দুপুর ২:৩৭, বৃহস্পতিবার, ১৯শে জানুয়ারি, ২০১৭ ইং
/ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ / ভারতকে কাঁদিয়ে ফাইনালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ
ভারতকে কাঁদিয়ে ফাইনালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ
মার্চ ৩১, ২০১৬

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়লো স্বাগতিক ভারত। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ৭ উইকেটে হেরে গেছে ধোনিবাহিনী। ভারতের দেয়া ১৯৩ রানের ল্েয ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই গেইলের উইকেট হারালেও শেষ পর্যন্ত সহজ জয় নিশ্চিত করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ২ বল বাকি থাকতেই তারা তুলে নেয় ৩ উইকেটে ১৯৬ রান। ছয় মেরে দলের জয় রাসেল নিশ্চিত করলেও ক্যারিবীয়দের জয়ের নায়ক সিমন্স। ৫১ বলে ৮৩ রান করা লেন্ডল সিমন্স ম্যান অব দ্য ম্যাচ নির্বাচিত হন। ৫টি ছয় ও ৭টি চারে সাজানো ছিল তার ইনিংস।
এর আগে গত বুধবার প্রথম সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করে ইংল্যান্ড। ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে আগামী রোববার কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে। উল্লেখ্য, ওয়েস্ট ইন্ডিজ নারী ক্রিকেট দলও ফাইনালের টিকিট পেয়েছে।
অপ্রতিরোধ্য বিরাট কোহলির ব্যাটে ফাইনালের স্বপ্ন দেখছিল ভারত। কিন্তু লেন্ডল সিমন্স ও আন্দ্রে রাসেলের ব্যাটে হৃদয় ভাঙল স্বাগতিকদের। সেমি-ফাইনালে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৭ উইকেটের জয় এনে দিতে দারুণ এক ইনিংস খেলেন ‘নো’ বলের কল্যাণে দুইবার বেঁচে যাওয়া সিমন্স। ৫১ বলে ৮৩ রানের ইনিংসে ৫টি ছক্কা ও ৭টি চার মেরেছেন সিমন্স। ২০ বলে ৪৩ রানের ইনিংস খেলতে ৪টি ছক্কা ও ৩টি চার মেরেছেন আন্দ্রে রাসেল। ১৯২ রানের বিশাল স্কোরের নীচে চাপা পড়ে যেন ম্যাচের মাঝ পথেই হেরে বসেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দ্বিতীয় ওভারেই যখন জসপ্রিত বুমরাহের বলে ক্রিস গেইল বোল্ড হয়ে যাওয়ার পর সম্ভাবনাটা প্রায় শেষই হয়ে যাচ্ছিল ক্যারিবীয়দের। কিন্তু জনসন চার্লস আর লেন্ডল সিমন্সের বলে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়ায় ক্যারিবীয়রা। দ্বিতীয় ওভারের প্রথম বলেই বোল্ড হয়ে যান গেইল। ১৯ রানের মাথায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের আরেক ইনফর্ম ব্যাটসম্যান মারলন স্যামুয়েলস। গেইল না পারলেও স্যামুয়েলসের ব্যাটেই জয়ের স্বপ্ন পূর্ণ হয় ক্যারিবীয়দের। সিমন্স আর জনসনের দুর্দান্ত ৯৭ রানের জুটি খেলায় ফেরায় সামিদের। ১৪তম ওভারে এসে বিরাট কোহলিকে আক্রমনে নিয়ে আসেন মহেন্দ্র সিং ধোনি। এসেই ব্রেক থ্রু এনে দেন ভারতকে। ৫২ রান করা চার্লস জনসন লং অনে রোহিত শর্মার হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে ফিরে যান। ৩৬ বলে খেলা এই ইনিংসে ৭টি বাউন্ডারি এবং ২টি ছক্কার মার ছিল। এরপর লেন্ডল সিমন্স ও আন্দ্রে রাসেলের অধ্যায়। তারা ৭৬ রানের অবিচ্ছিন্ন থাকেন।
এর আগে মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ২ উইকেটে ১৯২ রানের বড় সংগ্রহ গড়ে ভারত। অসাধারণ ৮২ রানের অপরাজিত ইনিংসে আগের ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে হারানো কোহলি এদিনও ছিলেন অপ্রতিরোধ্য। উইকেটের চারপাশে খেলেছেন দুর্দান্ত সব শট। যথারীতি ইনিংস জুড়ে ছিল নিখুঁত টাইমং আর প্লেসমেন্টের অপূর্ব নিদর্শন। তিনি ৮৯ রানের অপরাজিত থাকেন। যদিও পর পর দুই বলে তিনবার সহজ রানআউটের সুযোগ মিস করে তিনবারই বিরাট কোহলিকে জীবন দিয়ে তার খেসারত গুনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ভারতের হয়ে ব্যাটিং উদ্বোধন করেন দুই ওপেনার আজিঙ্কা রাহানে ও রোহিত শর্মা। ইনিংসের অষ্টম ওভারে বিদায় নেন ব্যাটে ঝড় তোলা রোহিত শর্মা। স্যামুয়েল বদ্রির বলে এলবির ফাঁদে পড়েন ৩১ বলে ৪৩ রান করা রোহিত। তার ইনিংসে ছিল তিনটি চার আর তিনটি ছক্কার মার। প্রথম ৩৫ বলে দলীয় অর্ধশতক আসে ভারতের। পাওয়ার প্লে’র ছয় ওভারে টিম ইন্ডিয়া কোনো উইকেট না হারিয়ে তোলে ৫৫ রান। আর এক উইকেট হারিয়ে ৭৬ বলে আসে তাদের দলীয় শতক। দলীয় ৬২ রানের মাথায় ওপেনার রোহিত শর্মা ফিরে গেলে উইকেটে জুটি বাঁধেন আজিঙ্কা রাহানে আর বিরাট কোহলি। স্কোরবোর্ডে এই দুই ব্যাটসম্যান আরও ৬৬ রান যোগ করেন। ইনিংসের ১৬তম ওভারে রাহানে বিদায় নেন। ৩৫ বলে দুটি চারের সাহায্যে ৪০ রান করেন তিনি। আন্দ্রে রাসেলের বলে বাউন্ডারি সীমানায় ব্রাভোর হাতে ধরা পড়েন রাহানে। কোহলি ৩৩ বলে নিজের অর্ধশতকের দেখা পান। ১৬তম অর্ধশতক হাঁকিয়ে টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ হাফসেঞ্চুরির মালিক হন তিনি। এর আগে ১৫টি করে অর্ধশতক হাঁকিয়েছিলেন ব্রেন্ডন ম্যাককালাম এবং ক্রিস গেইল। ইনফর্ম কোহলি ৪৭ বলে ১১টি চার আর একটি ছক্কায় করেন ৮৯ রান। ধোনি ৯ বলে ১৫ রান করে অপরাজিত থাকেন। মাত্র ২৭ বলে কোহলি আর ধোনি ৬৪ রানের জুটি গড়ে অবিচ্ছিন্ন থাকেন।
ভারতের ছুঁড়ে দেয়া ১৯৩ রানের চ্যালেঞ্জিং ল্য তাড়া করতে দলের হয়ে ব্যাটিং পাওয়ার প্লে’র ছয় ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজ তুলে নেয় ৪৪ রান। আর ৪১ বলে দলীয় অর্ধশতকের দেখা পায় তারা। ৬৯ বলে দলীয় শতকের ঘরে পৌঁছে ক্যারিবীয়রা। জুটি বেধে লেন্ডল সিমন্স এবং জনসন চার্লস সফল হন। ৩০ বলে অর্ধশতকের দেখা পান জনসন চার্লস। ৬৭ বলে ৯৭ রান যোগ করেন সিমন্স এবং জনসন চার্লস। ইনিংসের ১৪তম ওভারে কোহলির হাতে বল তুলে দেন ধোনি। প্রথম বলেই কোহলি ফিরিয়ে দেন সেট ব্যাটসম্যান জনসন চার্লসকে। রোহিত শর্মার তালুবন্দি হওয়ার আগে ক্যারিবীয় এই ওপেনার করেন ৩৬ বলে ৫২ রান। তার ইনিংসে ছিল ৭টি চার আর দুটি ছক্কা। ৩৫ বলে অর্ধশতকের দেখা পান সিমন্স। ৫১ বলে ৭টি চার আর ৫টি ছক্কায় ৮৩ রান করে অপরাজিত থাকেন তিনি। আর ২০ বলে ব্যাটে ঝড় তুলে তিনটি চার আর ৪টি ছক্কায় ৪৩ রান করে অপরাজিত থাকেন আন্দ্রে রাসেল।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :