দুপুর ১:৪২, বৃহস্পতিবার, ২৩শে নভেম্বর, ২০১৭ ইং
/ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ / শনিবার ক্রিকেটের সব রাস্তা যেন মিশে যাবে ইডেনে
শনিবার ক্রিকেটের সব রাস্তা যেন মিশে যাবে ইডেনে
মার্চ ১৮, ২০১৬

বিশ্বকাপের সূচি ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই ১৯ মার্চকে ঘিরে প্রত্যাশার বারুদ চড়াতে থাকে ভারত এবং পাকিস্তানে। এই একটি তারিখই যেন হয়ে ওঠে ক্রিকেটপ্রেমী এই দুটি দেশের মানুষের কাছে সবচেয়ে আরাধ্য। ১৯ মার্চের নেশায় বুঁদ এখন যেন পুরো ক্রিকেট বিশ্ব। ধর্মশালার হিমাচল ক্রিকেট এসোসিয়েশন স্টেডিয়ামে ফোটার কথা ছিল এই বারুদের। কিন্তু এই ম্যাচটি নিয়ে যে এতটা রাজনৈতিক টানাপড়েন তৈরী হবে কে জানতো! সুতরাং, নিরপাত্তা সমস্যা দেখা দিল এবং হিমালয়ের পাদদেশ থেকে সোজা ম্যাচটিকে পাঠিয়ে দেয়া হলো কলকাতার হোম অব ইন্ডিয়া ক্রিকেট, ইডেন গার্ডেন্সে।
অপেক্ষার প্রহর শেষ। রাত পোহালেই ক্রিকেটের সব পথ সচল হয়ে যাবে ইডেনমুখী হয়ে। আপাতত আয়োজক শহর কলকাতার যাবতীয় আবেগ আর উন্মাদনা, উত্তেজনা আর আগ্রহ, সব কিছু মিলে-মিশে একাকার হয়ে যাবে ইডেনে শনিবারের সন্ধ্যা।
বিশ্বকাপে এই প্রথম ঐতিহাসিক ইডেন গার্ডেন্সে কোনও ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সুতরাং, কলকাতায় পাগলামি যে সীমা ছাড়িয়ে যাবে, সেটা জানা কথাই। কিন্তু সেটা যে মাত্রা ছাড়া হয়ে সুনামির মতো কলকাতায় আগে থেকে আছড়ে পড়বে, কে জানত! টিকিটের হাহাকার ইডেনে সব বড় ম্যাচেই হয়ে থাকে। নতুন কিছু নয়৷ আইপিএলের সময়ও ক্লাব হাউজে লাইন দিয়ে পড়ে থাকেন টিকিট প্রত্যাশীরা; কিন্তু এই ম্যাচটি আইপিএলের উন্মাদনাকে হেলায় পাঁচ গোল দিয়ে দিলো। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ বলে কথা৷
সঙ্গে যোগ করতে হচ্ছে নিরাপত্তার প্রসঙ্গও৷ মধ্য কলকাতার আলিপুরের পাঁচতারা হোটেল মোটামুটি দুর্ভেদ্য দুর্গে পরিণত। বিনা অনুমতিতে একটি মাছি গলারও সুযোগ নেই৷ পুরোটাই কম্যান্ডো পরিবেষ্টিত। পান থেকে চুন খসলে যে কী হতে পারে, অনুমান করতে কষ্ট হয় না৷ সে জন্য কোনও ঝুঁকির রাস্তায় যাচ্ছে না ভারতের পুলিশ-প্রশাসন৷
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় যেমন- ডিনার সেরে একটু হাঁটাহাঁটির শখ হয়েছিল শোয়েব মালিক, উমর আকমলদের৷ সঙ্গে সঙ্গে হোটেল কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ চলে গেলো, ক্রিকেটাররা একটু বেড়াতে চান৷ বেড়ানো হল ঠিকই, কিন্তু হোটেল চত্বরের মধ্যেই। কম্যান্ডোদের কড়া নজরদারী হল তাদের সঙ্গী৷
ভারতীয় দলের ক্রিকেটারদের অবস্থা আরও করুণ! বেশ কয়েকজনের ইচ্ছে ছিল, বড় ম্যাচের আগে মেজাজটা বিন্দাস টিউনে নিয়ে যেতে রাতের কলকাতা ঘুরে বেড়ানো৷ হোটেলে গাড়িও তৈরি ছিল; কিন্তু পুলিশি অনুমতি না-মেলায় সেই হোটেলের রুমে বন্দি৷ জিম বা পুল সেশন বাদ দিলে প্লে স্টেশনের সামনেই শুধু বসে থাকা৷ পরিস্থিতি যা দাঁড়িয়েছে- আজ শুক্রবার পাকিস্তান দলের জুমার নমাজ পড়ার ব্যবস্থাও করে রেখেছে হোটেল।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :