরপাল্লার গড়ানো শটে লক্ষ্যভেদ করেন ল্যান্ডিং। সোহেল রানা ও ইয়ামিন মুন্না আক্রমণ গড়ে দেন। ল্যান্ডিং ডান পায়ের জোরালো শটে সেলাঙ্গর গোলরক্ষক নরজালানকে চমকে দেন। দীর্ঘদিন পর ঢাকার মাঠে দেশি কোনও ক্লাবের দর্শনীয় একটি গোলেই ম্যাচের অগ্রগামিতা নেয় শেখ জামাল।
তবে তাদের আনন্দের স্থায়িত্ব ছিল মাত্র কয়েক মিনিট। ছয় মিনিট পরেই সমতা আনে সেলাঙ্গর। উৎস ছিল মাওরো অলিভির মাপা ক্রস। মাঠের সবচেয়ে দীর্ঘদেহী খেলোয়াড় প্যাটট্রিক রোনালদিনহো হেড করে বল জালে জড়িয়ে দেন। সমতা আনার পর উজ্জ্বীবিত হয়ে উঠে জামালের প্রতিপক্ষ। সেলাঙ্গরের আরও দুটি আক্রমণ প্রায় গোল হয়ে যাচ্ছিল। ৪২ মিনিটে গোপীনাথানের বাঁ পায়ে বাঁকানো শট ও ৪৫ মিনিটে মাওরো অলিভের প্লেসিং জামালের সাইড পোস্ট ঘেঁষে বাইরে চলে যায়।
৫৩ মিনিট থেকে শুরু হয় ম্যাচের উত্থান পতনের নাটক। সেলাঙ্গর ২-১ গোলে এগিয়ে যায়। মালয়েশিয়ার জাতীয় দলের ফরোয়ার্ড গোপীনাথানের সুন্দর প্লেসিং শটে গোল হয়। কিন্তু তারা ভাবতেও পারেনি বারো মিনিট পরে সমতা আনবে শেখ জামাল। এবারও আক্রমণের উৎস ছিলেন ল্যান্ডিং। ল্যান্ডিংয়ের শট গোলরক্ষক ফিস্ট করেন। ফিরতি বলে ল্যান্ডিংয়ের হেড পৌঁছায় অরক্ষিত এমেকার কাছে। নিচু হেডে গোল করতে ভুল করেননি এই নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ড। এরপর সেলঙ্গারকে চমকে দেয় শেখ জামাল। ল্যান্ডিংয়ের নিখুঁত থ্রু পাস আয়ত্ত্বে নিয়ে চমৎকার ফুটওয়ার্কে গোল করেন ওয়েডসন। ৭০ মিনিটে আবারও প্যাটট্রিক রোনালদিনহো- গোপীনাথানের ভীতকর কম্বিনেশনে সমতায় ফেরে সেলাঙ্গর। বাঁ প্রান্তে ডিফেন্স অতিক্রম করে রোনালদিনহো। ছোট বক্সের উপর থেকে গোল করতে সমস্যা হয়নি গোপীনাথানের।
এর পর ৮৩ মিনিটে শেখ জামালের সব প্রত্যাশার ওপর জল ঢেলে দেন গোলরক্ষক শহীদুল আলম সোহেল। মাওরো অলিভির নির্বিষ শট সোহেলের হাত ফস্কে জালে জড়িয়ে যায়। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এই ধরনের গোল বিরল।
সিঙ্গাপুরের ট্যাম্পাইন্স রোভার্সের কাছে ৪-০, ফিলিপাইনের লা সালের কাছে ২-০ গোলে হেরে টানা তৃতীয় হারের স্বাদ নিল শেখ জামাল।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :