রাত ১২:৪৪, বুধবার, ২২শে আগস্ট, ২০১৭ ইং
/ এশিয়া কাপ / রোববারের রাত হোক শুধুই ক্রিকেটের…
রোববারের রাত হোক শুধুই ক্রিকেটের…
মার্চ ৫, ২০১৬

এম এস সাহাব : রোববার ভালোবাসার রাত, ভালোলাগার রাত। রোববারের রাত ক্রিকেটের জন্য ভালোবাসা। তাই রোববারের রাত হতে পারে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় উৎসবের। রোববার রাতে এশিয়া কাপের ফাইনালে ভারতের মুখোমুখি হবে মাশরাফিবাহিনী। এ ম্যাচ জিততে পারলে তা হবে বাংলাদেশের ক্রিকেটে সবচেয়ে বড় অর্জন। আমাদের দেশে এখন সবচেয়ে বড় বিনোদনই এই ক্রিকেট। আর যদি এশিয়ার সেরা হওয়া যায়, তাহলে তো কথা-ই নেই। স্বপ্ন যেন সত্যি হয়ে যাবে গোটা দেশের। তাই রাষ্ট্রের শীর্ষ ব্যক্তি থেকে আমজনতার আকাক্সক্ষা বিজয় আমাদেরই হোক। গত ম্যাচে পাকিস্তানকে হারিয়ে ফাইনালে উঠার পর থেকেই সবার মধ্যে এই ছিল স্বপ্ন, একই বাসনা। প্রার্থনাও সেই একই-মাশরাফিবাহিনী ফাইনাল যেন জিতে যায়। আর তাই সেই কাক্সিক্ষত ইতিহাস গড়ার রাতের জন্য প্রস্তুত গোটা দেশ, জাতি। লাল-সবুজের পতাকার বাংলাদেশ। যার শুরুটা ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি…’। এক টুকরো মিরপুর স্টেডিয়ামই যেন এখন গোটা বাংলাদেশ। রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় শুরু হবে শিরোপা দ্বৈরথ। এই দ্বৈরথকে ঘিরে ইতিমধ্যে লঙ্কাকান্ড ঘটে গেছে। ঘরে ঘরে চলছে উৎসবের প্রস্তুতি। প্রস্তুতি রয়েছে ঘরের বাইরে। টেলিভিশনে, জায়ান্ট স্ক্রিনে চোখ থাকবে ছাপান্নো হাজার বর্গ মাইলের এই দেশের সর্বত্র। পারলে স্টেডিয়ামে বসেই খেলা দেখার জন্য ইচ্ছে ষোল কোটি বাংলাদেশীর। কিন্তু তা তো সম্ভব নয়। তারপরও অনেকেই এই বাস্তবতা মানতে নারাজ। তারা যে কোনোভাবেই হোক মাঠে বসেই খেলা দেখবেন। আর তাই একটি টিকিটের জন্য রক্তপাতের ঘটনাও ঘটে গেছে। ফাইনালের টিকিট যেন সোনা নয়, ‘হিরা’র টুকরো। কোথাও ‘টিকিট’ নেই। আলাদিনের চেরাগ দিয়েও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না মহামূল্যবান ফাইনালের টিকিট। মাশরাফি-মুশফিক-তামিম-সাকিবদের এশিয়ার সেরা মুকুট জেতার লড়াই রোববার। এই লড়াইয়ে ক্রিকেটারদের সঙ্গে মাঠে থাকতে ‘যুদ্ধ’ শুরু হয়ে গেছে ২ দিন আগেই। কেবল টিম স্কোয়াডের ক্রিকেটারদেরই প্রায় ১৫শ’ বন্ধু-বান্ধব পরিবার-পরিজন? মাঠে থাকতে চান। থাকতে চান ভিআইপি মন্ত্রী, এমপি থেকে শুরু করে তারকা ক্রীড়ামোদীরাও। আরও থাকতে চান লাখো টাইগারপ্রেমী। তাই, মূল্য যা-ই হোক, টিকিটের সন্ধানে এখনো অনেকে। কিন্তু টিকিট যে নেই! শুক্রবার থেকেই বাংলাদেশ-ভারত ক্রিকেট মহারণ্য দেখতে অগণিত টিকিট চাহিদার চিত্র রাজধানীর সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের আশপাশে দেখা গেছে। রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকার বাসিন্দা শর্মিলী জানান, তিনি ও তার স্বামী দু’দিন থেকে অনেক চেষ্টা করেও কোথাও থেকে টিকিট ম্যানেজ করতে পারছেন না। কেউ বলছেও না কোথাও টিকিট পাওয়া যাবে। শনিবার সংশ্লিষ্ট ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকে (ইউসিবি) দীর্ঘ লাইন এবং সংঘর্ষে টিকিট বিক্রি বন্ধের পর অবস্থা ছিল আরও করুণ। টিকিট শেষ হয়ে যাওয়ায় হাজারো ক্রিকেট পাগল মাঠে খেলা দেখা থেকে বঞ্চিত হওয়ার হতাশায় পুড়ছেন। বিসিবি সূত্র বলছে, কেবল লাইনে দাঁড়ানো মানুষই নন, খেলোয়াড়দের পাশাপাশি বিসিবির নিজস্ব কর্মকর্তারদের চাহিদা অনুযায়ীও টিকিট পাওয়া যায়নি। এদিকে, টিকিট নিয়ে এ ‘যুদ্ধের’ মধ্যে খেলার আগের দিন শনিবার থেকে শুরু হয়ে গেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট টিমকে স্বাগত জানাতে আনন্দ-মিছিল ও বিজয়োল্লাসের প্রস্তুতি। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, ক্রিকেট কাব, পাড়া মহল্লায় পতাকা নিয়ে স্বাগত মিছিলের প্রস্তুতি নিতেও দেখা যাচ্ছে। রাজধানীর ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির স্থায়ী ক্যাম্পাসের মাঠে ৬০ ফুটের জাতীয় পতাকা নিয়ে আনন্দ মিছিল ও বিজয়োল্লাসে বের হবেন শিার্থীরা। মহাখালীর বিটিসিএল কলোনি ওয়ারলেস এলাকার বাসিন্দারা পাকিস্তানের সঙ্গে জেতার রাতেই মিছিল করেছিলেন। সেখান থেকেই তারা ঘোষণা দিয়েছিলেন ফাইনাল খেলার আগের দিন বিকেল থেকে ওয়ারলেস এলাকায় মিছিল বের করা হবে। একইসঙ্গে আয়োজন থাকবে জায়ান্ট স্ক্রিনে খেলা দেখানোর। এমন উৎসবের প্রস্তুতি সারাদেশেই। ক্রিকেটেই এখন বাংলাদেশের প্রাণ। ১৯৯৭ সালে মালয়েশিয়ায় আইসিসি ট্রফি জয়, ১৯৯৯ বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে হারানোর পর গোটা দেশ এক কাতারে দাঁড়িয়ে বিজয়োৎসবে মেতে ছিল। এরপরও যে কয়বার এদেশের মানুষ দলমত ভুলে এক হয়ে আনন্দ করেছে তা এই ক্রিকেটের কল্যাণেই। তাই সহজে অনুমেয়, যদি এশিয়া কাপ ক্রিকেটের শিরোপা মাশরাফিবাহিনী জিততে সক্ষম হয় তবে বাংলাদেশে আরেকবার কি হতে চলেছে! টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়ার আকাশ আতশবাজি আর রং ছটায় রঙিন হয়ে উঠবে। নেচে-গেয়ে উঠবে বাংলাদেশ। সেই স্বপ্নের রাতের বিজয়োল্লাসের অপেক্ষা-ই শুধু এখন। ক্রিকেটে রোববার বাংলাদেশ জিতে গেলে জিতে যাবে ক্রিকেটের প্রতি ভালোবাসা। আর সেই ভালোবাসা ছড়িয়ে পড়–ক সবখানে…।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :