রাত ১:৫৯, বৃহস্পতিবার, ১লা মার্চ, ২০১৭ ইং
/ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ / ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয় মাশরাফিদের
ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয় মাশরাফিদের
মার্চ ২০, ২০১৬

আইসিসি টি২০ বিশ্বকাপের ষষ্ঠ আসরে বাংলাদেশ দল সুপার টেনে তাদের দ্বিতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হবে অস্ট্রেলিয়ার। আর অস্ট্রেলিয়ার মতো দলকে মোটেও হালকা করে দেখার সুযোগ নেই। এই দু’দলই তাদের প্রথম ম্যাচে পরাজয়ের স্বীকার হয়েছে। তাই এই ম্যাচে দু’দলেরই জয়ের বিকল্প কিছু নেই। দু’দলই জয়ের জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করবে, এটাই স্বাভাবিক।

অন্যদিকে বাংলাদেশ ক্রিকেট অঙ্গনে ঝড় বয়ে যাচ্ছে। ঝড়ের কারণটা এখন আর কারো কাছে অজানা নয়। শনিবার আরাফাত সানির পর তাসকিন আহমেদকেও সাময়িক নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থা আইসিসি। সানিকে নিয়ে কিছুটা দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগলেও তাসকিনের ব্যাপারে বাংলাদেশ টিমের সকলেই নিশ্চিত ছিল ইতিবাচক ফলাফলের। তবে বাস্তবে তা হয়নি। আইসিসির খড়গের নিচে পড়তে হয়েছে তাসকিনকেও।

এমন গুরুত্বপূর্ণ একটি ম্যাচের আগে দলের নির্ভযোগ্য দুই বোলারের নিষেধাজ্ঞায় দলে কিছুটা হলেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। যদিও দলের সদস্যরা এটাকে খেলারই একটি অংশ হিসেবে দেখছেন। তবে আইসিসির এমন সিদ্ধান্তে অনেকের মনেই আক্ষেপের জন্ম নিয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে আইসিসির বোলিং অ্যাকশনের পরীক্ষার জন্য যে প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে তার বৈধতা নিয়েও।

বিবিসির একটি সূত্র থেকে জানা গিয়েছে, ১৫ মার্চের পরীক্ষায় তাসকিনকে ৩-৪ মিনিটের মধ্যে ৮-৯টি বাউন্সার দিতে বলা হয়। যার মধ্যে তিনটি বাউন্সারে ত্রুটি ধরা পড়ে। এই অল্প সময়ে এতগুলো বাউন্সার দিতে হলে এমন হওয়াটা স্বাভাবিক। মূলত এর ওপর ভিত্তি করেই তাসকিনকে অবৈধ ঘোষণা করেছে আইসিসি। আইসিসি সে দিনের ম্যাচের যে ডেলিভারি দেখে অভিযোগ ওঠায় সেই ডেলিভারির তো টেস্ট করানোরই কথা ছিল। কেননা নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে তাসকিন কোনো বাউন্সারই দেননি। এ ছাড়াও আইসিসির আরেকটি নিয়মের ক্ষেত্রে অনিয়ম করেছে। তা হলো শুধুমাত্র ‘স্টক ডেলিভারি’ ছাড়া অন্য কোনো ডেলিভারিতে কনুই ১৫ ডিগ্রির বেশি বাঁকা হলেও আইসিসি সেই বোলারকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে পারবে না। তবে ভবিষ্যতের জন্য সতর্ক করতে পারে।

সব কিছুকে দূরে সরিয়ে বাংলাদেশ দল সামনের ম্যাচের দিকেই মনোযোগ দিচ্ছে। কেননা বাংলাদেশ তাদের প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে পরাজিত হয়েছে। ফলে তাদের জন্য এই ম্যাচের গুরুত্ব অনেক। এই ম্যাচ দিয়েই ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয় দলের সবার মনে। এ ছাড়া কোচ হাথুরুসিংহে বলেই দিয়েছেন অস্ট্রেলিয়া দল অনেক অনেক ভালো খেলে। তাই তাদের মোকাবিলা করতে হলে সেরাটাই দিতে হবে। দলের সবাইকে সেই অনুযায়ীই বেঙ্গালুরুতে অনুশীলনে মনোনিবেশ করতেও দেখা গিয়েছে।

অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া তাদের প্রথম ম্যাচে পরাজিত হয়েছে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। প্রথম ম্যাচে হারের পর দুই দলই একটু চাপের মুখে আছে। এই ম্যাচে হারলে সেমিফাইনালে ওঠার স্বপ্নের বিসর্জন দিতে হবে।

অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ বেঙ্গালুরুতে বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়েই ঘুরে দাঁড়াতে চাইছে। তিনি বলেন, ‘বেঙ্গালুরুর ম্যাচেই আমাদের ঘুরে দাঁড়াতে হবে। আশা করি আমরা তা করতে পারব। আগের ম্যাচের ভুলগুলো থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে।’



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :