বিকাল ৪:২০, শুক্রবার, ২৩শে জুন, ২০১৭ ইং
/ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ / ১ রানের সেই হারগুলো
১ রানের সেই হারগুলো
মার্চ ২৪, ২০১৬

প্রথম ম্যাচে পাকিস্তান এরপর অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের কাছে হেরে টি২০ বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে মাশরাফির বাংলাদেশ। বুধবার ভারতের বিপক্ষে পুরো ম্যাচে একক আধিপত্য বজায় রেখেও শেষ তিন বলে তিন উইকেট হারালে এক রানে হারতে হয় টাইগারদের। ৫৪৭ টি২০ ক্রিকেটের ইতিহাসে নয় বিভিন্ন দল মাত্র ১ রানে হেরেছে। আসুন দেখে নেই সেই নয়-ম্যাচ।

অস্ট্রেলিয়া বনাম নিউজিল্যান্ড, ১৫ ফ্রেব্রুয়ারি ২০০৯: ক্রিকেটে আর অন্য সব ঘটনার মতো এখানেও জড়িয়ে অস্ট্রেলিয়ার নাম। সিডনিতে টস জিতে ব্যাটিং করতে নামে অস্ট্রেলিয়া। ডেভিড হাসির ৩৯ রানের ভর করে শেষ পর্যন্ত ১৫০ রান করতে সমর্থ হয় অস্ট্রেলিয়া। ৪৭ বলে ৬১ রানের ঝড় তুলেও সেদিন দলকে জেতাতে পারেননি ব্র্যান্ডন ম্যাককালাম। শেষ ওভারে জয়ের জন্য কিউইদের প্রয়োজন ছিল ১৪ রান। প্রথম বলে রান আউট হন জেমস ফ্রাঙ্কলিন। পরের তিন বলে মাত্র ২ রান নিতে সমর্থ কিউই ব্যাটসম্যানরা। তবে পঞ্চম বলে চার মেরেছিলেন নাথান ম্যাককালাম। শেষ বলে ছক্কা মারলেও ১ রানের হার এড়াতে পারেননি তিনি।

নিউজিল্যান্ড বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা, ৯ জুন ২০০৯: দ্বিতীয়বারও পরাজিত দলের নাম নিউজিল্যান্ড। ২০০৯ সালের টি২০ বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বের খেলায় ক্যালিস-স্মিথের ৪৯ রানের উদ্বোধনী জুটির পরও মাত্র ১২৮ রানে শেষ হয় প্রোটিয়াদের ইনিংস। এবারও ম্যাককালামের ৫৭ রানের ইনিংস জেতাতে পারেনি কিউইদের। শেষ ওভারে ১৫ রান প্রয়োজন ছিল নিউজিল্যান্ডের। তবে সেই ওভার থেকে ১৩ রান করতে নিতে পেরেছিলেন স্কট স্টাইরিস ও জ্যাকব ওরাম।

দক্ষিণ আফ্রিকা বনাম ইংল্যান্ড, ১০ নভেম্বর ২০০৯: জোহানেসবার্গে দ্বিপাক্ষীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচটিতে ইয়ন মরগানের ৪৫ বলে ৮৫ এবং পল কলিংউডের ৩২ বলে ৫৭ রানে ভর করে ২০২ রান সংগ্রহ করে ইংল্যান্ড। জবাবে ১৩ ওভারে ৩ উইকেটে ১২৭ রান তুলে ফেলেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। এরপর বৃষ্টি নামলে আর খেলা শুরু করা সম্ভব হয়নি। বৃষ্টি আইনে ১ রানে হেরে যায় গ্রায়েম স্মিথের দল।

নিউজিল্যান্ড বনাম পাকিস্তান, ৮ মার্চ ২০১০: ২০১০ সালের ওয়েস্ট ইন্ডিজ বিশ্বকাপের গ্রুপ পবের্র ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে ১ রানে জয় পায় নিউজিল্যান্ড। পাকদের স্পিন দাপটে ১৩৩ রানের বেশি করতে পারেনি নিউজিল্যান্ড। সবোর্চ্চ ৩৮ রান করেছিলেন অধিনায়ক ড্যানিয়েল ভেট্টরি। সালমান বাটের অপরাজিত ৬৭ রানও জেতাতে পারেনি পাকিস্তানকে। নিউজিল্যান্ডের পেস ব্যাটারির সামনে সেদিন হারতে হয় শহীদ আফ্রিদির পাকিস্তানকে।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও দক্ষিণ আফ্রিকা, ২০ মে ২০১০: আগের ম্যাচ জিতে সিরিজে এগিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। অ্যান্টিগাতে সমতা ফেরার সুডোগ ছিল ক্যারিবীয়দের সামনে। জেরম টেলর ও ড্যারেন স্যামি ব্যাটসম্যানদের কাজটা সহজ করে রেখেছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকাকে মাত্র ১২০ রানে বেধে রেখে। তবে ডোয়াইন ব্রাভোর ৪০ ও শিবনারায়ন চন্দরপলের ২৯ রানের পরও মাত্র ১১৯ রানেই থেমে যায় ক্যারিবীয়দের ইনিংস। জয়ের জন্য শেষ ৬ বলে ১৫ রান দরকার ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের। ড্যারেন সামি দুটি চার মেরে দলকে জয়ের কাছাকাছি নিয়ে গেলেও শেষ ৩ বলে মাত্র ২ রান নিতে সক্ষম হয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

বাংলাদেশ-আয়ারল্যান্ড, ২০ জুলাই ২০১২: ষষ্ঠ ঘটনার স্বাক্ষী বাংলাদেশ। আয়ারল্যান্ডের বেলফাস্টে নাসির হোসেনের ৩৩ বলে ৫০ ও মোহাম্মদ আশরাফুলের ৩৮ রানে ভর করে সেদন ১৪৬ রান করেছিল বাংলাদেশ। শেষ ৬ বলে জয়ের জন্য প্রয়োজন ১০ রান। হাতে রয়েছে ৬ উইকেট। জয়ের প্রহর গুনছে আইরিশরা। তবে সেদিন আয়ারল্যান্ডের কাছ থেকে জয়টা কেড়ে নিয়েছিলেন মাহমুদউল্লাহ। শেষ ওভারে ২ উইকেট নিয়ে আয়ারল্যান্ডকে ১ রানে হারায় বাংলাদেশ।

১ রানের সেই হারগুলো
ভারত বনাম নিউজিল্যান্ড, ১১ সেপ্টেম্বর ২০১২ : চেন্নাইয়ের হাজার পঞ্চাশেক দর্শকের সামনে সেদিন ঝড় তুলেছিলেন ব্র্যান্ডন ম্যাককালাম। ৫৫ বলে ৯১ রান করে ভারতীয় বোলারদের অসহায় করে তোলেন এই ব্যাটসম্যান। ৫ উইকেটে ১৬৭ রান করেছিল নিউজিল্যান্ড। শুরুতে গম্ভীর ফিরলেও কোহলি ও রায়না হয়ে উঠেছিলেন অপ্রতিরোধ্য। শেষের দিক যুবরাজ চার ছয়ে ঝড় তুললেও অপরপ্রান্তে অধিনায়ক ধোনির শম্ভুকগতির ২৩ বলে ২২ রানের কারণে ১ রানে হার মানতে হয় ভারতকে।

ভারত বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা, ০২ অক্টোবর ২০১২ : শ্রীলংকা বিশ্বকাপে গ্রুপ পবের্র ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ১ রানে হারালেও রান রেটের ফাড়ায় পড়ে সেমিফাইনালে উঠতে ব্যর্থ হয় ভারত। রায়না-ধোনির লড়াইয়ে ১৫২ রানের ভালো স্কোর করে ভারত। সমীকরণ দাড়ায় দক্ষিণ আফ্রিকাকে ১২১ রানে অলআউট করতে পারলে পাকিস্তানকে হটিয়ে সেমিফাইনালে উঠবে ভারত। তবে সেদিন ভারতের ইচ্ছায় বাঁধ সাধেন ডু প্লেসিস। অন্য প্রান্তে ব্যাটসম্যানরা যাওয়া আসা করলেও ৩৮ বলে ৬৫ রান করে ভারতকে সেমিফাইনাল বঞ্চিত রাখেন ডু প্লেসিস।

ভারত বনাম বাংলাদেশ, ২৩ মার্চ ২০১৬: এবার ১ রানে হারের দু:খে পুড়তে হয় বাংলাদেশকে। টি২০ বিশ্বকাপে নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে বাংলাদেশকে ১৪৬ রানের লক্ষ্য দেয় ভারত। শেষ ওভারের শেষ তিন বলে তিন উইকেট হারিয়ে ১ রানে হারতে হয় বাংলাদেশকে।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :