সকাল ১১:৫৮, সোমবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং
/ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ / সৌম্যর ক্যাচে মুগ্ধ ‘সর্বকালের সেরা ফিল্ডার’ও
সৌম্যর ক্যাচে মুগ্ধ ‘সর্বকালের সেরা ফিল্ডার’ও
মার্চ ১৭, ২০১৬

টি-টোয়েন্টির আগমনের একটা বড় আশীর্বাদ ধরতে পারেন এটিকে, ফিল্ডিংয়ে অনেক উন্নতি এসেছে দলগুলোর। অসাধারণ ক্ষিপ্রতায় চার বাঁচানো, কিংবা পাখির মতো উড়ে গিয়ে কোনো ক্যাচ…কিন্তু এর মধ্যেও কিছু কিছু ফিল্ডিং, কিছু কিছু ক্যাচ একটু আলাদা হয়ে থাকে। গতকাল পাকিস্তানের সঙ্গে ম্যাচে সৌম্য সরকারের দুর্দান্ত ক্যাচটি এই তালিকায় ওপরের দিকেই থাকবে।
কী দুর্দান্ত! কী অবিশ্বাস্য! কী অসাধারণ চিন্তাশক্তি! আরাফাত সানির করা বলটিকে সপাটে হাঁকিয়ে হয়তো ছক্কাই ধরে নিয়েছিলেন মোহাম্মদ হাফিজ। ছক্কাই হতো। কিন্তু বাউন্ডারিতে সৌম্য যে চোখে লেগে থাকার মতো কিছু করবেন বলে ঠিক করে রেখেছিলেন। বাউন্ডারি দড়িতে বেশ খানিকটা ওপরে শূন্যে লাফালেন। বলটি মুঠোবন্দী করার পর মাটিতে নামতে গিয়েই আবার মাথায় হাত দেওয়ার দশা—একি, বাউন্ডারির বাইরে চলে যাচ্ছেন সৌম্য!
না, মুহূর্তের সিদ্ধান্তে বলটি বাতাসে ছুড়ে নিজে মাঠের বাইরে চলে গেলেন। বল বাতাসে থাকতে থাকতেই আবার ফিরে এলেন মাঠে। বল কিন্তু তবু সীমানার ওপাশেই পড়ছে। সৌম্য কী করলেন, নিজে পা দুটিকে মাঠের ভেতরে রেখে দুটি হাত যথাসম্ভব সামনে বাড়িয়ে দিলেন। নিশ্চিত ছক্কাকে বানিয়ে দিলেন ক্যাচ! আউট, হাফিজ আউট! ফ্রেমে বাঁধিয়ে রাখার মতো মুহূর্ত। দর্শকদের চোখে অবিশ্বাস! কেউ কেউ সেই অবিশ্বাসের ছায়া কাটিয়ে দাঁড়িয়ে হাততালি দিচ্ছেন। ক্রিজে দাঁড়ানো হাফিজের ঠোঁটেও বিস্ময়ের হাসি।
রোডসের টুইটঅনেকেই সৌম্যর এই ক্যাচ নিয়ে মুগ্ধতার কথা জানিয়েছেন। তবে সৌম্য সবচেয়ে বড় ‘সার্টিফিকেট’টা পেলেন জন্টি রোডসের কাছ থেকে। দুর্দান্ত ফিল্ডিংয়ের সর্বোচ্চ উপমা মানা হয় যাঁকে, সেই দক্ষিণ আফ্রিকান কিংবদন্তিও ম্যাচ শেষে টুইটারে গাইলেন সৌম্যর জয়গান, ‘দুই দলের ফিল্ডারদের কাছ থেকেই অসাধারণ কিছু ফিল্ডিং দেখেছি। কিন্তু সরকারের (সৌম্য) প্রচেষ্টাটা কী দুর্দান্ত না ছিল!’
প্রশংসা সৌম্য পেয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ কিংবদন্তি ব্রায়ান লারার কাছ থেকেও। তিন শব্দে নিজের মুগ্ধতার কথা বলেছেন, ‘হোয়াট আ ক্যাচ!’ ধারাভাষ্যকার হর্ষ ভোগলে সম্ভবত সবচেয়ে সুন্দরভাবে ব্যাখ্যা করেছেন সৌম্যর কৃতিত্বটাকে, ‘সৌম্য সরকারের ক্যাচটার জন্য কিছু শব্দ খুঁজে বের করুন। আমি নিশ্চিত ঠিকভাবে ব্যাখ্যা করার মতো কোনো শব্দ খুঁজে পেতে সংগ্রাম করতে হবে।’
শব্দ না হোক, অনুভূতিটা তো অনুভব করাই যায়। রোডস এর মতো কিংবদন্তির কাছ থেকে পাওয়া স্বীকৃতি নিশ্চয়ই ভবিষ্যতে আরও এমন অনেক ফ্রেমে বাঁধাই করে রাখা মুহূর্ত উপহার দিতে প্রেরণা জোগাবে সৌম্যকে!



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :