রাত ২:২২, মঙ্গলবার, ২৭শে মার্চ, ২০১৭ ইং
/ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ / প্রিয় বন্ধু রানার জন্যই খেলতে নামলেন মাশরাফি
প্রিয় বন্ধু রানার জন্যই খেলতে নামলেন মাশরাফি
মার্চ ১৬, ২০১৬

বিশ্বকাপ খেলার সৌভাগ্য হয়নি তার। ২০০৭ সালের ১৬ই মার্চ মাত্র ২২ বছর বয়সে খুলনায় এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন মানজারুল ইসলাম রানা। মাত্র ৬ টেস্ট এবং ২৫ ওয়ানডে খেলেই তাকে যে ওপারে পাড়ি দিতে হবে কে বুঝেছিল তখন! মৃত্যুর দিনও রানা খুলনার একটি লোকাল ম্যাচে `ম্যান অব দ্যা ম্যাচ` হন।
২০০৭ সালের বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচেই ভারতের বিপক্ষে মুখোমুখি হওয়ার আগের দিন নিহত হন রানা। বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়েরা ওয়েস্ট ইন্ডিজ বিশ্বকাপ খেলতে গিয়ে ত্রিনিদাদে বসেই শোনেন এই হৃদয়বিদারক সংবাদ। বাংলাদেশের সেই বিশ্বকাপ স্কোয়াডের অনেক খেলোয়াড়ই ছিলেন রানার খুবই কাছের বন্ধু। কয়েকজন ছিলেন প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে মানজারের দল খুলনা বিভাগের টিমমেট। দলের অধিনায়ক হাবিবুল বাশার, মাশরাফি বিন মুর্তজা, আবদুর রাজ্জাক, সৈয়দ রাসেল, সাকিব আল হাসান প্রমুখ খেলোয়াড় ছিলেন তাঁর সবচেয়ে কাছের মানুষ।
বাংলাদেশের অন্যতম এই প্রিয় ক্রিকেটার এবং নিজের প্রিয় বন্ধুর মৃত্যু সংবাদে বাংলাদেশের খেলোয়াড়েরা মানসিক ভাবে ভেঙে পড়লেও পেশাদারিত্বের চরম প্রমাণ তাঁরা রেখেছিলেন মাঠে শক্তিশালী ভারতীয় দলের বিপক্ষে ম্যাচ জিতে। খেলা শুরু হওয়ার আগে একজন টেস্ট খেলোয়াড় হিসেবে আইসিসির তরফ থেকেই মানজারুল ইসলাম রানার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করা হয়। এক মিনিট নীরবতা পালন করে সবাই স্মরণ করেন বাংলাদেশের ক্রিকেটের এই প্রয়াত তারকাকে। মাশরাফি বিন মুর্তজা বর্তমান বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক যিনি ২০০৭ সালে ভারতের বিপক্ষে জয়ে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছিলেন তিনি অনেক যায়গাতেই বলেছিলেন ‘কেন যেন মনে হচ্ছিল “রানা” মাঠেই আমাদের সবার সঙ্গে রয়েছে।’ কে জানে বীরেন্দর শেবাগের স্ট্যাম্প উপড়ে ফেলা সেই বলটি মাশরাফি হয়ত করেছিলেন মানজারুলের কথা মনে করেই!
৯ বছর হয়ে গিয়েছে। সেই ঘোলাটে স্মৃতি এখন হয়তো আরো বেশী ঘোলাটে হয়ে গেছে। চশমার ময়লা ফ্রেম হয়তো আর মুছতে ইচ্ছে করছে না। আরো একবার রানার মৃত্যুবার্ষিকীর দিন খেলতে নামছে বাংলাদেশ। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মূল পর্বে প্রথম ম্যাচেই বাংলাদেশ নেমেছে পাকিস্তানের বিপক্ষে।
এবারও হয়ত মানজার রানার স্মৃতি আঁকড়ে ধরেই খেলতে নেমেছেন মাশরাফিরা। আবারো মাশরাফির সেই আধ্যাত্মিক মনোবলে স্ট্যাম্প উপড়ে ফেলা বল দেখবে সারা পৃথিবী। হয়ত খেলা শেষে বিজয়ী দলের অধিনায়ক হিসেবে মাশরাফি পুরষ্কার বিতরনী অনুষ্ঠানে মানজারুল রানার জন্যে জয়টা উৎসর্গ করবে! আর উপর থেকে `বাংলাদেশ` `বাংলাদেশ` বলে চিৎকার করে আমাদের ক্রিকেটারদের উৎসাহ দিয়ে যাবেন মানজারুল। মানজারুল তুমি ভালো থেকো।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :