রাত ১১:৩৪, বুধবার, ২৬শে এপ্রিল, ২০১৭ ইং
/ এশিয়া কাপ / ২৬ হাজার টিকিটের মধ্যে ইউসিবি পায় ৩ হাজার
২৬ হাজার টিকিটের মধ্যে ইউসিবি পায় ৩ হাজার
মার্চ ৫, ২০১৬

মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের দর্শক ধারণক্ষমতা প্রায় ২৬ হাজার। টিকিটও করা হয় সমপরিমাণ। কিন্তু টিকিট মেলে না সাধারণ মানুষের। টিকিট নিয়ে নয়ছয় যেন প্রতি ম্যাচের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বড় ধরনের ম্যাচ হলে তো কথাই নেই।

রোববার এশিয়া কাপের ফাইনালে নামছে বাংলাদেশ ও ভারত। এ ম্যাচে জিতলে বাংলাদেশ পাবে প্রথম বড় কোনো শিরোপার স্বাদ। তাই ম্যাচটি নিয়ে ব্যাপক উৎসাহ তৈরি হয়েছে বাংলাদেশি ক্রিকেট ভক্তদের মাঝে। কিন্তু ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও মিলছে না টিকিট। টিকিট যেন হয়ে উঠেছে সোনার হরিণ।

জানতে চাইলে টিকিট বিক্রিকারী প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড কমার্সিয়াল ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আলী বলেন, টিকিট বিক্রির দায়িত্ব থাকলেও তাদেরকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড যে পরিমাণ টিকিট দেয় তা খুবই অপ্রতুল। ফলে টিকিট বিক্রি করতে গিয়ে তাদের বারবার সমালোচিত হতে হচ্ছে। টিকিট বেশি চেয়ে বিসিবিকে চিঠি দেয়া হলেও কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি।

জানা যায়, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ৩ হাজারের মতো টিকিট দেয় ব্যাংকটিকে। এর মধ্যে ৫শ থেকে হাজার খানেক বিতরণ হয়ে যায় ব্যাংকের ভেতরেই। বাকি ২ থেকে আড়াই হাজার টিকিট যায় সাধারণ ক্রেতাদের কাছে, যারা দিন রাত লাইনে দাঁড়িয়ে থাকেন একটি টিকিটের জন্য।

ফলে এবারের এশিয়া কাপের পুরো সময়টাতে টিকিটের জন্য হাহাকার চলছে। সামনে এসেছে ২৬ হাজার টিকিট গেলো কোথায়। সৌজন্য আর কালোবাজারির দাপটে বেহাল টিকিট ব্যবস্থাপনা।

জানা গেছে, এবার টিকিটের জন্য হাহাকার জাতীয় দলের ক্রিকেটারদেরও। দেশে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট হলে প্রতি ম্যাচেই চার-পাঁচটি করে সৌজন্য টিকিট পান খেলোয়াড়েরা। এর বাইরে বিসিবির কাছ থেকে ব্যক্তিগতভাবে টিকিট কিনে নিতে পারেন খেলোয়াড়রা। কিন্তু এবার চিত্র ভিন্ন। একই অবস্থা সাবেক খেলেয়াড়দের ক্ষেত্রেও।

২০১১ বিশ্বকাপের পর থেকে বাংলাদেশে এই হাহাকার কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। মোট টিকিটের প্রায় ৪০ শতাংশ ‘সৌজন্য টিকিট’ হিসেবে চলে যায় সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সেবাদাতা সংস্থার কাছে। তবে এবার ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ টিকিট চলে গেছে এসব প্রতিষ্ঠানে। এর মধ্যে দুটি বিশেষ সংস্থার নামও রয়েছে।

তবে টিকিটের এতো হাকারের মধ্যেও চলছে কালোবাজারি। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, কালোবাজারিতে ১৫০ টাকার টিকিট বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার টাকায়। আবার ৩ হাজার টাকার টিকিট বিক্রি হচ্ছে ৩ থেকে ৪ গুণ বেশি দামে। অনেকে সৌজন্য টিকিট নিয়ে কালোবাজারে বিক্রি করে দিয়েছেন বলেও জানা গেছে।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :