রাত ৮:২৬, রবিবার, ২৮শে মে, ২০১৭ ইং
/ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ / ঝড় তুলতে আসছেন একঝাঁক গতি তারকা
ঝড় তুলতে আসছেন একঝাঁক গতি তারকা
মার্চ ১৩, ২০১৬

বাংলাদেশ যেন এখন পেস বোলারের খনি। একঝাঁক তরুণ পেসারের আগমণে যেভাবে সাফল্যের পতাকা ওড়াচ্ছে বাংলাদেশ, তাতে বিস্মিত পুরো ক্রিকেট বিস্ময়ই। এই বিস্ময় আরও বেশিকরে উপহার দিতে চায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। চিরাচরিত স্পিন নির্ভরতা কমিয়ে বাংলাদেশ এখন পেস বোলিং দিয়ে বিশ্ব ক্রিকেটের প্রশংসা কুড়িয়ে নিচ্ছে। মুস্তাফিজ, তাসকিন, আবু হায়দার রনির মত নবীনরা আজ সমীহ আদায় করে নিচ্ছেন বিশ্বসেরা ব্যাটসম্যানদের।

বিশ্বকে চমকে দিয়ে বাংলাদেশ তৈরী করছে আরও একঝাঁক গতি তারকা। মুস্তাফিজ-তাসকিনদের সঙ্গে এবার ঝড় তুলতে আসছেন তারাও। রবি ফাস্ট বোলার হান্ট ক্যাম্পেইন থেকে উঠে এসেছেন এই তরুণ তুর্কীরা। ১০জন গতিতারকা বাছাই করা হয়ে গেছে ইতিমধ্যে। এবার তাদের দেয়া হবে উচ্চতর প্রশিক্ষণ। অচিরেই দেখা যাবে মাঠ কাঁপিয়ে বেড়াচ্ছেন বাংলাদেশের নতুন ফাস্ট বোলাররা।

সারা দেশে দু’মাস ধরে চলা এ ক্যাম্পেইন থেকে কয়েক ধাপে চূড়ান্তভাবে উঠে আসা ১০জন তরুনের সঙ্গে রয়েছেন তিনজন তরুণীও। নতুন বাছাই করা ১০ গতি তারকা হচ্ছেন- এবাদত হোসেন, ইমরান আলী, নূর আলম সাদ্দাম, আরাফাত মিশু, এস খালিদ আহমেদ, শরিফুল ইসলাম, রাহি হোসেন প্রান্ত, শেখ নাজমুল হোসেন, মুজিবুর রহমান ও সুলতান হোসেন। আর তিনতরুণী- পূজা চক্রবর্তী, সুবহানা মুস্তারি এবং রুপা রয়। এছাড়াও শারিরীক প্রতিবন্ধীদের মধ্যে রয়েছেন দুই পেসার মোহাম্মদ মনির হোসেন ও গোলাম রাব্বানি।

বিসিবির হাই পারফরম্যান্স ইউনিটের (এইচপি) অধীনে এদের দেওয়া হবে বিশেষ প্রশিক্ষণ। এইচপির সঙ্গে যুক্ত করে ৪৫ দিনের প্রশিক্ষণ দেয়া হবে তরুণ গতি তারকাদের। যাতে জাতীয় পর্যায়ে উঠে আসতে পারেন তারা। এছাড়াও এই গতি তারকাদের উৎসাহ দিতে বৃত্তির ব্যাবস্থা করেছে পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান রবি। এরা প্রত্যেকেই প্রতি মাসে পাবেন পাঁচ হাজার টাকা করে। সঙ্গে মাস প্রতি এক হাজার টাকা মোবাইল বিল ও বছরে দু’বার পাবেন নতুন মডেলের মোবাইল সেট। তবে এই পেসাররা যদি প্রিমিয়ার লিগ, এনসিএল, বিপিএল ও জাতীয় দলে খেলার সুযোগ পান তাহলে এই বৃত্তির হার সর্বোচ্চ পাঁচ গুন বেড়ে যাবে।

বিসিবি এর আগেও একবার এ ধরনের পেসার হান্ট করেছিলো। যেখান থেকে উঠে এসেছেন রুবেল হোসেন, শফিউল ইসলামদেরমত পেসাররা। যারা জাতীয় দলের হয়ে খেলছেন। এ কারণে নতুন পেসারদের উৎসাহ দিতে মিরপুরের একাডেমী মাঠে উপস্থিত ছিলেন এ দুই তারকাও। নবীনদের উৎসাহ দিতে গিয়ে রুবেল বলেন, ‘আমি এই পেসার হান্টের মাধ্যমেই জাতীয় দলে এসেছি। তোমাদের জন্য আমার একটাই উপদেশ, অনেক পরিশ্রম করবে। পরিশ্রম করলে তোমরাও একদিন জাতীয় দলে খেলার সুযোগ পাবে।’

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ভাইস প্রেসিডেন্ট ও হাই পারফরম্যান্স বিভাগের চেয়ারম্যান মাহবুবুল আনাম বলেন, ‘ক্রিকেটের অগ্রগতিতে ট্যালেন্ট হান্ট একটি তাৎপর্যপূর্ণ উদ্যোগ। এখান থেকে পাওয়া খেলোয়াড়দের আমরা বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে থাকি। নতুন পাওয়া ক্রিকেটারদের এইচপি অধীনে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। বছরে কমপক্ষে ৪৫ দিন এদের নিয়ে ক্যাম্পেইন করা হবে। আশা করি এদের মাঝ থেকে আমরা আগামীদিনের মুস্তাফিজ, তাসকিন, আল-আমিনদের খুঁজে পাবো।’

অর্থপুরস্কার প্রদান প্রসঙ্গে মোবাইল ফোন অপারেটর রবি’র চিফ অপারেটিং অফিসার মাহতাব উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘এসব ফাস্ট বোলাররা যাতে হারিয়ে না যায় এ জন্য আমরা পাঁচ বছরের স্কিম দিচ্ছি। তবে যদি তারা খেলাধুলা অব্যহত না রাখে তাহলে এ সুযোগ আর পাবে না। আমরা সুযোগ দিচ্ছি। এ সুযোগ কাজে লাগানোর দায়িত্ব তরুণদেরই। তাদের মধ্যে রয়েছে অমিত সম্ভাবনা। এ জন্য তাদের ডিসিপ্লিনড হতে হবে। ফাস্ট বোলারদের ডিসিপ্লিনড থাকা খুব জরুরী।’



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :