বিকাল ৩:৫৩, শনিবার, ২৭শে মে, ২০১৭ ইং
/ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ / পাকিস্তানের কাছে বড় হার মাশরাফিদের
পাকিস্তানের কাছে বড় হার মাশরাফিদের
মার্চ ১৬, ২০১৬

পাকিস্তানকে টানা পাঁচটি আন্তর্জাতিক ম্যাচে হারানোর পর বিশ্বকাপের বড় মঞ্চে আর পারল না বাংলাদেশ। সুপার টেনের নিজেদের প্রথম ম্যাচে ৫৫ রানে হেরেছে মাশরাফি বিন মুর্তজার দল।
পাকিস্তানের দেওয়া ২০২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৪৬ রান তুলতে পারে বাংলাদেশ।
বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই শূন্য রানে ফিরেন সৌম্য সরকার। মোহাম্মদ আমিরের বল জায়গায় দাঁড়িয়ে খেলেন এই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান। বল তার ব্যাট-প্যাডের ফাঁক গলে স্টাম্প এলোমেলো করে দেয়।
প্রতিরোধ গড়ে ফিরেন সাব্বির রহমান (১৯ বলে ২৫ রান)। শহিদ আফ্রিদির বলে বোল্ড হন এই টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান।
দ্রুত রান তোলার চাপে ফিরেন তামিম ইকবাল (২০ বলে ২৪ রান)। আফ্রিদির বলে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে সীমানায় ইমাদ ওয়াসিমকে ক্যাচ দেন তিনি।
দ্রুত ফিরেন মাহমুদউল্লাহ (৫ বলে ৪ রান)। ইমাদ ওয়াসিমের বলে শারজিল খানকে ক্যাচ দেন তিনি।
মোহাম্মদ আমিরের বলে উইকেটরক্ষক সরফরাজ আহমেদকে সহজ ক্যাচ দিয়ে ফিরেন মুশফিকর রহিম (২১ বলে ১৮ রান)
দারুণ ব্যাটিংয়ে বড় স্কোরের ভিত্তি গড়ে দেন আহমেদ শেহজাদ ও মোহাম্মদ হাফিজ। চারে নেমে ঝড় তোলেন শহিদ আফ্রিদি। বাংলাদেশের বোলিং হলো সাদামাটা; পাকিস্তান গড়ল বিশাল সংগ্রহ।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার টেনে কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ২০১ রান তোলে পাকিস্তান।
টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান তাড়া ১৬৪। দেড়শর বেশি রান তাড়া করে জিতেছে মাত্র ২ বার।
ইডেনের উইকেট নিখাদ ব্যাটিং স্বর্গ। ২২ গজের নানা জায়গায় বিচ্ছিন্নভাবে ঘাসের ছোঁয়া ছিল। তবে তাতে বল ব্যাটে এসেছে দারুণ ভাবে। পেস-স্পিন কোনোকিছুর জন্যই ছিল না তেমন কোনো সহায়তা। জুতসই উইকেটে টস ভাগ্যটাও পক্ষে পেল পাকিস্তান, মাশরাফি হারলেন টানা ৬ ম্যাচ।
পাকিস্তানের ওপেনাররা অভিপ্রায় বুঝিয়ে দেন শুরু থেকেই। তাসকিনকে দারুণ এক কাভার ড্রাইভে চার মেরে শুরু করেন শেহজাদ। পরের ওভারেই আল আমিনকে দুই ছক্কা, এক চারে ১৮ রান নেন শারজিল খান।
তৃতীয় ওভারেই আক্রমণে স্পিন আনেন মাশরাফি। তাতে সাফল্যও মেলে হাতেনাতে। আরাফাত সানির নিচু হওয়া স্কিড করা বলে ডাউন দা উইকেটে এসে বোল্ড শারজিল (১০ বলে ১৮)। কদিন আগে এশিয়া কাপেও এই বাঁহাতি ওপেনারকে বোল্ড করেছিলেন সানি।
উইকেট নিয়েও বাধ দেওয়া যায়নি পাকিস্তানের রানের গতিতে। উইকেট গিয়ে দ্বিতীয় বলেই সানিকে মাথার ওপর দিয়ে ওড়ান হাফিজ।
৬ ওভারে পাকিস্তান তোলে ৫৫, যা এ বছর পাওয়ার প্লেতে তাদের সর্বোচ্চ রান। প্রথম ৮ ওভারের সবকটিতেই ছিল কমপক্ষে একটি বাউন্ডারি।
৩৫ বলে অর্ধশতক স্পর্শ করেন শেহজাদ। বিশ্বকাপের পাকিস্তান দলে শুরুতে ছিলেন না তিনি। ডাক পেয়েছেন এশিয়া কাপে পাকিস্তানের বাজে পারফরম্যান্সের পর। নিজের প্রয়োজনীয়তাটাও বুঝিয়ে দিলেন যেন।
গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করেছিলেন এই ওপেনার। এবার অবশ্য পঞ্চাশ ছোঁয়ার পরপরই বিদায়। সাব্বিরের লেগ স্পিনে ধরা পড়েছেন মিড উইকেটে (৩৯ বলে ৫২)। দ্বিতীয় উইকেটে হাফিজের সঙ্গে তার জুটি ৬৮ বলে ৯৫ রানের।
হাফিজ বয়ে আনলেন প্রস্তুতি ম্যাচের ফর্ম। একদিন আগে এই মাঠেই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৭০ করেছিলেন। এবার ৪২ বলে ৬৪ করে আউট হলেন সীমানায় সৌম্য সরকারের ভারসাম্য রেখে নেওয়া দুর্দান্ত ক্যাচে।
শক্ত ভিত্তি পেয়ে ব্যাটিং অর্ডারে নিজেকে ওপরে তুলে আনেন আফ্রিদি। শট খেলতে থাকেন নিজের মতো। বেশিরভাগ দিনই এসব শট খেলতে গিয়ে ফিরে যান আফ্রিদি। কিন্তু দিনটি ছিল সেই বিরল দিনগুলির একটি, যেদিন সবকিছুই তার ব্যাটে হয়েছে ঠিকঠাক। তাল হারিয়ে বাংলাদেশের বোলাররাও বোলিং করেছেন এলোমেলো।
১৮ বলে ৪৯ করে আফ্রিদি আউট হন শেষ ওভারে। শেষ ৬ ওভারে পাকিস্তান তোলে ৮০ রান।
উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য একইরকম ভালো থাকার কথা পরেও। বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের চ্যালেঞ্জ এবার নিজেদের ছাড়িয়ে যাওয়ার।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :