বিকাল ৩:৩৯, শনিবার, ২৫শে মার্চ, ২০১৭ ইং
/ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ / নিয়ম না মেনেই তাসকিনকে নিষিদ্ধ করেছে আইসিসি!
নিয়ম না মেনেই তাসকিনকে নিষিদ্ধ করেছে আইসিসি!
মার্চ ২০, ২০১৬

বাংলাদেশের তরুণ ডানহাতি ফাস্ট বোলার তাসকিন আহমেদ এবং স্পিনার আরাফাত সানিকে অবৈধ বোলিং অ্যাকশনের অভিযোগে সাময়িক নিষিদ্ধ করেছে ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এ খবর এখন সবারই জানা। তবে নতুন খবর হলো, তাসকিনকে নিষিদ্ধের সময় আইসিসি নিজেদের তৈরি নিয়ম মানেনি! এমন খবরই জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মুস্তাফিজুর রহমান খান। তিনি বিসিবির আইনি পরামর্শকও।
আইসিসির নিয়ম ঘেঁটে তিনি এ তথ্য জানিয়েছেন। শনিবার যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এ সংক্রান্ত একটি পোস্ট দেন মুস্তাফিজুর রহমান। বিষয়টি বিসিবিকেও জানিয়েছেন তিনি।
মুস্তাফিজুর রহমান খান জানান, বোলিং অ্যাকশন সম্পর্কিত আইসিসির আইনের ২.২.৬ ধারায় বলা আছে, ‘ল্যাব পরীক্ষায় বোলাররা নির্দিষ্ট সেসব ডেলিভারি করে দেখাবেন যেগুলোর জন্য আম্পায়াররা তাকে সন্দেহ করেছেন।’ কিন্তু মাঠের দুই আম্পায়ার নির্দিষ্ট কোনো ডেলিভারির জন্য তাসকিনকে অভিযুক্ত করেননি।
পরীক্ষায় তাসকিনের স্টক ডেলিভারি ও ইয়র্কারে কোনো সমস্যা পাওয়া যায়নি। ল্যাবে যে ৯টি বাউন্সার তাসকিনকে করতে বলা হয়েছে তার মধ্যে ৩টিতে সমস্যা পাওয়া যায় বলে জানানো হয়েছে। অথচ নেদারল্যান্ডের সঙ্গে ম্যাচে তাসকিন কোনো বাউন্সারই করেননি।
আইসিসির ২.২.৬ ধারাতেই বলা আছে, ‘কোনো ম্যাচে বিশেষ কোনো ডেলিভারি নিয়ে বোলারের অ্যাকশনে সন্দেহ হলে ওই ম্যাচের সুনির্দিষ্ট ডেলিভারি কিংবা ডেলিভারিগুলো ল্যাব পরীক্ষার অন্তর্ভুক্ত হবে। এর বাইরে অন্য কোনো ডেলিভারি ল্যাব পরীক্ষায় অন্তর্ভুক্ত হবে না।’
বাউন্সার নিয়ে কোনো সমস্যা না থাকলেও ল্যাবে সে পরীক্ষাও নেয়া হয়েছে তাসকিনের। আইসিসি নিয়মে বলা হয়েছে, স্টক ডেলিভারির বাইরে অন্য ডেলিভারির জন্য বোলারকে সতর্ক করে দেয়াই সর্বোচ্চ ব্যবস্থা। সতর্ক করে দেয়ার পরও ওই বোলার যদি পরের ম্যাচে বোলিং পদ্ধতি না বদলান তবেই ব্যবস্থা নেয়া যাবে।
তাসকিনের বোলিং অ্যাকশন নিয়ে মাঠের দুই আম্পায়ারের সন্দেহ থেকে শুরু করে ল্যাব পরীক্ষার পর নেয়া কোনো সিদ্ধান্তেই বিদ্যমান নিয়ম অনুসরণ করেনি আইসসি। এ বিষয়ে ব্যারিস্টার মুস্তাফিজুর রহমান খান বিসিবিকে পরামর্শ দিয়ে লিখেছেন, ‘২.৩.১ এর ধারা অনুযায়ী সুইজারল্যান্ডের ক্রীড়া আদালতে তারা আপিল করতে পারে। আইসিসির নিয়ম অনুসরণ করলে তাসকিন আহমেদকে নিষিদ্ধ করা যায় না। কিন্তু এ ক্ষেত্রে আইসিসি নিজেদের তৈরি নিয়ম অনুসরণ করেনি। কোনোভাবেই তাসকিন নিষিদ্ধ হতে পারেন না।’
উল্লেখ্য, টি ২০ বিশ্বকাপের বাছাই পর্বে আম্পায়াররা পেসার তাসকিন ও স্পিনার আরাফাত সানির বোলিং অ্যাকশন সন্দেহজনক বলে আইসিসিতে রিপোর্ট করেন। এরপর তারা দু’জনেই চেন্নাইতে আইসিসি অনুমোদিত ল্যাবে বায়ো-মেকানিক্যাল পরীক্ষা দেন, যার ফল গতকাল শনিবার প্রকাশ করে আইসিসি। এতে তাসকিন এবং সানির বোলিং অ্যাকশন অবৈধ ঘোষণা করে তাদের সাময়িক নিষিদ্ধ করা হয়। ফলে দু’জনেরই টি ২০ বিশ্বকাপ শেষ হয়ে যায়।
আইসিসি তাদের ব্যাখ্যায় বলে, ‘আরাফাত সানির বেশিরভাগ বলে কনুই ১৫ ডিগ্রির বেশি বাঁকে’ এবং ‘তাসকিনের সব বল বৈধ নয়। তার বাউন্সারগুলোতে সমস্যা আছে।’
পরে আরাফাত সানির জায়গায় সাকলাইন সজীব এবং তাসকিন আহমেদের জায়গায় শুভাগত হোম শনিবার রাতের বিমানে ব্যাঙ্গালুর যান। রোববার সকালে তারা দলের সঙ্গে যোগ দিয়ে অনুশীলন করেছেন।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :