রাত ২:৪১, শুক্রবার, ২০শে জুলাই, ২০১৭ ইং
/ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ / লড়েই হেরেছে বাংলাদেশ
লড়েই হেরেছে বাংলাদেশ
মার্চ ২১, ২০১৬

বাংলাদেশ : ১৫৬/৫, ২০ ওভার
অস্ট্রেলিয়া : ১৫৭/৭, ১৮.৩ ওভার
ফল : অস্ট্রেলিয়া : ৩ উইকেটে জয়ী
এর চেয়ে কঠিন মানসিক পরীা আর কিছু হতে পারে না। সেই পরীায় বাংলাদেশ কত নম্বর পেল? রেজাল্ট বলছে বাংলাদেশ হেরেছে। আসলেই কি ‘হার’ বলা যাবে একে? তাসকিন-সানির নিষেধাজ্ঞায় আগেই হতাশায় নিমজ্জিত হয়েছিল মাশরাফি বাহিনী। সোমবার অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচ শুরুর আগে হজম করতে হলো আরও বড় এক ধাক্কা। দলের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল খেলছেন না। পেটে সমস্যার কারণে নেই একাদশে। খবর শুনে পুরো বাংলাদেশই যেন হতবাক। যাকে বলে ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’। ফলে রেজাল্ট কি হতে পারে তা শুরুতেই অনুমেয় ছিল। সত্যি বললে, অস্ট্রেলিয়ার মত দলের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ দাঁড়াতে পারবে কি না এ নিয়েই ছিল যথেষ্ট সন্দেহ।
কিন্তু আগের দিন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা বলেছিলেন, সব প্রতিকূলতার জবাব মাঠে দেবেন। এটা ঠিক ম্যাচ জেতা হয়ত হয়নি। টাইগাররা হেরেছে ৩ উইকেটে। কিন্তু কোনো পরিস্থিতিতেই তারা দমে যাবেন না, সেটা অনন্ত বুঝিয়ে দিয়েছেন মাশরাফি-মাহমুদুল্লাহ-মুস্তাফিজরা। বিশ্ব সেরাদের এমনিই জিততে দেননি। যথাসাধ্য লড়াই করেছেন। বলতে হবে, এত প্রতিকূলতায় দাঁড়িয়েও তারা যথেস্ট ভালো খেলেছেন। তামিমবিহীন বাংলাদেশ প্রথমে ব্যাট করে ৫ উইকেটে রান তুলে নেয় ১৫৬। কম কিসের! তার ওপর অজিদের তো প্রায় ধরেই ফেলেছিল। ১৫৭ রান তুলতে তাদের খেলতে হয়েছে ১৮.৩ ওভার। আর উইকেট খুইয়েছে বাংলাদেশের চেয়েও ২টি বেশি। ৯ বল হাতে রেখে মাত্র ৩ উইকেটে জিতেছে অস্ট্রেয়িলা। শেষ দিকে কয়েকটি ক্যাচ মিস না হলেও অন্য রকমও কিছু হতে পারত।
৬ষ্ঠ ওভারে বল করতে এসেছিলেন মুস্তাফিজ। প্রথম বলেই ক্যাচ তুলে দিয়েছিলেন শেন ওয়াটসন। অনেক ওপরে উঠলেও জায়গায় দাঁড়িয়ে থেকে ক্যাচটা মিস করে ফেললেন মোহাম্মদ মিঠুন। ১৮তম ওভার। বল করছেন সাকিব আল হাসান। তৃতীয় বলে ক্যাচ তুলে দিলেন জন হাস্টিংস। সহজ ক্যাচটা তালুতে নিয়েও ছেড়ে দিলেন আল আমিন হোসেন। ৫ম বলেই রান আউটদের দারুন সুযোগ। মিস করলেন মুশফিক। এভাবেই কয়েকটি ক্যাচ মিস আর মিস ফিল্ডিংয়ের কারণে শেষ দিকে সম্ভাবনা জাগিয়েও জয়টা পেল না বাংলাদেশ।
নিজেদের প্রথম ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে পরাজিত হওয়া অস্ট্রেলিয়া এ ম্যাচেও ব্যাটিংয়ে অস্বস্তিতে ভুগেছে। ওপেনার খাজাই মূলত তাদের জয়ের পথ দেখান। এই ওপেনার একদিকের উইকেটে ধরে রেখে মাত্র ৪৫ বলে ৭টি চার ও ১টি ছক্কায় সর্বোচ্চ ৫৮ রান করেন। টি-টোয়েন্টিতে এটি খাজার প্রথম ফিফটির ইনিংস। তিনি যখন আউট হন তখন দলের স্বোর ১৩ ওভারে ২ উইকেটে ১১৫ রান। দলের জয়ে ভূমিকা রাখেন অপর ওপেনার ওয়াটসন ও ম্যাকওয়াল। তারা উভয়ে ১৫ বল খেলে যথাক্রমে করেন ২১ ও ২৬ রান। বাংলাদেশের ফাষ্ট বোলার মুস্তাফিজ এদিন প্রথম মাঠে নেমে ভালোই বল করেন। তিনি পেসারদের মধ্যে একমাত্র বোলার যিনি পুরো ৪ ওভার বল করেন। এবং ৩০ রানে নেন ২টি উইকেট। তবে বাংলাদেশের সফল বোলার ছিলেন সাকিব আল হাসান। তিনি ৪ ওভারে ২৭ রান দিয়ে ৩টি উইকেট নেন। আল আমিন নেন ১৪ রানে ১টি উইকেট।
এর আগে মাহমুদুল্লাহ (অপরাজিত ৪৯) ও সাকিবের (৩৩) কল্যাণে বাংলাদেশ নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৫৬ রান তুলে।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :