রাত ৪:৩২, সোমবার, ৩০শে এপ্রিল, ২০১৭ ইং
/ এশিয়া কাপ / ডট বলের নতুন রেকর্ড গড়লেন আমির
ডট বলের নতুন রেকর্ড গড়লেন আমির
মার্চ ১, ২০১৬

প্রথম ওভারে কোনো রান নেই। পরের ওভারে হলো মাত্র ১ রান। পরের ওভারেও মাত্র ১ রানই। তিন ওভার শেষে মোহাম্মদ আমিরের পরিসংখ্যান দাঁড়াল ৩-১-২-১। তাহলে কি টি-টোয়েন্টিতে সবচেয়ে কিপটে বোলিংয়ের রেকর্ড হয়ে যাবে? শেষ পর্যন্ত সেটা হয়নি, শেষ ওভারে ‘চা-র’ রান দিয়ে ফেলায় আমিরের বোলিং ফিগার হয়ে গেছে ৪-১-৬-২। তবে একটা কীর্তি আমির ঠিকই গড়ে ফেলেছেন। টি-টোয়েন্টিতে এক ইনিংসে সবচেয়ে বেশি ডট বল দেওয়ার রেকর্ডটা এখন তাঁরই।
আরব আমিরাতের বিপক্ষে আমিরের চার ওভারে মাত্র তিনটি বল থেকে রান হয়েছে। তার মানে, তাঁর ২১টি বল থেকে কোনো রানই নিতে পারেননি আমিরাতের ব্যাটসম্যানরা। টি-টোয়েন্টিতে এক ইনিংসে সবচেয়ে বেশি ডট বল দেওয়ার নতুন রেকর্ড এখন এটি। অন্তত চার ওভার বল করেছেন, এমন বোলারদের মধ্যে আমিরের চেয়েও কম রান দেওয়ার কীর্তি আছে। ২০১৪ সালে কলম্বোতে নেপালের বিপক্ষে হংকংয়ের বোলার আইজাজ খান ৪ ওভারে দিয়েছিলেন মাত্র ৪ রান। কিন্তু তাঁর ২৪টি ডেলিভারিতে ডট ছিল ২০টি।
টি-টোয়েন্টি প্রতিটি ডট বল সোনার চেয়েও দামি। পরিস্থিতি বিবেচনায় কখনো কখনো একটি ডট বলের মূল্য যেন উইকেটের চেয়েও বেশি। চার-ছক্কার এমন খেলায় বোলাররা হয়তো সৎ​ ছেলের অনাদরই পায়। কিন্তু অনাদরের ধুলো ঝেড়ে বোলাররা টি-টোয়েন্টিতেও দাপট দেখান বৈকি। শাসনে বাধ্য করেন ব্যাটসম্যানদের। ডট বল যেন তাদের সেই শাসনেরই চাবুক!
এক ইনিংসে ২০টি ডট বল দেওয়ার রেকর্ড আরও আছে। তার দুটি আবার একই ম্যাচেই। ২০০৮ সালে কানাডার বিপক্ষে জিম্বাবুয়ের ম্যাচে ক্রিস পোফু ও রেমন্ড প্রাইস ভীষণ কিপটে বোলিং করেছিলেন। দুজনেই ৪ ওভার করে দিয়েছিলেন ৬ রান করে। দুজন সেটি করেছিলেন ২০টি করে ডট বল। এক ইনিংসে ২০ ডট বলের কৃতিত্ব আছে আর একজনেরই। ২০১০ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়েস্ট ইন্ডিজ স্পিনার সুলেমান বেন ৪ ওভারে ৬ রান দিয়ে পেয়েছিলেন ৩ উইকেট। তাঁরও ২০টি বল থেকেও কোনো রান হয়নি।
টি-টোয়েন্টিতে ৪ ওভারে ৬ রান দেওয়ার ঘটনা আর আছে মাত্র দুটি। এর একটি বাংলাদেশের মনে থাকার কথা। ২০১০ সালে হ্যামিল্টনে নিউজিল্যান্ড স্পিনার ড্যানিয়েল ভেট্টোরি ৪ ওভারে ৬ রান দিয়ে পেয়েছিলেন ৩ উইকেট। তবে তাঁর ডট বল ছিল ১৮টি। আর জিম্বাবুয়ের স্পিনার প্রসপার উতসেয়াও ২০০৮ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে দিয়েছিলেন ১৯টি ডট বল।
আমিরের একটাই আক্ষেপ থাকতে পারে। এমন বোলিং করেও তাঁর কীর্তিটা রেকর্ড বইয়ে লেখা থাকবে না। ডট বলের জন্য সেভাবে আলাদা করে কোনো রেকর্ড কর্নারই যে নেই!



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :